পাইকগাছায় জমিজমা বিরোধের কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

প্রকাশিত: ১:৫৪ অপরাহ্ণ , ১৩ আগস্ট ২০২৬, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

খুলনার পাইকগাছায় জমি-জমা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কুপিয়ে ও মারধর করে গুরুতর আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহতরা বর্তমানে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গতকাল বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের ফতেপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী আঃ ওহাব সানা ওই গ্রামের মো. আবুল সানার ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জমি-জমা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে পাশের গড়েরডাঙ্গা গ্রামের মো. ফেরদৌস মিস্ত্রী ও তাঁর দুই ছেলে উজ্জ্বল মিস্ত্রী ও মিথুন মিস্ত্রীর সঙ্গে আঃ ওহাব সানার দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার দিন বিকেলে ফেরদৌস মিস্ত্রী তাঁর দুই ছেলে উজ্জ্বল ও মিথুনকে নিয়ে আঃ ওহাব সানার বাড়িতে গিয়ে তাঁকে গালিগালাজ করেন।

ওহাব এর প্রতিবাদ করলে উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে ফেরদৌস, উজ্জ্বল ও মিথুন আঃ ওহাব সানার ওপর হামলা চালিয়ে তাঁকে মারধর করেন।

এ সময় স্বামীকে রক্ষা করতে তাঁর স্ত্রী তারাবানু এগিয়ে এলে তাঁকেও ধারালো দা দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তারাবানু রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে হামলাকারীরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন জানান তারা।

পরবর্তীতে স্থানীয় বাবুল সানা ও আবুল সানা আহত আঃ ওহাব সানা ও তাঁর স্ত্রী তারাবানুকে উদ্ধার করে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, তারাবানুর মাথার মাঝ বরাবর গুরুতর জখম হয়েছে এবং সেখানে ৮ থেকে ১০টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। এছাড়া আঃ ওহাব সানার শরীরের বিভিন্ন স্থানেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে তাঁরা দুজনই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. ফখরুদ্দিন আহমেদ বলেন, তারাবানুর মাথার মাঝ বরাবর প্রায় ৮ থেকে ১০টি সেলাই দেওয়া হয়েছে। ক্ষতটিও বেশ বড় ছিলো। তার শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সিটিস্ক্যান করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে ফেরদৌস মিস্ত্রীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আঃ ওহাবের সঙ্গে আমার জমিজমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে।

ঘটনার দিন বিকেলে আমরা জমিতে দেওয়া বেড়া সরাচ্ছিলাম। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দু’পক্ষের মারামারির একপর্যায়ে হয়তো ওহাবের স্ত্রীর মাথায় আঘাত লাগতে পারে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পাইকগাছা থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর