ড. রফিক হিলালী

“যুব সমাজকে সঠিক পথে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই”

প্রকাশিত: ৩:৪৮ অপরাহ্ণ , ২৬ জুলাই ২০২৫, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 10 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

মজিবুর রহমান, নেত্রকোনাঃ নেত্রকোণার আটপাড়া উপজেলার স্বমুশিয়া ইউনিয়নের অভয়পাশা বাজারে শুক্রবার (২৫ জুলাই) বিকেলে অনুষ্ঠিত হলো এক ব্যতিক্রমী ঐতিহ্যবাহী কুস্তি প্রতিযোগিতা। স্বমুশিয়া ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতাকে ঘিরে বাজার এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। হাজার হাজার দর্শক খেলার মাঠ ঘিরে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খেলার উদ্বোধন করেন নেত্রকোনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব এবং নেত্রকোনা-৩ (কেন্দুয়া-আটপাড়া) আসনের একাধিকবারের ধানের শীষের প্রার্থী, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আলহাজ্ব ড. রফিকুল ইসলাম হিলালী।
উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন— “যুব সমাজকে সঠিক পথে রাখতে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। খেলাধুলা মানুষকে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে, দেহ ও মনকে সুস্থ রাখে এবং সামাজিক বন্ধনকে মজবুত করে।”

তিনি আরও বলেন, “খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণ সমাজ যেমন মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ থেকে দূরে থাকে, তেমনি সমাজে গড়ে ওঠে সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্বের অটুট বন্ধন।

এমন আয়োজন আমাদের গ্রামীণ ঐতিহ্যকে নতুন করে জাগিয়ে তোলে। গত ১৭ বছর ধরে যারা দেশের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়েছে, তারাই গ্রামীণ সংস্কৃতির বিকাশের পথ রুদ্ধ করেছে। বিএনপি ক্ষমতায় গেলে এইসব গ্রামীণ সংস্কৃতিকে বিকশিত করার জন্য বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুর রব মাস্টার। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা বিএনপি সভাপতি মাসুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, স্বমুশিয়া ইউনিয়ন বিএনপি সাধারণ সম্পাদক সোনা মিয়া, বিএনপি নেতা তৌসিফুল হক খান, সাবেক সভাপতি মুখলেছুর রহমান পরশ, যুবদল নেতা আনোয়ারুল হক ও আবুল ফজল, সেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব রোফন, তাঁতীদল নেতা লিটন, উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব টিটু প্রমুখ।

বিকাল ৩টা থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতা মাগরিব পর্যন্ত চলে। প্রায় দুই শতাধিক কুস্তিগীর অংশ নেন এতে। গ্রামীণ এই খেলাকে ঘিরে এলাকাবাসীর মধ্যে তৈরি হয় আনন্দঘন পরিবেশ। নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোর সবাই মাঠে ভিড় করে খেলা উপভোগ করেন।

উপস্থিত অতিথিরা আয়োজকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এ ধরনের খেলাধুলার মাধ্যমে যেমন যুব সমাজকে সঠিক পথে আনা সম্ভব, তেমনি আমাদের হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ ঐতিহ্যও নতুন করে বাঁচিয়ে তোলা সম্ভব।”