• অপরাধ বরিশাল
  • পটুয়াখালীর দশমিনায় পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে মাদ্রাসা ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগ

পটুয়াখালীর দশমিনায় পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে মাদ্রাসা ছাত্রীকে মারধরের অভিযোগ

প্রকাশিত: ২:৩৫ অপরাহ্ণ , ৯ ডিসেম্বর ২০২৫, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 6 months আগে
প্রতিকী ছবি

মোঃ রাকিবুজ্জামান দশমিনা পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার আউলিয়াপুর দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী মোসাম্মৎ সুমাইয়া ইসলাম (পিতা—রেজাউল সরদার) মাদ্রাসা থেকে বাড়ি ফেরার পথে মারধর ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) দুপুরে আউলিয়াপুর লঞ্চঘাট সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

সুমাইয়া পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার সময় ঐ মাদ্রাসারই এক ছাত্র ইমাম হোসেন ওরফে কালু, পিতা—নাসির হাওলাদার, তার ওপর হামলা চালায় বলে জানা যায়।

ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা এক প্রত্যক্ষদর্শী বিষয়টি দেখে এগিয়ে এলে অভিযুক্ত সুমাইয়াকে থাপ্পড় ও ধাক্কাধাক্কি করে বলে জানান তিনি।

ওই মাদ্রাসার আইসিটি শিক্ষক মোঃ সোহাগ মৃধা থেকে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত আছি। বিস্তারিত খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।”

মাদ্রাসার সুপার মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, “সকালে আমি মাদ্রাসা থেকে দশমিনা গিয়েছিলাম। দশমিনা থাকাকালীন মুঠোফোনে ঘটনাটি জানতে পারি। এর আগেও ইমাম হোসেনকে শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে একবার টিসি ( ছাড়পত্র) দেওয়া হয়েছিল, পরবর্তীতে অভিভাবকদের আবেদনে তাকে আবার সুযোগ দেওয়া হয়। এবার শিক্ষক পরিষদ ও এলাকাবাসীকে নিয়ে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্ত ইমাম হোসেন দীর্ঘদিন ধরে সহপাঠীদের উত্যক্ত করা, বিভিন্ন ছাত্রীকে কুপ্রস্তাব দেওয়া এবং নির্যাতনের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে আছে। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে এই ধরনের আচরণ চলতে থাকলে অভিভাবকরা সন্তানের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কায় পড়বেন।

অভিযোগের বিষয়টি অভিযুক্ত ইমাম হোসেন (কালুর)  মতামত নেওয়ার জন্য  তার বাড়িতে গেলে তার বাবা নাসির হাওলাদার ও তাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরিবারের সদস্যদের কাছে তার মুঠোফোন নম্বর চাইলে তারা বলেন সে মুঠোফোন ব্যবহার করে না।

তবে তার বড় ভাই মোহাম্মদ নাহিদ ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমি আপনাদের কাছে এইমাত্র শুনতে পারলাম। যদি সে অন্যায় করে থাকে, অবশ্যই তার বিচার হওয়া উচিত।”

প্রত্যক্ষদর্শী আরও জানান,“আমি রাস্তার পাশে গরু চরাচ্ছিলাম। হঠাৎ দেখি তিনজন মেয়ে এবং ইমাম হোসেনের মধ্যে তর্ক চলছে। তর্কের এক পর্যায়ে ইমাম হোসেন সুমাইয়াকে জোরে থাপ্পড় মারে।”

ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়রা দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে দশমিনা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ হাচনাইন পারভেজ বলেন, এবিষয় পরিবারের পক্ষ থেকে কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।