• খুলনা রাজনীতি
  • জামায়াতে ইসলামী’কে পাকিস্তানে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে-নুরুজ্জামান লিটন

ইসলাম নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো

জামায়াতে ইসলামী’কে পাকিস্তানে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে-নুরুজ্জামান লিটন

প্রকাশিত: ৬:২০ পূর্বাহ্ণ , ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

মো.সাহিদুল ইসলাম শাহীনঃ-ইসলাম নিয়ে মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানো,জামায়াতে ইসলামীকে পাকিস্তানে নিষিদ্ধ ঘোষনা করা হয়েছে বলে সংসদ সদস্য প্রার্থী মো.নুরুজ্জামান লিটন দাবি করেন। তিনি বলেন,পাকিস্তানে জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তারা সেখানে রাজনীতি করতে পারবে না।

তিনি প্রশ্ন তোলেন যে, পাকিস্তান যদি একটি শক্তিশালী ইসলামিক রাষ্ট্র হয়ে থাকে, তবে কেন তারা জামায়াতকে নিষিদ্ধ করলো? শুক্রবার(২৩ জানুয়ারী) সন্ধ্যায় বেনাপোল পৌর ২নং ওয়ার্ড (নামাজগ্রাম-দুর্গাপুর) বিএনপি ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় তিনি এ কথা বলেন। তিনি তার বক্তব্যে এলাকার উন্নয়ন এবং গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

বেনাপোল পৌর ২নং ওয়ার্ড (নামাজগ্রাম-দুর্গাপুর) বিএনপি’র সভাপতি মো. আব্দুল মজিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী জনসভায় উপস্থিত ছিলেন ২নং ওয়ার্ড বিএনপির সহ সভাপতি আবেদার আলী, সাধারন সম্পাদক -ইয়ার আলী সহ বিএনপি ও এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ছাড়াও এলাকার বিপুল সংখ্যক সাধারণ নারী-পুরুষ উপস্থিত ছিলেন।

বিএনপি’র চেয়ারপারসন জনাব তারেক রহমানের
কিছু ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে নুরুজ্জামান লিটন বলেন, “তারেক রহমান ক্ষমতা পেলে মেয়েদের ডিগ্রি পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ করে দেবেন। সাধারণ মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড প্রদান, ​কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড,
​ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের জন্য সরকারি ভাতার ব্যবস্থা করবেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে বলেন, মানুষের অধিকার ও স্বপ্নের স্বাধীন দেশের জন্য জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। এছাড়া কৃষি বিপ্লব, অর্থনীতি, গার্মেন্টস শিল্প এবং প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ক্ষেত্রেও তার বিশেষ অবদানের কথা তুলে ধরেন।

মরহুমা ​বেগম খালেদা জিয়ার অর্থনীতিতে অবদান হিসেবে ভ্যাট (VAT) বা মূল্য সংযোজন কর ব্যবস্থার প্রবর্তনের কথা বলেন। শুরুতে অনেকে এর বিরোধিতা করলেও বর্তমানে এটি বাংলাদেশের অর্থনীতির একটি বড় শক্তিতে পরিণত হয়েছে।

নারী শিক্ষা উন্নয়নে১৯৯১ সালে বেগম খালেদা জিয়া ক্ষমতায় আসার পর মেয়েদের জন্য প্রথম থেকে দশম শ্রেণী (ম্যাট্রিক) পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার যে ব্যবস্থা করেছিলেন,সেটিকে নারী শিক্ষার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক হিসেবে বর্ণনা করেন। ২০০১ সালে পুনরায় বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষমতায় আসার প্রসঙ্গ টেনে তার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী ইসলাম ধর্ম, কোরআন এবং হাদিসকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করছে। তিনি বলেন, তারা প্রচারণা চালাচ্ছে যে “দাঁড়িপাল্লা” মার্কায় ভোট দিলে মানুষ বেহেশতে যাবে, যা কোরআন বা হাদিসের কোথাও নেই। তিনি হজরত ফাতেমা (রা.)-এর উদাহরণ টেনে বলেন যে, নবী করিম (সা.) কখনো তার প্রিয় কন্যাকে ঘরে ঘরে গিয়ে ইসলামের দাওয়াত দিতে বলেননি। তিনি দাবি করেন, নারীদের এভাবে রাজনৈতিক বা প্রচার কাজে ব্যবহার করা ইসলাম সমর্থন করে না।

হযরত মুহাম্মদ (সা.) তার বিদায় হজের ভাষণে মুসলমানদের জন্য পূর্ণাঙ্গ জীবনবিধান দিয়ে গিয়েছেন। তিনি বলেন, ইসলাম নিয়ে নতুন করে কারো কাছ থেকে শেখার কিছু নেই, বরং নবীর দেখানো পথ অনুসরণ করাই যথেষ্ট। ​ভণ্ডামির বিরুদ্ধে সতর্কতা উচ্চারণ করে তিনি বলেন, পরকালে সর্বপ্রথম জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে একদল ভণ্ড আলেম বা ইমাম যারা নিজেদের অনেক বড় ধর্মীয় নেতা হিসেবে দাবি করে কিন্তু অন্তরে সততা নেই।

এছাড়া লোকদেখানো দান-খয়রাত করা ব্যক্তিরাও কঠোর শাস্তির সম্মুখীন হবে। জামায়াতের প্রার্থীদের একটি প্রচারণার সমালোচনা করে বলেন, তারা দাবি করে যে তাদের প্রতীকে ভোট দিলে সরাসরি জান্নাতে যাওয়া যাবে—যাকে তিনি অযৌক্তিক এবং হাস্যকর বলে অভিহিত করেন।

​মূলত রাজনৈতিক স্বার্থে ধর্মের ব্যবহার এবং সাধারণ মানুষের ধর্মীয় আবেগকে পুঁজি করার বিরুদ্ধে সকলকে সোচ্চার থাকার আহবান জানান।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন পৌর বিএনপি’র সহ- সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম রিপন।