
বীর মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশের ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের প্রথম ম্যাজিস্ট্রেট এবং সাবেক সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি (উপসচিব) নীলোৎপল ত্রিপুরার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র স্মরণ জানানো হয়েছে।
নীলোৎপল ত্রিপুরা জন্মগ্রহণ করেন ২০ জানুয়ারি ১৯৪৭ খ্রিস্টাব্দে রাঙ্গামাটি জেলার কেল্লামোড়া পুরান রাঙ্গামাটিতে। তিনি ১৮ জানুয়ারি ২০২২ খ্রিস্টাব্দে বার্ধক্যজনিত কারণে রাঙ্গামাটির একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
তিনি চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া ডিগ্রি কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি অর্জনের পর বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে প্রশাসন ক্যাডারে যোগ দেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে তিনি রাঙ্গুনিয়া ডিগ্রি কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
কর্মজীবনে তিনি ১৯৭৩ সালে রাঙ্গামাটি জেলার বরকল থানায় সার্কেল অফিসার (সি.ইউ) হিসেবে সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি খাগড়াছড়ি, আনোয়ারা, আজমিরীগঞ্জ, টেকনাফ ও চট্টগ্রামে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৩ সালে চকরিয়া ও সাতকানিয়া উপজেলায় সহকারী কমিশনার হিসেবে এবং ১৯৮৭ সালে সন্দীপ উপজেলায় ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে নোয়াখালীর মাইজদীতে স্বল্প সময় দায়িত্ব পালন শেষে ঢাকা সচিবালয়ে ওএইচডি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
১৯৯০ সালে তিনি কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ে জেনারেল সার্টিফিকেট অফিসার (জিসিও) পদে যোগ দেন এবং কিছু সময় মহেশখালী উপজেলার দায়িত্বও পালন করেন। ১৯৯৩ সালে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন।
পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে তিনি পুনরায় ঢাকা সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে ওএইচডি হিসেবে এবং ১৯৯৮ সালে নিজ জেলা রাঙ্গামাটিতে উন্নয়ন বোর্ডে কর্মরত হন।
এরপর বান্দরবান ও রাঙ্গামাটি জেলায় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সবশেষে তিনি ঢাকা সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি (উপসচিব) পদে কর্মরত থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
পারিবারিক জীবনে তিনি তিন ভাই ও চার বোনের মধ্যে জ্যেষ্ঠ সন্তান ছিলেন। পরিবারের সকল দায়িত্ব ও ছোট ভাই-বোনদের অভিভাবকত্ব তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করায় পিতা-মাতা তাঁকে স্নেহভরে ‘বড় বাবা’ বলে ডাকতেন।
১৯৭০ সালে তিনি কাপ্তাই চন্দ্রঘোনা মতিপাড়ার চৌধুরী বংশের কন্যা ম্রাখ্যাইসা মারমার সঙ্গে ভালোবেসে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরবর্তীতে তাঁর স্ত্রীর নাম পরিবর্তিত হয়ে হয় মনীষা ত্রিপুরা। তিনি পাঁচ কন্যার জনক।
নীলোৎপল ত্রিপুরা ছিলেন দানশীল, মিশুক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন একজন মানুষ। পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনি একজন সমাজহিতৈষী দাতা হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন। খাগড়াছড়ি জেলা শহরের মিলনপুর এলাকায় জনগণের চলাচলের সুবিধার্থে নিজের দানকৃত জমিতে নির্মিত সড়কটির নামকরণ করা হয়েছে “বীর মুক্তিযোদ্ধা নীলোৎপল ত্রিপুরা সড়ক”।
এছাড়া তিনি মিলনপুর বৌদ্ধবিহার স্থাপনার জন্য জমি দান করেন, যা ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সন্দীপ উপজেলায় কর্মরত থাকাকালে তিনি ঐতিহ্যবাহী পুরাতন কালীবাড়ির উন্নয়নেও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন।
জীবনের শেষভাগে তিনি নিজ বাসভবনে রাঙ্গামাটিতে বসবাস করতেন। জীবদ্দশায় নিজের ইচ্ছানুযায়ী শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত কেল্লামোড়ায় পারিবারিক কেল্লা পাহাড়ে সমাধিস্থ হওয়ার কথা পরিবারকে জানিয়ে যান এবং সেই অনুযায়ী মৃত্যুর পর তাঁকে কেল্লামোড়ায় সমাহিত করা হয়।
উল্লেখ্য, তাঁর জন্ম ও মৃত্যুর তারিখ অত্যন্ত কাছাকাছি হওয়ায় জন্মবার্ষিকীটি শোক ও শ্রদ্ধার আবেশে স্মরণ করা হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা নীলোৎপল ত্রিপুরার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা ও গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে পরিবার, স্বজন ও শুভানুধ্যায়ীরা তাঁর কর্মময় জীবন ও অবদান কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছেন।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির...
দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আবারও বাস পড়ল নদীতে
দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আবারও বাস...
নালিতাবাড়ীর পাহাড়ি রাস্তায় রোপণ হবে হাজারো কৃষ্ণচূড়ার চারা
নালিতাবাড়ীর পাহাড়ি রাস্তায় রোপণ হবে হাজারো...
শেরপুরে বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু
শেরপুরে বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু
গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা
গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা
জেলা ইমাম সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত
জেলা ইমাম সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত