• দেশজুড়ে প্রধান সংবাদ
  • বন্দরে সেবার মান বৃদ্ধি ও শ্রমিকদের পেশাগত নিরাপত্তায় স্থলবন্দর চেয়ারম্যানের জিরো টলারেন্স ঘোষনা

বন্দরে সেবার মান বৃদ্ধি ও শ্রমিকদের পেশাগত নিরাপত্তায় স্থলবন্দর চেয়ারম্যানের জিরো টলারেন্স ঘোষনা

প্রকাশিত: ১২:৪৮ অপরাহ্ণ , ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 weeks আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

মো. সাহিদুল ইসলাম শাহীন:- দেশের প্রধান ও বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলের পরিচালন ব্যবস্থা বেগবান, বাণিজ্য জট নিরসন এবং আমদানিকারক-রপ্তানিকারকদের সেবা নিশ্চিত করতে বেনাপোল স্থলবন্দর পরিদর্শনে এসেছেন বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মানজারুল মান্নান।

আজ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিনি বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ড, শেড, কার্গো ভেহিক্যাল টার্মিনাল ও ডিপিএম এলাকা ঘুরে দেখেন এবং স্থলবন্দরের আধুনিকায়নে একাধিক নতুন নির্দেশনা ঘোষণা করেন।

​পরিদর্শনকালে চেয়ারম্যান বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী, সিএন্ডএফ এজেন্ট প্রতিনিধি এবং বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিকদের সাথে সরাসরি কথা বলেন ও তাঁদের সমস্যাগুলো শোনেন।

​বন্দরকে আরও উন্নত ও গতিশীল করতে চেয়ারম্যানের প্রদত্ত দিকনির্দেশনা:
​১. পণ্যজট নিরসন ও দ্রুত খালাস: বন্দরে আমদানিকৃত পণ্যের দীর্ঘসূত্রিতা ও জট কমাতে দ্রুততম সময়ে ডিজিটাল ট্র্যাকিং ও দ্রুত শুল্কায়ন প্রক্রিয়া সমন্বয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২. অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শেড সম্প্রসারণ: ক্রেন, ফোর্কলিফ্টসহ ভারী মালামাল ওঠানামার যন্ত্রপাতি দ্রুত সচল করা ও উন্নতমানের ইয়ার্ড ব্যবস্থাপনার নকশা পর্যালোচনা করা হয়।
৩. জনবল সংকট দূরীকরণ: বন্দরে বর্তমানে চলমান জনবল সংকট নিরসনে দ্রুত নিয়োগ ও শূন্য পদ পূরণের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
৪. ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন: এনবিআর ও বন্দরের সেবাগুলোকে পুরোপুরি পেপারলেস এবং অটোমেটেড করতে দ্রুত প্রযুক্তিগত অবকাঠামো জোরদারের আশ্বাস দেন তিনি।
৫. নিরাপত্তা ও সিসিটিভি নজরদারি: শেড ও ইয়ার্ডের সার্বিক নিরাপত্তা বাড়াতে পুরো বন্দর এলাকা কঠোর সিসিটিভি নজরদারির আওতায় রাখা এবং সার্বক্ষণিক ভিজিল্যান্স টিম সক্রিয় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শ্রমিকদের কল্যাণে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ও আশ্বাস: ​বন্দর পরিচালনায় শ্রমিকদের ভূমিকাকে মূল চালিকাশক্তি উল্লেখ করে চেয়ারম্যান শ্রম কল্যাণমূলক বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি দেন:

​নিরাপত্তা সরঞ্জাম (PPE) প্রদান: বন্দরে ঝুঁকিপূর্ণ মালামাল হ্যান্ডলিংয়ে শ্রমিকদের সুরক্ষায় হেলমেট, সেফটি জুতা, গ্লাভস এবং সেফটি জ্যাকেট বাধ্যতামূলক ও পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়।

মজুরি ও কল্যাণ ফান্ড পর্যালোচনা: শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি সময়মতো পরিশোধ এবং শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের সুবিধা দ্রুত ও স্বচ্ছতার সাথে পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করা হয়।

​বিশ্রামাগার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা: কায়িক পরিশ্রমে যুক্ত হাজার হাজার হ্যান্ডলিং শ্রমিকের জন্য উন্নত বিশ্রামাগার, পর্যাপ্ত শৌচাগার এবং বিশুদ্ধ সুপেয় পানির সুব্যবস্থা নিশ্চিতের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

​চিকিৎসা ও আকস্মিক দুর্ঘটনায় সহায়তা: ডিউটিরত অবস্থায় কোনো শ্রমিক দুর্ঘটনায় পতিত হলে বন্দর কর্তৃপক্ষের তহবিল ও শ্রম কল্যাণ থেকে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়।

​পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “বেনাপোল বন্দর দেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি। বাণিজ্য সহজীকরণ, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং বন্দরের শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ উন্নত করতে যা যা প্রয়োজন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা বাস্তবায়ন করা হবে।”

বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মানজারুল মান্নানের প্রতিশ্রুতি ও পরিদর্শনকে স্বাগত জানিয়ে বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন-৯২৫’এর সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদ আলী’ বলেন, ​”আজ আমাদের বেনাপোল স্থলবন্দরে বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সম্মানিত চেয়ারম্যান মো. মানজারুল ইসলাম মান্না মহোদয়ের আগমন এবং বন্দরের প্রতিটি ইয়ার্ড ঘুরে দেখার জন্য আমরা বেনাপোলের সর্বস্তরের শ্রমিকদের পক্ষ থেকে তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।

​বন্দরের মূল চালিকাশক্তি হলো আমাদের মেহনতি শ্রমিক ভাইয়েরা। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে দিনরাত পরিশ্রম করে আমরা দেশের রাজস্ব আয় বাড়াতে অবদান রাখি। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে নিরাপদ কর্ম পরিবেশ, স্বাস্থ্যসুরক্ষা সরঞ্জাম এবং বিশ্রামাগারের অভাবে শ্রমিকদের নানা কষ্ট পোহাতে হচ্ছিল।

চেয়ারম্যান মহোদয় আজ নিজে উপস্থিত হয়ে শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসুরক্ষা সরঞ্জাম (PPE), সেফটি জুতা, হেলমেট প্রদান এবং বিশুদ্ধ খাবার পানি ও বিশ্রামাগার তৈরির যে আশ্বাস দিয়েছেন, তাতে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও আশান্বিত। এর পাশাপাশি যেকোনো দুর্ঘটনায় দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের যে ঘোষণা তিনি দিয়েছেন, তা আমাদের কাজের উৎসাহ বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

​আমরা বিশ্বাস করি, তাঁর এই সময়োপযোগী ও আন্তরিক পদক্ষেপে বেনাপোল স্থলবন্দর যেমন আরও আধুনিক ও গতিশীল হবে, তেমনি শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দুঃখ-কষ্টের অবসান ঘটবে। আমরা শ্রমিক ভাইয়েরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, বন্দরের সেবার মান বাড়াতে এবং বাণিজ্য কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে আমরা সবসময় প্রশাসনের পাশে থেকে সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সাথে কাজ করে যাব।”

পরিদর্শনের সময় বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তাদের মধ্যে ঢাকা তত্ত্ববোধক হাসান আলী,বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক রুহুল আমিন হাওলাদার, চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব আনিসুল হক, সহকারী পরিচালক পার্থ ঘোষ, আব্দুল হান্নান ও সঞ্জয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বেনাপোল স্থলবন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন ৯২৫-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তবিবুর রহমান তবি সহ বন্দরের সংশ্লিষ্ট শ্রমিক প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর