মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে ৯টি ওয়ার্ড বিএনপি’র সংবাদ সন্মেলন

প্রকাশিত: ২:১৬ অপরাহ্ণ , ৭ জুন ২০২৬, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

মো.সাহিদুল ইসলাম শাহীন:- বেনাপোল পৌরসভার ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইসরাফিল সরদার, তাঁর ছেলে ও ভাতিজাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা দায়েরের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ রবিবার (৭ জুন) বিকাল ৫:০০ টায় বেনাপোল পৌরসভার ছোট আঁচড়া এলাকায় অবস্থিত ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে বেনাপোল পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দের যৌথ আয়োজনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

​সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ৮নং বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক-আব্দুস সবুর। লিখিত বক্তব্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়, একটি বিশেষ মহল রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এই মিথ্যা মামলা দায়ের করে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে নেতৃবৃন্দ জানান, ঘটনার দিন বিকেলে ইসরাফিল সরদারের ছেলে ও ভাতিজারা ব্যক্তিগত একটি বিষয় নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অফিসে গেলেও সেখানে কাউকে না পেয়ে ফিরে আসে। কিন্তু পরবর্তীতে রাতের একটি হামলা ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় সম্পূর্ণ রহস্যজনক ও প্রশ্নবিদ্ধভাবে তাদের নাম জড়ানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে বিভিন্ন সড়ক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপিত রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যদি নিরপেক্ষভাবে সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের লোকেশন এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত তথ্য যাচাই-বাছাই করে, তবে প্রকৃত ঘটনা এবং আসল অপরাধীদের পরিচয় অনায়াসেই বেরিয়ে আসবে।

​ আমরা চাই আইন নিজের গতিতে চলুক এবং প্রকৃত অপরাধী যেই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। তবে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার শিকার না হন, সেটিও প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে।

​সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রশাসনের নিকট ৪ দফা জোর দাবি জানানো হয়:
১। ঘটনাটির সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করতে হবে।
২। সিসিটিভি ফুটেজ ও ডিজিটাল তথ্য-উপাত্ত সঠিকভাবে যাচাই করতে হবে।
৩। প্রকৃত অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে হবে।
৪। নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানিমূলক মামলা থেকে অবিলম্বে অব্যাহতি দিতে হবে।

সংবাদ সন্মেলনে আরো বলা হয়,,রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক বিরোধকে কেন্দ্র করে একটি মহল নেপথ্যে থেকে বেনাপোল পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ড,বড়আঁচড়া গ্রাম নিবাসী মো. সোহাগ আলী,পিতা-মৃত হায়দার আলীকে দিয়ে বেনাপোল পোর্টথানায় একটি মিথ্যা এজাহার দায়ের করে।

এজাহারে যে ধরণের “সশস্ত্র হামলা, গুলিবর্ষণ ও প্রাণনাশের হুমকি”র কথা উল্লেখ করা হয়েছে—বাস্তবে তেমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। রাজনৈতিকভাবে জনপ্রিয় ৮নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ইসরাফিল সরদার ও তার পরিবারের সুনাম ক্ষুণ্ন করতেই এই চক্রান্ত।

আব্দুস সবুর আশা প্রকাশ করেন যে, প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হবে এবং এলাকায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হবে। সংবাদ সম্মেলনে বেনাপোল পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ স্থানীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এবং বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে,​কুতুবুদ্দিন আশার পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে: ​”আমাদের রাজনৈতিক ও সামাজিক অবস্থান ধ্বংস করার জন্য সম্পূর্ণ কাল্পনিক একটি গল্প সাজিয়ে থানায় এই এজাহার দেওয়া হয়েছে। তথাকথিত গুলিবর্ষণ বা হামলার সাথে আমাদের কোনো দূরতম সম্পর্কও নেই। আমরা এই মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।”

​​এলাকাবাসী ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এই মিথ্যা মামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যেন কোনো কুচক্রী মহলের ইন্ধনে নিরপরাধ ব্যক্তিরা হয়রানির শিকার না হন।

তারা বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি এই ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান, যাতে প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটিত হয় এবং মিথ্যা তথ্য প্রদানকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর