• ঢাকা দেশজুড়ে
  • রাজবাড়ীতে হত্যা মামলায় স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিককে যাবজ্জীবন কারাদন্ড

রাজবাড়ীতে হত্যা মামলায় স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিককে যাবজ্জীবন কারাদন্ড

প্রকাশিত: ১:১৪ অপরাহ্ণ , ৮ এপ্রিল ২০২৫, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন

মাসুদ রেজা শিশির: রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলাধীন সাতবাড়ীয়া এলাকায় চাঞ্চল্যকর কুদ্দুস আলী মন্ডল (৪২) হত্যা মামলায় স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমিক মোঃ রিয়াজুল সেখ ওরফে তোজামকে বাংলাদেশ দন্ডবিধি আইনের ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদন্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদন্ড দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার অপরাহ্নে রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ মোসাম্মৎ জাকিয়া পারভিন এ রায় ও দন্ডাদেশ প্রদান করেন। একই সাথে আদালত এই মামলার চার্জশীটভূক্ত অপর ২ আসামী মৃত কুদ্দুসের স্ত্রী বন্যা খাতুন ও প্রতিবেশী মোঃ আলাউদ্দীন সেখ এর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাদের দু’জনকে বেকসুর খালাস প্রদান করেছে।

মামলা সূত্রে প্রকাশ, কুদ্দুস বিভিন্ন ফাস্ট ফুডের দোকানে পানি ও মালামাল সরবরাহ করত। গত ২০১৩ সালে ২৯ জানুয়ারী সকাল ৯ টার দিকে সে বাড়ী থেকে বের হয়। এরপর ওই দিন আর বাড়ী ফিরে না আসায় কুদ্দুসের মা সহ অন্যান্যরা খোজাখুজি করে। পরে একইদিন রাত ২ টার সময় পাংশার যশাই ইউনিয়নের ধোপাকেল্লা গ্রামের ফাঁকা মাঠের মধ্যে তার রক্তাক্ত লাশ পাওয়া যায়।

লাশের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহ্ন থেকে পরিবারের সদস্যরা এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড হিসেবে নিশ্চিত হয়। এ ঘটনায় মৃতক কুদ্দুসের মা মোছাঃ রাবেয়া খাতুন বাদী হয়ে পাংশা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এতে কুদ্দুসের স্ত্রী বন্যা খাতুন ও তার পরকীয়া প্রেমিক মোঃ রেজাউল সেখ ওরফে রিয়াজুল সেখ তোজাম জড়িত থাকতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে উক্ত মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতে কুদ্দুসের স্ত্রী বন্যা খাতুন ও তার পরকীয়া প্রেমিক মোঃ রেজাউল সেখ ওরফে রিয়াজুল সেখ তোজাম এবং প্রতিবেশী মোঃ আলাউদ্দিন সেখকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশীট দাখিল করে। আদালত উল্লেখিত মামলায় ২৪ জন স্বাক্ষীর স্বাক্ষ্য গ্রহণ করে।

এ মামলায় স্বাক্ষীদের প্রদত্ত বক্তব্য ও হত্যাকান্ডের ঘটনায় হত্যাকান্ডের সাথে রিয়াজুল সেখ তোজাম (৫২) এর সম্পৃক্ততার বিষয়টি সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত হওয়ায় আদালত তোজামকে উল্লেখিত সাজা প্রদান করেন। একই সাথে বাংলাদেশ দন্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত না হওয়ায় মৃতকের স্ত্রী বন্যা খাতুন (৪০) ও প্রতিবেশী মোঃ আলাউদ্দিন সেখ (৭০) কে বে কসুর খালাস প্রদান করেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামী ৩ জনই আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দন্ডপ্রাপ্ত আসামীকে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

রায়ের বিষয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় রাজবাড়ীর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এ্যাড. আব্দুর রাজ্জাক-২ সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে আসামী পক্ষে নিয়োজিত আইনজীবী মোস্তফা কবীর রাজবাড়ী জেলা ও দায়রা জজ আদালতের আদেশের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আফীর করবেন বলে জানান।