• খুলনা রাজনীতি
  • শার্শার শাকারীপোতায় বিএনপির নির্বাচনী সভা: ‘জনগণই ক্ষমতার উৎস’— সাবেরুল হক সাবু

শার্শার শাকারীপোতায় বিএনপির নির্বাচনী সভা: ‘জনগণই ক্ষমতার উৎস’— সাবেরুল হক সাবু

প্রকাশিত: ১০:১০ পূর্বাহ্ণ , ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 4 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

মো.সাহিদুল ইসলাম শাহীনঃ- আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জনমত গঠন ও সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের লক্ষ্যে যশোরের শার্শা উপজেলার বাহাদুরপুর ইউনিয়নের শাকারীপোতা বাজারে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যশোর জেলা বিএনপি’র সভাপতি এ্যাডভোকেট সাবেরুল হক।

​শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত ঔ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাবেরুল হক সাবু বলেন, “দেশের মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে তাদের ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। আগামী নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে চায়।

বিএনপি জনগণের অধিকার ফিরিয়ে দিতে বদ্ধপরিকর”। ​তিনি নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, দলীয় কোন্দল ভুলে তৃণমূল পর্যায়ে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো প্রকার সহিংসতায় না জড়িয়ে সাধারণ মানুষের মন জয় করার নির্দেশ দেন তিনি।

​প্রতিটি ভোটার যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করার আহ্বান জানান।

​সভায় সভাপতিত্ব করেন সাহেব আলী এবং অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন বাহাদুরপুর ইউনিয়ন সভাপতি মো.রবিউল ইসলাম রবি। ​বিকেল থেকেই শার্শার বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন থেকে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে নেতা-কর্মীরা মিছিলসহ শাকারীপোতা বাজারে জড়ো হতে থাকেন।

সভায় বক্তারা অন্তর্বর্তী সরকারের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং স্থানীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ব্যর্থতা তুলে ধরে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করেন।

অনুষ্ঠানে মঞ্চে বক্তব্য দেন বেনাপোল সিএন্ডএফ এজেন্ট এসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি মফিজুর রহমান সজন। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের বিগত শাসনামলকে “ফ্যাসিস্ট” হিসেবে আখ্যায়িত করেন এবং সাধারণ মানুষের ওপর হওয়া নির্যাতনের কথা স্মরণ করিয়ে দেন।

শার্শা উপজেলা ও বেনাপোল বন্দর নগরীর সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব নূরুজ্জামান লিটনকে ভোট দিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত করার আহ্বান জানান। তিনি শার্শা থেকে চৌগাছা পর্যন্ত হওয়া বড় রাস্তার উদাহরণ টেনে বলেন, লিটন নির্বাচিত হলে বেনাপোল থেকে গোগা পর্যন্ত একই ধরনের উন্নত রাস্তা নির্মাণ করা হবে।

জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন “কৌশল” সম্পর্কে সতর্ক করে দেন এবং ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য উপস্থিত জনসাধারণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।

শার্শা উপজেলা বিএনপি’র উপদেষ্টা খায়রুজ্জামান মধু, বাহাদুরপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সুসংগঠিত অবস্থার প্রশংসা করেন। তিনি প্রয়াত নেতা জনাব শাহেদ আলী এসকে, নুরুজ্জামান খান এবং নজরুল ইসলাম মাস্টারসহ অন্যান্য মৃত নেতৃবৃন্দের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিয়ে তারেক রহমানকে শক্তিশালী করার কথা বলেন।

তিনি উল্লেখ করেন যে, তারেক রহমান প্রতিষ্ঠিত হলে সাধারণ মানুষ শান্তিতে থাকতে পারবে। নারীদের সতর্ক করে বলেন যে, কিছু মানুষ বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তিনি তাদের কোনো প্রলোভনে পা না দিয়ে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেন। ​সবশেষে তিনি উপস্থিত সকলকে ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তার বক্তব্য শেষ করেন।

শার্শা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি হাসান জহির
বলেন, দীর্ঘ ১৯ বছর পর আগামী ১২ তারিখে একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যেখানে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। এই নির্বাচনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী-র মধ্যে।

আওয়ামী লীগ বর্তমানে রাজনৈতিক মাঠ থেকে “পালিয়ে গেছে”।একটি “গণতান্ত্রিক ও সুন্দর রাষ্ট্র” গঠনে বিএনপিকে ক্ষমতায় আনা এবং তারেক রহমান-কে প্রধানমন্ত্রী করার কোনো বিকল্প নেই।

বিশাল ঔ সভায় উপস্থিত বিএনপি নেতা-কর্মীকে ধন্যবাদ জানিয়ে যশোর জেলা বিএনপি’র সভাপতি এ্যাডভোকেট সাবেরুল হক, দাবি করেন যে তারা সৎ মানুষের রাজনীতি করেন এবং জিয়াউর রহমান ছিলেন একজন সৎ ও দেশপ্রেমিক নেতা।

তিনি বলেন, যখন রাজনীতিকরা সঠিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হচ্ছিলেন, তখন জিয়াউর রহমান সেনাবাহিনী থেকে এসে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং সম্মুখ সমরে যুদ্ধ করে বিজয় ছিনিয়ে আনেন।

জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতায় আসেন, তখন দেশ দুর্ভিক্ষ ও অরাজকতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। তিনি ধ্বংসস্তূপ থেকে বাংলাদেশকে একটি আত্মনির্ভরশীল জাতিতে রূপান্তরিত করার চেষ্টা করেছিলেন। জিয়াউর রহমান ইরান ও ইরাকের মধ্যকার যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছিলেন।

জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর জানা গিয়েছিল যে বাংলাদেশের কোনো ব্যাংকে তাঁর নামে মাত্র ৫০০০ টাকাও ছিল না। এমনকি ঢাকা শহরে তাঁর কোনো নিজস্ব জমি বা বাড়িও ছিল না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির আদর্শের প্রতি সংহতি প্রকাশ করে বলেন বেগম খালেদা জিয়া ব্যক্তিগত ভোগবিলাসের চেয়ে দেশের মানুষের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, যা তার সততার পরিচয়।

আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনকে একটি চ্যালেঞ্জ বা “যুদ্ধ” হিসেবে গ্রহণ করে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীকে বিজয়ী করার জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দেন। ​সাবেরুল হক সাবু তার বক্তব্যের শেষে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, কোনো প্রকার কারচুপি বা পেশীশক্তি দিয়ে জনগণের রায়কে দাবিয়ে রাখা যাবে না। তিনি বাহাদুরপুরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের বিজয় নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।

মফিকুল হাসান তৃপ্তি বলেন,- তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এসে শত শত ছাত্রের সাথে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগদান করেছিলেন। তিনি ধানমন্ডির ২৭ নম্বরে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সাথে তার সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করেন। ​তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, তিনি এরশাদ বিরোধী আন্দোলন এবং আওয়ামী লীগ বিরোধী আন্দোলনে অত্যন্ত সক্রিয় ছিলেন।

তিনি তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নিষ্ঠা এবং সংগ্রামের কথা জনগণের সামনে তুলে ধরেন। ​বক্তব্যের এক পর্যায়ে তিনি বারবার ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের কথা উল্লেখ করে জিয়াউর রহমানের আদর্শ এবং তার পরিবারের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধার কথা জানান।

উপস্থিত জনতাকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে, এবারের নির্বাচন সহজ হবে না। তিনি সবাইকে ঘরে ঘরে গিয়ে প্রচার চালানোর এবং ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি তারেক রহমান কে ‘প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে দেখার এবং দলকে ক্ষমতায় আনার জন্য সবার সহযোগিতা চেয়েছেন। দলের মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটনের জন্য ঘরে ঘরে গিয়ে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে ভোট ও সমর্থন ভিক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

যশোর-১(শার্শা) আসনের প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন উপস্থিত সকলকে ধানের শীষের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন,তৃপ্তি ভাই,মধু ভাই এবং হাসান জহির ভাই,তারা আমার চেয়েও যোগ্য এবং অনেক অভিজ্ঞ। তারা প্রত্যেকেই কারাবরণ করেছেন,রাজনৈতিক ভাবে নির্যাতিত হয়েছেন।

মি তাদের কাছে সন্তান সমতূল্য। দল হয়তো একদিক দিয়ে বিচার বিশ্লেষণ করে আমাকে মনোনিত করেছে। তিনি বিশ্বাস করেন , এই অভিজ্ঞ নেতারা তাঁর পাশে থাকবেন এবং তাঁকে কাজ করতে সাহায্য করবেন। তিনি দলের মধ্যে ঐক্য বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সকলের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।

তিনি বক্তব্যের শুরুতেই ঈমান এবং পরকালের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন যে, আল্লাহ তায়ালা জান্নাত এবং জাহান্নামের মালিক। যারা ভালো কাজ করবে তারা জান্নাতে যাবে আর যারা খারাপ কাজ করবে তারা জাহান্নামে যাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, হাশরের দিন আল্লাহ তায়ালা বিচার করবেন এবং সেখানে নবী-রাসূলগণও নিজ নিজ উম্মতের জন্য চিন্তিত থাকবেন

একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করে বলেন যে, তারা সাধারণ মানুষের ঈমান নষ্ট করছে এবং ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করছে। তিনি দাবি করেন, তাদের এই কার্যক্রম সাধারণ মানুষকে ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিভিন্ন অবদানের কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে:

​জিয়াউর রহমান বাংলাদেশে কৃষি বিপ্লব ঘটিয়েছেন। তিনি দেশের গার্মেন্টস শিল্পের প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর উদ্যোগেই বাংলাদেশের মানুষ বিদেশে গিয়ে রেমিট্যান্স পাঠানোর সুযোগ পেয়েছে।

বর্তমান বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর ছোঁয়া রয়েছে। তিনি অন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে অনুরোধ করেন যেন তারা তার দল (বিএনপি), নেতা তারেক রহমান এবং শহীদ জিয়াউর রহমানকে নিয়ে কোনো অবমাননাকর মন্তব্য না করেন। আসন্ন নির্বাচনকে ‘অস্তিত্বের লড়াই’ হিসেবে অভিহিত করেন।

সুন্দর ও শান্তিতে বসবাসের জন্য তিনি সবাইকে সব ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। আগামী নির্বাচনে বিএনপিকে বিজয়ী করার এবং তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করার জন্য তিনি জনগণের সমর্থন চান। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে এবং তিনি এমপি নির্বাচিত হলে শাশা উপজেলাবাসীকে একটি সুশৃঙ্খল ও ঐক্যবদ্ধ বিএনপি উপহার দেবেন।

তিনি বিগত ১৭ বছরের দীর্ঘ লড়াই ও সংগ্রামের কথা স্মরণ করেন, যেখানে তারা দাবি আদায়ে বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে দিন-রাত রাজপথে অবস্থান করেছিলেন। আগামী নির্বাচনকে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, এই নির্বাচনে স্বাধীনতা-বিরোধীরা জয়ী হলে আগামী ১০০ বছরেও পরিস্থিতি ঠিক করা সম্ভব হবে না।

তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচনে পরাজিত হলে ভবিষ্যতে কোনো রাজনীতি থাকবে না। তাই সকল ভেদাভেদ ভুলে জোটবদ্ধ হয়ে নির্বাচনে জয়লাভ করার আহ্বান জানান তিনি।

সবশেষে বিশাল ঔ সভার সভাপতি,সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে, ভোট শেষ হওয়ার পর নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কেউ যেন ভোটকেন্দ্র ত্যাগ না করে,সে জন্য সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানান। অনুষ্ঠান সম্পাদনায় যে সকল নেতা-কর্মী বিভিন্ন ভাবে সহযোগীতা করেছেন,তাদের সকল’কে ধন্যবাদ জানিয়ে সভার ইতি টানেন।

মন্তব্য লিখুন