সাজেকে ‘ইঁদুর বন্যায়’ ক্ষতিগ্রস্ত ৬০৬ পরিবার পেল মানবিক সহায়তা

প্রকাশিত: ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ , ১৫ অক্টোবর ২০২৫, বুধবার , পোষ্ট করা হয়েছে 8 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে ‘ইঁদুর বন্যায়’ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য পরিচালিত মানবিক সহায়তা কর্মসূচির সফল সমাপ্তি হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় মোট ৬০৬টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার খাদ্য সহায়তা পেয়েছে।

বুধবার সকালে সাজেকের ৯ নং ত্রিপুরা পাড়ায় আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে ১০৫টি অসহায় পরিবারকে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত জুমচাষীরা তাঁদের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। দূরবর্তী অরুণ পাড়ার কৃষক নজেন ত্রিপুরা বলেন, “আমরা হিসাব করে ধান লাগাই—দুই-তিন ‘আড়ি’ (স্থানীয় পরিমাপ, ১ আড়ি ≈ ১০ কেজি) ধান রোপণ করলে সাধারণত ২০০ থেকে ৩০০ আড়ি পর্যন্ত ফলন হয়। কিন্তু ধানে যখন শিষ ধরলো, তখনই ইঁদুর এসে এক নিমিষে সব শেষ করে দিল।”

তিনি আরও জানান, “জাবারাং ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলো মাঠে এসে তথ্য নিয়েছে, পরে আমাদের খাদ্য সহায়তা দিয়েছে। আমরা কৃতজ্ঞ।” তবে নজেন ত্রিপুরা সতর্ক করে বলেন, “এখনও ইঁদুর মরিচ, আদা, তিল, হলুদসহ সব ফসল খেয়ে ফেলছে। তাই দীর্ঘমেয়াদি জীবিকা পুনরুদ্ধারে সরকারের সহায়তা জরুরি।”

স্থানীয়রা জানান, বাঁশফুলের পর ব্যাপক হারে ইঁদুর বৃদ্ধি পেয়ে ফসল ধ্বংসের এ ঘটনাকে তারা ‘ইঁদুর বন্যা’ নামে অভিহিত করেন।

কর্মসূচির আওতায় সাজেক ইউনিয়নের ৪৬৬ পরিবার দুই মাসের খাদ্য সহায়তা পেয়েছে, যার মধ্যে ছিল ১২০ কেজি সিদ্ধ চাল, ৪ কেজি লবণ, ২ কেজি মসুর ডাল, ৪ লিটার ভোজ্যতেল ও ১ কেজি শুকনা মাছ (সিদল)। এছাড়া ১৪০ পরিবার এক মাসের খাদ্য সহায়তা পেয়েছে, যাতে ছিল ৬০ কেজি সিদ্ধ চাল, ২ কেজি লবণ, ১ কেজি মসুর ডাল, ২ লিটার ভোজ্যতেল ও অর্ধ কেজি শুকনা মাছ (সিদল)।

মানবিক এই উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করেছে জাবারাং কল্যাণ সমিতি, কারিগরি সহযোগিতায় কারিতাস বাংলাদেশ, এবং অর্থায়নে স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশ।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের এ ধরনের ‘ইঁদুর বন্যা’ পুনরাবৃত্তি স্থানীয় কৃষি ও খাদ্যনিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে টেকসই কৃষি ও জীবিকাভিত্তিক পরিকল্পনা জরুরি হয়ে পড়েছে।