রূপ মিয়া হত্যাকাণ্ড: জামিনে আসামিরা, আতঙ্কে নিহত পরিবারের স্বজনরা

প্রকাশিত: ৬:২৩ পূর্বাহ্ণ , ১৭ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 6 days আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

মজিবুর রহমান: কিশোরগঞ্জের ইটনায় পূর্বশত্রুতার জেরে রূপ মিয়া (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের চার মাস পেরিয়ে গেলেও একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোকে আজও কান্না থামেনি তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের। স্বজন বা পরিচিত কাউকে দেখলেই তাঁরা হাউমাউ করে কেঁদে উঠছেন; তাঁদের আহাজারিতে যেন ভারী হয়ে উঠছে চারপাশের পরিবেশ।

গত বুধবার বিকালে নূরপুর গ্রামে সরজমিনে গেলে এমন করুন দৃশ্য চোখে পড়ে। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে বৃদ্ধ আব্দুল মোতালেবের দম্পতি চারদিকে অন্ধকার দেখছেন। ​বর্তমানে অভিযুক্ত আসামিরা হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্ত থাকায় তীব্র আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন নিহত রূপ মিয়ার স্বজনরা। কারণ আসামি ও তাদের স্বজনরা নানাভাবে তাদেরকে হুমকি ধমকী দিচ্ছে।

​নিহত রূপ মিয়া কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার এলংজুরী ইউনিয়নের নূরপুর গ্রামের আব্দুল মোতালেবের ছেলে।
​
​মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রূপ মিয়ার পরিবারের সঙ্গে বিবাদীদের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে পূর্বে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিস-বৈঠকও হয়।

গত ৫ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রূপ মিয়া বাড়ি থেকে গ্রামের একটি দোকানে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে নূরপুর গ্রামের বাবুল মিয়ার বাড়ির সামনে পৌঁছালে প্রতিপক্ষ শ্যামল মিয়া ও তাঁর সঙ্গীরা রূপ মিয়ার পথরোধ করেন। এ সময় তাঁরা রূপ মিয়াকে গালিগালাজ শুরু করলে তিনি এর প্রতিবাদ জানান।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা লাঠি, লোহার রড, ছুরি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও জখম করে।
​পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

সেখানে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে ​প্রধান আসামিসহ তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে
​ নিহতের বড় বোন মিনা আক্তার বাদী হয়ে ইটনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলায় একই গ্রামের প্রতিবেশী শ্যামল মিয়াকে (৪৮) প্রধান আসামি করে মোট ৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। ​মামলার অন্য এজাহারভুক্ত আসামিরা হলো ​বিপ্লব মিয়া (৫০), ​খোকন মিয়া (৫৫) ​এমরান মিয়া (৫০), ​রনু মিয়া (৬৫)।

​নিহতের বোন ও মামলার বাদী মিনা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, “পূর্ববিরোধের জের ধরে আমার ভাইকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আসামিরা হাইকোর্ট থেকে জামিন এসে আমার বৃদ্ধ বাবা-মাকে নানাভাবে হুমকি ধমকী দিচ্ছে। আমাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছে মামলা উঠিয়ে নেওয়ার জন্য। আসামিরা প্রভাবশালী তাই আমরা তাদের হুমকিতে আতংকে থাকি সবসময়।

​এ বিষয়ে ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুল্লাহ খান জানান, হত্যাকান্ড ঘটনাটি আমি যেদিন দ্বায়িত্ব গ্রহণ সেদিন ঘটে। ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। আসামিরা বর্তমানে হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন। তবে নিহতের পরিবারের সুরক্ষায় ও সার্বিক নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর