
মো.সাহিদুল ইসলাম শাহীন: আসন্ন বেনাপোল পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সীমান্ত শহরটিতে বইছে নির্বাচনী হাওয়া। মেয়র পদে লড়ছেন বিশিষ্ট সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী, আমদানিকারক, সমাজসেবক ও যুবদল নেতা মো. ইমদাদুল হক ইমদাদ। দীর্ঘ দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে তিনি নিরলসভাবে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণ করে চলেছেন। সদা হাস্যোজ্জ্বল বেনাপোলের এই কৃতি সন্তান ইতোমধ্যেই ভোটারদের বিপুল ভালোবাসা ও সমর্থন আদায়ে সক্ষম হয়েছেন।
প্রচারণার অংশ হিসেবে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ৯নং ওয়ার্ডের সীমান্তবর্তী বড়আঁচড়া গ্রামে গণসংযোগে নামেন ইমদাদ। এটি ছিল উক্ত গ্রামে তাঁর চতুর্থ দিনের প্রচারণা। সরেজমিনে দেখা যায়, ইমদাদুল হক ইমদাদ যখন কর্মীদের নিয়ে বড়আঁচড়া গ্রামে প্রবেশ করেন, তখন তাকে একনজর দেখতে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বিপুল সংখ্যক মানুষ ভিড় জমান। বিশেষ করে শিশু-কিশোরদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।
গণসংযোগকালে এলাকার বয়োজ্যেষ্ঠরা ইমদাদকে কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এবং তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে দোয়া করেন।
ঘরে ঘরে গিয়ে তিনি মা-বোনদের সাথে কুশল বিনিময় করেন এবং লিফলেট তুলে দিয়ে দোয়া চান। এ সময় মা-বোনেরাও তাকে আন্তরিকভাবে গ্রহণ করে দোয়া ও পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দেন।
বড়আঁচড়া গ্রামের ভোটারদের মতে, ইমদাদুল হক ইমদাদ একজন সৎ ও যোগ্য প্রার্থী। করোনাকালীন ও বিভিন্ন দূর্যোগে অসহায় ও দুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি ইতোমধ্যেই মানবিক গুণের পরিচয় দিয়েছেন। আর্থিক সহায়তা ও খাদ্য বিতরণে তাঁর সুনাম সর্বজনবিদিত। তাই এবার তাকে মেয়র হিসেবে দেখতে চান তারা।
যশোর জেলা যুবদলের যুগ্ম-আহবায়ক এবং শার্শা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব হিসেবে মো. ইমদাদুল হক ইমদাদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকার যুবসমাজ ও ভোটারদের মাঝে তাঁর শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে। দলমত নির্বিশেষে মানুষ তাঁর উন্নয়নমুখী চিন্তাধারা ও সমাজসেবামূলক কাজের প্রশংসা করছেন। সীমান্তবর্তী বড়আঁচড়া গ্রামের প্রচারণা কালেও তাঁর বিপুল গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তার দৃশ্য চোখে পড়ে। ভোটাররা তাকে নিজেদের মানুষ হিসেবেই দেখছেন।
নির্বাচনী প্রচারণার চতুর্থ দিনে ইমদাদুল হক ইমদাদ ২০২৪ সালের জুলাই-আগষ্ট গণঅভ্যুত্থানে পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ আব্দুল্লাহ’-এর কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তিনি শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন এবং পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
পৌরসভা উন্নয়নে ইমদাদ ভোটারদের মাঝে একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। তাঁর নির্বাচনী লিফলেটে উল্লেখিত প্রধান প্রতিশ্রুতিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
*বেনাপোল পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও তিলোত্তমা মডেল শহর হিসেবে গড়ে তোলা।
*জলাবদ্ধতা দূরীকরণ ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন।
*মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
রাস্তাঘাট ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন।
*পৌরসভাকে দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত ঘোষণা করা।
*অসহায় ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি।
ভোটাররা তাঁর এসব প্রতিশ্রুতি অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করছেন। অনেকেই বলছেন, ইমদাদ একজন সৎ ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক হওয়ায় তিনি তাঁর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আন্তরিক হবেন। তাই আসন্ন নির্বাচনে তাকে ভোট দেওয়ার মানসিকতা তৈরি করছেন অধিকাংশ ভোটার।
চতুর্থ দিনের প্রচারণায় বড়আঁচড়া গ্রামবাসী যে ব্যাপক সাড়া দিয়েছে, তাতে ইমদাদুল হক ইমদাদের বিজয় আসন্ন বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। দলমত নির্বিশেষে সকলের ভালোবাসা ও সমর্থন ইমদাদকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বেনাপোল পৌরসভার সার্বিক উন্নয়নে ইমদাদের বিকল্প নেই বলেই মনে করছেন ভোটাররা।
নির্বাচনী মাঠের বর্তমান পরিস্থিতি ও ইমদাদের প্রতি ভোটারদের ভালোবাসা দেখে ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন নির্বাচনে তিনি একটি বড় ব্যবধানে বিজয়ী হতে পারেন।
গণসংযোগে ভোটারদের সাথে মতবিনিময় কালে
ইমদাদুল হক ইমদাদ বলেন, আমি আপনাদেরই সন্তান, আপনাদেরই ভাই। দীর্ঘ দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে আমি পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায়, প্রতিটি ঘরে ঘরে গিয়েছি।
আপনাদের দরজায় যখন কড়া নেড়েছি, আপনারা আমাকে পর ভাবেননি—বয়োজ্যেষ্ঠরা যেভাবে আমাকে বুকে জড়িয়ে ধরে মাথায় হাত রেখে দোয়া দিয়েছেন, মা-বোনেরা যেভাবে আপন সন্তানের মতো স্নেহ ও ভালোবাসায় সিক্ত করেছেন, আর তরুণ ও শিশু-কিশোররা যে উন্মাদনা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে, তা আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।
আপনাদের এই ভালোবাসা ও ঋণের বোঝা আমি কোনোদিন শোধ করতে পারব না। আমি আপনাদের কাছে কোনো রাজনীতি করতে আসিনি, পদ-পদবির মোহ নিয়ে আসিনি। আমি এসেছি একজন সেবক হয়ে আপনাদের পাশে দাঁড়াতে। আজ আমাদের প্রিয় বেনাপোল পৌরসভা অবহেলিত, অবকাঠামোগত নানা সমস্যায় জর্জরিত।
বছরের পর বছর আপনারা যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। আমি ব্যবসা করি, সমাজসেবা করি আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। আমার একমাত্র স্বপ্ন, আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বেনাপোলকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, মাদকমুক্ত ও শান্তিময় ‘তিলোত্তমা’ পৌরসভা হিসেবে গড়ে তোলা।
করোনাকাল সহ যেকোনো দুযোগ-দুর্বিপাকে আমি সাধ্যমতো চেষ্টা করেছি আপনাদের পাশে থেকে আর্থিক ও মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে। আপনারা আমার সেই অতীত কর্মকে বিশ্বাস করেছেন, ভালোবাসা দিয়েছেন। আজ যখন আমি শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে, আপনাদের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি, তখন আপনাদের কাছে আমার একটাই আকুল আবেদন—আপনারা আমাকে একটিবার সুযোগ দিন।
আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি—পৌরসভার মেয়র হিসেবে নয়, আপনাদের পরিবারের একজন সদস্য হয়ে আজীবন আপনাদের সুখ-দুঃখে পাশে থাকব। কোনো অন্যায়, দুর্নীতি বা মাদককে এই পৌরসভায় ঠাঁই দেব না।
আসন্ন নির্বাচনে আপনাদের মূল্যবান একটি ভোট দিয়ে আমাকে আপনাদের সেবা করার সুযোগ দিন। আপনাদের সমর্থন ও দোয়া থাকলে ইনশাআল্লাহ আমরা সবাই মিলে এক নতুন, উন্নত ও সমৃদ্ধ বেনাপোল গড়ার স্বপ্ন পূরণ করব।
৪র্থ দিনের প্রচারনায় অংশ নেন ঐ গ্রামের বিএনপি’র নেতৃবৃন্দ,যুবদল,ছাত্রদল সহ অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের কর্মী ও সমর্থকবৃন্দ।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
পাইকগাছায় গাঁজাসহ দুই যুবক আটক
পাইকগাছায় গাঁজাসহ দুই যুবক আটক
বাকেরগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দকৃত কারেন্ট জাল পুড়িয়ে...
বাকেরগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দকৃত কারেন্ট...
সাপাহারে শিরন্টি ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহজাহান আলীর গণসংযোগ
সাপাহারে শিরন্টি ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহজাহান...
শেরপুর ডপস সদস্যদের মূল্যায়ন পরীক্ষা ও শিক্ষা উপকরণ...
শেরপুর ডপস সদস্যদের মূল্যায়ন পরীক্ষা ও...
শেরপুর পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এমপি রাশেদের...
শেরপুর পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে...
জনপ্রিয়তার শীর্ষে ইমদাদুল হক ইমদাদ: বেনাপোলে বইছে পরিবর্তনের...
জনপ্রিয়তার শীর্ষে ইমদাদুল হক ইমদাদ: বেনাপোলে...