
সিরিয়ায় পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চল ও লাতাকিয়ার পার্বত্য এলাকায় ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের অনুগত আলাউইত সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে অভিযান চালাচ্ছে ক্ষমতাসীন সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলো। লাগাতার এ অভিযানে গত তিনদিনে জাতিগত সংখ্যালঘু গোষ্ঠীটির ৭৪৫ বেসামরিক সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে।
রোববার (৯ মার্চ) সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তাসংস্থা এএফপি ও রয়টার্স।
সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, নিরাপত্তা বাহিনী ও তাদের মিত্র গোষ্ঠীগুলোর অভিযানকালে বিভিন্ন স্থানে তাদের সঙ্গে বাশার আল-আসাদের অনুগত যোদ্ধাদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। সব মিলিয়ে বৃহস্পতিবার থেকে সহিংসতায় এখন পর্যন্ত সিরিয়ায় এক হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এরমধ্যে সশস্ত্র সংঘর্ষে ১২৫ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য এবং বাশার আল-আসাদের অনুগত ১৪৮ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন।
এর আগে, সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র কর্নেল হাসান আব্দুল গনি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে লাতাকিয়ায় যুদ্ধরত আসাদের অনুগতদের প্রতি একটি সতর্কবার্তা জারি করেন।
তিনি বলেন, হাজার হাজার মানুষ তাদের অস্ত্র সমর্পণ করে তাদের পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আবার কেউ কেউ খুনি এবং অপরাধীদের রক্ষায় পালিয়ে যাওয়ার ও মৃত্যুর জন্য জোর দিচ্ছে। পছন্দটি স্পষ্ট; আপনার অস্ত্র জমা দিন অথবা অনিবার্য পরিণতির মুখোমুখি হোন।
এ অবস্থায় সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার ক্ষমতার জন্য এই অঞ্চলটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে প্রচারিত এক বক্তব্যে আসাদপন্থীদের উদ্দেশে শারা বলেন, আপনারা সিরীয় নাগরিকদের ওপর আক্রমণ এবং ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ করেছেন। আপনাদের অস্ত্রগুলো জমা দিন এবং দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই আত্মসমর্পণ করুন।
এদিকে আলাউইত সম্প্রদায়ের লোকেরা বলছেন, আসাদের পতনের পর থেকে তাদের সম্প্রদায় সহিংসতা ও আক্রমণের শিকার হয়েছে। বিশেষ করে, হোমস ও লাতাকিয়ার গ্রামীণ এলাকাগুলো এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটছে।
সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তা বাহিনী ও সরকারপন্থী যোদ্ধারা আলাউইত সম্প্রদায়ের সদস্যদের ‘মৃত্যুদণ্ড কার্যকর’ করার মতো করে হত্যা করেছে। এ ছাড়া তাদের বাড়িঘর এবং সম্পত্তিও লুটপাট করা হয়েছে।
সিরিয়ার উপকূলীয় অঞ্চল লাতাকিয়া ও তারতুসে শনিবার পর্যন্ত কারফিউ জারি করা হয়। আলাউইত সম্প্রদায়ের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করা হয় ওই এলাকাগুলোকে। এ ছাড়া হোমস শহরেও কারফিউ জারি করা হয়েছে। আসাদের অনুগত সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং তাদের সমর্থকদের লক্ষ্য করে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে। এসব অভিযানের সময় বেসামরিক নাগরিকদের নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
যশোর চৌগাছার চাঞ্চল্যকর ঝন্টু হত্যা’র প্রধান আসামি আবু...
যশোর চৌগাছার চাঞ্চল্যকর ঝন্টু হত্যা’র প্রধান...
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের আমন্ত্রণে বিরল...
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের...
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির...
লাইভে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা দিয়ে পুলিশ বাবাকে ‘মিথ্যাবাদী’...
লাইভে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা দিয়ে পুলিশ...
এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার
এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ...