বেনাপোলে অস্ত্রের মুখে শ্রমিক নেতাকে জিম্মি করে মিথ্যা বক্তব্য আদায়

প্রকাশিত: ৬:১৭ পূর্বাহ্ণ , ১১ জুলাই ২০২৬, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

মো.সাহিদুল ইসলাম শাহীন:- বেনাপোল স্থলবন্দরে শ্রমিক ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে গভীর রাতে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর ভিডিও ধারণের এক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

গত ১০ জুলাই ২০২৬ ইং তারিখে বেনাপোল বন্দর হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন (রেজিঃ নং-৯২৫) এর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী ও সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম নিজে উপস্থিত হয়ে এই ভয়ংকর সত্য ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন।

​সংবাদ সম্মেলনে ঘি রঙের শার্ট পরিহিত রফিকুল ইসলাম অত্যন্ত অকপটে স্বীকার করেন যে, সম্প্রতি বন্দর অভ্যন্তরে ঘটে যাওয়া একটি চুরির ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমান কমিটিকে হেনস্থা করার জন্য সংগঠনের সাবেক সভাপতি আসাদুল এবং সাবেক সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বাধীন একটি সন্ত্রাসী দল গভীর রাতে দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে তার বাড়িতে হানা দেয়।

সন্ত্রাসীরা তাকে ঘর থেকে বের করে মাথায় অস্ত্র ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। জীবন বাঁচানোর তাগিদে এবং চরম ভীতিকর পরিস্থিতিতে তিনি বর্তমান সভাপতি তবিবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদ আলী এবং তার জামাতা শার্শা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. শহিদুল ইসলামসহ সংগঠনের নির্বাহী সদস্যদের নাম বলতে বাধ্য হন।

পরবর্তীতে আসাদুল বাহিনী সেই ধারণকৃত ভিডিওটি “crime news bd” নামক একটি ফেক ফেসবুক পেজে প্রচার করে বর্তমান নেতৃবৃন্দকে সামাজিক ও সাংগঠনিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে।

​রফিকুল ইসলাম দৃঢ়তার সাথে স্পষ্ট করেন, “সেদিন রাতে আমি যা বলেছি তা স্রেফ প্রাণের ভয়ে এবং অস্ত্রের মুখে বলতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের বর্তমান সভাপতি তবিবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সহিদ আলী কিংবা ইউনিয়নের কোনো নেতাই চুরির এই ঘটনার সাথে মোটেও জড়িত নন।

তারা এই বিষয়ে কিছুই জানতেন না। তিনি স্পষ্ট করেন যে, তাদের ইউনিয়নের কোনো লোকই এই ঘটনার সাথে জড়িত নয় এবং পূর্বের বক্তব্যটি তিনি স্রেফ প্রাণের ভয়ে এবং অস্ত্রের মুখে দিতে বাধ্য হয়েছিলেন।”

​এদিকে এই মানহানিকর পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে এবং ফেসবুকের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে তীব্র নিন্দা জানিয়ে হ্যান্ডলিং শ্রমিক ইউনিয়ন-৯২৫ এর সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদ আলী বেনাপোল পোর্ট থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-৩৭৩, তারিখ: ০৯/০৭/২০২৬) দায়ের করেছেন।

​সংবাদ সম্মেলন শেষে সাধারণ সম্পাদক মো. সহিদ আলী সাংবাদিকদের বলেন, একটি বিশেষ স্বার্থান্বেষী ও ষড়যন্ত্রকারী চক্র দীর্ঘদিন ধরে বেনাপোল স্থলবন্দরকে অশান্ত করতে এবং এর সুনাম ক্ষুণ্ন করতে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে নানাবিধ মিথ্যা তথ্য ও প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে।

তিনি উল্লেখ করেন, গত দুই বছর ধরে বন্দরে কোনো রকমের বিশৃঙ্খলা ছাড়াই অত্যন্ত সুন্দর ও স্বাভাবিকভাবে কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। কোনো শ্রমিকের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অনিয়ম বা চুরির প্রমাণ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তাকে বরখাস্ত করাসহ কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এই অনবরত মিথ্যা প্রোপাগান্ডা এবং অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ হিসেবে তিনি ইতিমধ্যেই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন।

পরিশেষে, তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি জোর দাবি জানান যেন দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে এই ষড়যন্ত্রকারী ও ভুয়া আইডি পরিচালনাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হয়।

​বেনাপোল পোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আশরাফ হোসেন এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে শ্রমিক নেতাদের জানিয়েছেন যে, এই ফেক ফেসবুক আইডির নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের এবং গভীর রাতের হামলাকারীদের দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

হ্যান্ডলিং শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ শ্রমিকরা এই চক্রের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর