• খুলনা দেশজুড়ে
  • পুলিশ-বিজিবি’র কড়া নিরাপত্তা ভেদ করতে পারেনি ছাত্র-জনতার “লং মার্চ টু বর্ডার”

পুলিশ-বিজিবি’র কড়া নিরাপত্তা ভেদ করতে পারেনি ছাত্র-জনতার “লং মার্চ টু বর্ডার”

প্রকাশিত: ১০:৪১ পূর্বাহ্ণ , ১৯ ডিসেম্বর ২০২৫, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 6 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

মো. সাহিদুল ইসলাম শাহীনঃ-জুলাই-আগষ্ট/২০২৪ এ গণঅভ্যুত্থান আন্দোলনের সম্মুখ সারির যোদ্ধা শরিফ ওসমান হাদি কে পরিকল্পিতভাবে হত্যা, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতা এবং ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে বেনাপোলে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ মিছিল ও ভারত অভিমূখে “লং মার্চ টু বর্ডার” অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার(১৯ ডিসেম্বর) সকাল ১০টার দিকে বেনাপোল কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সম্মুখ হতে ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ মিছিল ও লং মার্চ অনুষ্ঠিত হয়। এতে নেতৃত্ব দেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বেনাপোল-শার্শায় নেতৃত্ব দানকারী বেনাপোল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল মান্নান।

বিক্ষো্হভ মিছিলটি বেনাপোল শহর প্রদক্ষিণ শেষে ভারত অভিমূখে (“লং মার্চ টু বর্ডার”) রওয়ানা হয়। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ফ্যাসিস্ট হাসিনা এবং ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মারমূখি শ্লোগান দিতে থাকে। “ইনকিলাব ইনকিলাব,জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ”,”ভারতীয় আগ্রাসন জ্বালিয়ে দাও,পুড়িয়ে দাও”,”ফ্যাসিস্ট হাসিনার গালে,জুতা মারো তালে”,”খুনীলীগের বিরুদ্ধে,ডাইরেক্ট এ্যাকশন”,”দালালের বিরুদ্ধে,ডাইরেক্ট এ্যাকশন”,”এ্যাকশন টু এ্যাকশন,ডাইরেক্ট এ্যাকশন, হাদি ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে দেব না।

“লং মার্চ টু বর্ডার” বিক্ষোভ মিছিলটি বেনাপোল বাজার হতে প্রায় আধা কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে ভারত অভিমূখি বেনাপোল চেকপোষ্টে পৌছালে সেখানে আইন শৃঙ্খলা বাহীনি পুলিশ এবং সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ(৪৯ বিজিবি)’র বাধা’র সম্মুখীন হয়।

বিক্ষোভকারীরা পুলিশ,বিজিবি’র বাধা অতিক্রম করতে চাইলে,আগে থেকেই সেখানে প্রস্তুত থাকা বেনাপোল পোর্টথানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ(ওসি) মো.আশরাফ হোসেন ও তার পুলিশ দল এবং চেকপোষ্টের আইসিপি ক্যাম্পের কমান্ডার মো.মিজানুর রহমান ও তার বিজিবি সদস্যের সাথে ধাক্কা-ধাক্কি এবং বাকবিতন্ডা হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পুলিশ-বিজিবি তাদের সকল প্রকার কৌশল অবলম্বন করে। অবশেষে বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করতে না পেরে চেকপোষ্টে অবস্থিত প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের সামনে বিক্ষোভ করতে থাকে।

এসময় বিক্ষোভকারীরা ভারতে পলাতক ফ্যাসিষ্ট হাসিনা এবং শহীদ শরিফ ওসমান হাদি’র খুনীদের অনতিবিলম্বে হস্তান্তর করার জন্য ভারত বিরোধী বিভিন্ন শ্লোগাণ ও বক্তব্য দিতে থাকে।

বিক্ষোভ কর্মসূচীতে আরও যারা নেতৃত্বে ছিলেন-
আসাদুল্লাহ আল গালিব
(আহ্বায়ক বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বেনাপোল),সাজেদুর রহমান শিপু(সদস্য সচিব,
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বেনাপোল),
নাইমুর রহমান(মূখ্য সংগঠক,
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, বেনাপোল),
রেজোয়ান হোসেন আকাশ(যুগ্ম সদস্য সচিব,
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন, যশোর),
মুশফিকুর রহমান সাকিব(জুলাই যোদ্ধা,
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়),আবু সাঈদ(জুলাই যোদ্ধা,
যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়),মাহাদী হাসান(সভাপতি, বেনাপোল থানা ইসলামী ছাত্র শিবির),জাহিদ হাসান(প্রচার সম্পাদক, বেনাপোল থানা,ইসলামি ছাত্র শিবির),রাকিবুল হাসান রিফাত(
৫ নংওয়ার্ড সভাপতি,বেনাপোল ছাত্রদল), মুরাদ-উদ-দৌলা(এম পি পদপ্রার্থী,এন সি পি
শার্শা- ৩ আসন),রাসেল মাহমুদ(যুগ্ম আহ্বায়ক,
জাতীয় যুব শক্তি,যশোর)।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, সব প্রচেষ্টাকে ব্যর্থ করে না ফেরার দেশে চলে গেছেন আধিপত্যবাদবিরোধী প্লাটফর্ম ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি। সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হয়ে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্মুখসারির যোদ্ধা ওসমান হাদি ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ গড়ে তুলে ভারতীয় আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে আলোচনায় আসেন।

বিভিন্ন টেলিভিশনের টক শোতেও নিয়মিত আমন্ত্রণ পেতে থাকেন তিনি। তার যুক্তিতর্কের অনেক ক্লিপ সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়। তিনি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাতে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা জানান, আগামী শনিবার (২০ ডিসেম্বর) একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক পালন করা হবে।