ফেনীর দাগনভূঞায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার তুঙ্গে: এখনই রুখে দাঁড়ানোর সময়

প্রকাশিত: ২:৪০ অপরাহ্ণ , ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 month আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

ফেনীর দাগনভূঞায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমকে কেন্দ্র করে অপপ্রচার, গুজব, চরিত্রহনন ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। বিষয়টি এখন আর নিছক ফেসবুকের কিছু পোস্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ এবং সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ব্যক্তিগত বিরোধ মেটাতে, একে অপরকে সামাজিকভাবে হেয় করতে, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার ফায়দা লুটতে এবং নিজেদের স্বার্থ হাসিল করতে কেউ কেউ ফেসবুককে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন। যাচাই-বাছাই ছাড়াই কোনো অভিযোগ, ছবি, ভিডিও কিংবা মনগড়া তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই অপপ্রচার ছড়িয়ে পড়ছে শত শত মানুষের কাছে।

একজন গণমাধ্যম কর্মী হিসেবে স্পষ্ট করে বলতে চাই, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কারও ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জায়গা নয়। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার যথাযথ আইনগত ও প্রশাসনিক পথ রয়েছে। ফেসবুকে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করা, সম্মানহানি করা কিংবা জনমনে উত্তেজনা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, অনেকে সত্য-মিথ্যা যাচাই না করেই এসব পোস্টে মন্তব্য করছেন, শেয়ার করছেন এবং গুজবকে আরও ছড়িয়ে দিচ্ছেন। মনে রাখতে হবে, একটি মিথ্যা পোস্টের দায় শুধু যে ব্যক্তি তৈরি করেছেন তার নয়, জেনেশুনে সেটি ছড়িয়ে দেওয়ার দায়ও কম নয়।

আমি মনে করি, এখনই সময় এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সামাজিকভাবে সচেতন হওয়ার এবং আইনগতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অনুরোধ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব, অপপ্রচার, মানহানিকর বক্তব্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে নজরে আনুন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে।

কাউকে পছন্দ না হলেই তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানোর অধিকার কারও নেই।রাজনৈতিক মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে, কিন্তু মিথ্যাচার ও চরিত্রহনন কোনো রাজনৈতিক অধিকার নয়।ব্যক্তিগত বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু তার দায় সমাজের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।

আজ যে ব্যক্তি অন্যের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচারের শিকার হচ্ছেন, কাল সেই জায়গায় আপনিও থাকতে পারেন।

তাই আসুন, অপপ্রচারকারীদের উৎসাহ না দিয়ে তাদের অপপ্রচারকে সামাজিকভাবে প্রত্যাখ্যান করি। কোনো তথ্য শেয়ার করার আগে যাচাই করি। মিথ্যা তথ্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করি।

প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পথ বেছে নিই। দাগনভূঞার মানুষ গুজব ও অপপ্রচার নয়, সত্য ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ চায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোক সত্য প্রকাশের মাধ্যম, প্রতিহিংসার অস্ত্র নয়।

একজন সচেতন নাগরিক ও গণমাধ্যমকর্মী——-!

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর