মধুটিলা ইকোপার্কের উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তাব

প্রকাশিত: ১২:১০ অপরাহ্ণ , ৩০ এপ্রিল ২০২৫, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন

শাহরিয়ার মিল্টন , শেরপুর : শেরপুরের মধুটিলা ইকোপার্ককে আরও আকর্ষণীয় ও আধুনিক করতে একাধিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে পর্যটকদের আগমন বৃদ্ধি পাবে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সবুজ বনাঞ্চল, শাল-গজারির ঘন ছায়া, উঁচু-নিচু টিলা আর পাহাড়ি প্রাকৃতিক দৃশ্য মধুটিলা ইকোপার্কের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। প্রকৃতি ও নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের টানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক পর্যটক এখানে ভিড় করেন।

ইকোপার্কের ইজারাদার মজিবুর রহমান চৌধুরী জানান, পার্কের সার্বিক উন্নয়ন ও পর্যটকদের সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেশ কিছু উন্নয়ন প্রস্তাবনা বন বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে। এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে এখানকার পরিবেশ আরও উন্নত হবে এবং পর্যটকদের জন্য নতুন মাত্রা যোগ হবে।

সূত্র জানায়, প্রস্তাবিত উন্নয়ন পরিকল্পনায় রয়েছে: ইকোপার্কের চারপাশে ১০ ফুট উচ্চতার বাউন্ডারি দেয়াল ও কাটাতারের বেড়া। বাউন্ডারির চারপাশে পাকা রাস্তা।

মহুয়া রেস্ট হাউজ থেকে বড় টিলা পর্যন্ত ঝুলন্ত সেতু।
লেকের উপর দিয়ে ক্যাবল কার স্থাপন। পাহাড়ের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত পর্যন্ত সুড়ঙ্গ পথ।

দৃষ্টিনন্দন সুইমিং পুল, ঝরনা, ড্রেসিং রুম ও ওয়াশরুম।
বিরল ও বিপন্ন প্রজাতির প্রাণীর ভাস্কর্য। পাহাড়ি চলাচলের পথ মেরামত ও নতুন পথ নির্মাণ। লেক খনন ও সম্প্রসারণ করে স্পিডবোট চালনার উপযোগী করা।

একটি আকর্ষণীয় ইকোরিয়াম স্থাপন। শিশু পার্কে নাগরদোলা ও বৈদ্যুতিক ট্রেন। আধুনিক রাইড ও স্লিপার সংযোজন।
এছাড়া, পার্কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ নিয়োগ এবং পার্কে প্রবেশ-প্রস্থানের রাস্তাগুলো প্রশস্ত করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অধীন ২০০ একর বনভূমির ওপর ২০০০ সালে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় মধুটিলা ইকোপার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। এখানে রয়েছে ঔষধি বৃক্ষের বনায়ন, পর্যবেক্ষণ টাওয়ার, রেস্ট হাউজ, প্রাণীর ভাস্কর্য, রাইড, প্যাডেল বোট, মিনি চিড়িয়াখানা এবং অন্যান্য অবকাঠামো।

সম্প্রতি পার্ক এলাকায় বন্য হাতির উপস্থিতিও পর্যটকদের নতুন অভিজ্ঞতা দিয়েছে। উন্নয়ন পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন হলে এটি দেশের অন্যতম আধুনিক ইকো-ট্যুরিজম স্পটে রূপ নেবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।