সুমাইয়ার মাথায় হাত বুলিয়ে

ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব নিলেন নেত্রকোণা-৩ আসনের এমপি হিলালী

প্রকাশিত: ৬:৪৭ পূর্বাহ্ণ , ১৬ আগস্ট ২০২৬, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

মজিবুর রহমান,নেত্রকোণা : এক হাতে সংসারের অভাব, অন্য হাতে স্বপ্ন। বই-খাতা কেনার সামর্থ্য ছিল না, ছিল না নিশ্চিন্ত ভবিষ্যতের নিশ্চয়তাও। তবু দারিদ্র্যকে সঙ্গী করেই পড়াশোনার লড়াই চালিয়ে গেছে সুমাইয়া আক্তার।

সেই লড়াইয়ের পুরস্কার হিসেবে এবার এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠের এই মেধাবী ছাত্রী।

কিন্তু জিপিএ-৫ পাওয়ার পরও সুমাইয়ার সামনে ছিল অনিশ্চয়তা—কীভাবে চলবে তার পরবর্তী পড়াশোনা? সুমাইয়ার বাবা সাইফুল ইসলাম একজন দরিদ্র কৃষিশ্রমিক। মা আকলিমা আক্তার গৃহিণী। অভাবের সংসারে মেয়ের প্রয়োজনীয় বই, খাতা, কলম ও অন্যান্য শিক্ষা উপকরণ জোগাড় করাই ছিল কঠিন। তবুও থেমে থাকেনি সুমাইয়া।

অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর পড়াশোনার প্রতি ভালোবাসাকে পুঁজি করে সে এগিয়ে গেছে। গতকাল শনিবার বিকেলে নেত্রকোণা-৩ আসনের সংসদ সদস্য ড. রফিকুল ইসলাম হিলালীর উদ্যোগে শতভাগ পাসের কৃতিত্ব অর্জন করায় শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠের সকল শিক্ষক-কর্মচারী ও ৩৬ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে সুমাইয়ার সংগ্রামের কথা জানতে পারেন এমপি হিলালী। এরপরই যেন গল্পের মোড় বদলে যায়। অনুষ্ঠান মঞ্চ থেকে নেমে এসে সবার সামনে সুমাইয়ার মাথায় স্নেহের হাত রেখে এমপি ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী ঘোষণা দেন, সুমাইয়ার ভবিষ্যৎ পড়াশোনার দায়িত্ব তিনি নিজ হাতে তুলে নিচ্ছেন।

যতদূর পড়াশোনা করতে চায় সুমাইয়া, সামর্থ্য অনুযায়ী ততদূর পর্যন্ত তার পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সুমাইয়ার গল্প তাই শুধু একজন দরিদ্র পরিবারের মেধাবী মেয়ের জিপিএ-৫ পাওয়ার গল্প নয়, এটি প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখার গল্প। আর সেই স্বপ্নের পাশে দাঁড়িয়ে এমপি হিলালীর দেওয়া আশ্বাস সুমাইয়ার সামনে খুলে দিয়েছে নতুন সম্ভাবনার দরজা।

এসময় আবেগাপ্লুত হয়ে সুমাইয়া আক্তার বলেন, এমপি স্যারের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। স্যারের আশ্বাসে আমার স্বপ্ন পূরণে আরও সাহস ও মনোবল বেড়েছে। সবার কাছে দোয়া চাই।

শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান বলেন, সুমাইয়া আক্তারের পরিবার খুবই দরিদ্র। তার লেখাপড়া চালিয়ে যেতে আমরা সবসময় আন্তরিক ছিলাম। সুমাইয়া খুবই মেধাবী মেয়ে। তার পাশে দাঁড়িয়েছেন এমপি মহোদয়। এজন্য স্যারের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।

এমপি ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী বলেন, সুমাইয়া যেহেতু লেখাপড়া করতে চায়, কিন্তু তার বাবার সেই সামর্থ্য নেই, তাই সে যতদূর যেতে চায়, আমার সহযোগিতা ও সহমর্মিতা ততদূর থাকবে।

তিনি আরও বলেন, সুবিধাবঞ্চিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো শুধু ব্যক্তিগত উদ্যোগ নয়, এটি সমাজের সবার দায়িত্ব। এ ধরনের দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী দাঁড়ানোর জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

তবে সুমাইয়ার পাশে দাঁড়ানোর মধ্যেই নিজের উদ্যোগ সীমাবদ্ধ রাখেননি এমপি হিলালী। শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠকে উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কলেজে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

দূর-দূরান্ত থেকে আসা শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধার জন্য হোস্টেল নির্মাণ, খেলার মাঠ সংস্কার ও খেলাধুলার সরঞ্জাম সরবরাহের আশ্বাস দেন।

এ ছাড়া বিদ্যালয়ে যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দ্রুত পাকা করার উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর