পানিবন্দি খাগড়াছড়ি, বিচ্ছিন্ন সাজেক; দুর্ভোগে হাজারো মানুষ

প্রকাশিত: ১০:০৯ পূর্বাহ্ণ , ৯ জুলাই ২০২৬, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

খাগড়াছড়ির পাহাড়ি জনপদে টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে নেমে এসেছে দুর্ভোগ। নদী-ছড়া উপচে পানি ঢুকেছে নিম্নাঞ্চলে, ডুবে গেছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এতে জেলার বিভিন্ন এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দীঘিনালা, সাজেক ও লংগদু সড়ক ব্যবহারকারী মানুষ এবং সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকরা।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সকাল পর্যন্ত চেঙ্গী ও মাইনী নদীর পানি বাড়তে থাকায় খাগড়াছড়ি সদর, দীঘিনালা ও মহালছড়ির বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। অনেক বসতবাড়ি, সড়ক ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রেখেছে।

সবচেয়ে বেশি সংকট তৈরি হয়েছে সড়ক যোগাযোগে। দীঘিনালা-সাজেক সড়কের কবাখালী, বাঘাইহাট, মাচালং ও সীমানাছড়া এলাকায় পানি ওঠায় সাজেকের সঙ্গে খাগড়াছড়ির সরাসরি যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। একইভাবে দীঘিনালা-লংগদু সড়কের বড় মেরুং, আটারকছড়া, তেঁতুলতলা ও স্টিল ব্রিজ এলাকায় পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি সড়কের মহালছড়ি উপজেলার চব্বিশ মাইল, মাইসছড়ি, কেরেঙ্গেনালা ও লিমুছড়ি এলাকাতেও পানি উঠে যাওয়ায় যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হওয়ায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকরা। কয়েক দিনের ছুটিতে সাজেকে যাওয়া অনেক পর্যটক ফিরতে পারছেন না। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সড়কের কয়েকটি অংশে এখনো পানির প্রবাহ থাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়নি।

দীঘিনালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিল পারভেজ বলেন, “সড়কের কয়েকটি অংশ এখনো পানির নিচে রয়েছে। বৃষ্টিপাত কমলে এবং পানি নেমে গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।”

এদিকে বন্যার পানিতে দীঘিনালা উপজেলার ৩৩ কেভি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রে পানি ঢুকে পড়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে বুধবার বিকেল থেকে দীঘিনালা ও সাজেক এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকায় হোটেল, রিসোর্ট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

দীঘিনালা বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী হিল্লোল বড়ুয়া বলেন, উপকেন্দ্রের ভেতরে পানি প্রবেশ করায় দুর্ঘটনা এড়াতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। পানি নেমে গেলে যন্ত্রপাতি পরীক্ষা শেষে সরবরাহ চালু করা হবে।

বন্যার পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বাড়ছে। মহালছড়ি-গুইমারা সড়কের সিন্দুকছড়িসহ বিভিন্ন এলাকায় ছোট আকারের পাহাড়ধসের খবর পাওয়া গেছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে অনুরোধ জানিয়েছে প্রশাসন।

খাগড়াছড়ি শহরের নিচের বাজার, বটতলী, মহিলা কলেজ এলাকা, টিটিসি, রাজ্যমনিপাড়া ও গঞ্জপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় পানি উঠেছে। পানিবন্দি অনেক পরিবার গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে ছুটছে।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলা প্রশাসন কমলছড়ি ইউনিয়নের ইটছড়ি ও বেতছড়ি মারমা পাড়ার ৩৮টি পানিবন্দি পরিবারের মধ্যে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে। তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে মাইকিংয়ের মাধ্যমে আহ্বান জানানো হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত বলেন, “পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় ১৩৫টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। দুর্গত মানুষের জন্য খাবারসহ প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”

প্রশাসন জানিয়েছে, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি পাহাড়ধসের ঝুঁকিও বাড়তে পারে। তাই দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর