• অপরাধ দেশজুড়ে
  • শার্শায় মাদরাসা ছাত্রীকে কু-প্রস্তাব ও শ্লীলতাহানি: প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

শার্শায় মাদরাসা ছাত্রীকে কু-প্রস্তাব ও শ্লীলতাহানি: প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

প্রকাশিত: ২:১১ অপরাহ্ণ , ৩ জুলাই ২০২৬, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

মো.সাহিদুল ইসলাম শাহীন:- যশোর জেলার শার্শা উপজেলার সামটা সিদ্দিকীয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার প্রধান শিক্ষক মোমিনুর ইসলামের (৫৫) বিরুদ্ধে এক ছাত্রীকে কু-প্রস্তাব, শ্লীলতাহানির চেষ্টা এবং জোরপূর্বক মাদরাসা থেকে টিসি (ছাড়পত্র) দেওয়ার অভিযোগে শার্শা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ছাত্রী ফাতেমা খাতুনের পিতা মো. মোস্তফা কামাল (৫৬) বাদী হয়ে এই অভিযোগ দায়ের করেন।

​অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিবাদী মো. মোমিনুর ইসলাম (পিতা: মৃত আইজুদ্দীন মোড়ল) সামটা সিদ্দিকীয়া ফাজিল মাদরাসার প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত থাকাকালীন দীর্ঘ দিন ধরে ওই মাদরাসার ছাত্রী ফাতেমা খাতুনকে বিভিন্ন সময় কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল।

শিক্ষকের ভয়ে ছাত্রী প্রথমে বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রাখে। পরবর্তীতে কু-প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় উক্ত শিক্ষক ছাত্রীকে পরীক্ষায় অংশ নিতে না দেওয়া এবং আর্থিক ক্ষতিসহ বিভিন্ন প্রকার হুমকি-ধামকি প্রদান করতে থাকে। এমনকি গভীর রাতে ছাত্রীর বাড়িতে গিয়ে কথা বলার জন্য পায়তারা করতো বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

​ঘটনার ধারাবাহিকতায়, গত ১৮ জুন ২০২৬ ইং তারিখ রাত আনুমানিক ৮:৩০ ঘটিকায় বিবাদী মোমিনুর ইসলাম ছাত্রীর বাবা-মায়ের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে আকস্মিকভাবে তাদের বাড়িতে প্রবেশ করে। বাড়িতে কেউ না থাকার সুযোগে তিনি জোরপূর্বক ছাত্রীর ঘরে ঢুকে তাকে জাপটে ধরে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে।

এসময় ছাত্রী বাধা দিলে এবং তার কথা না শুনলে বড় ধরনের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে শিক্ষক মোমিনুর ইসলাম বাড়ি থেকে চলে যায়। পরে গত ২০ জুন ২০২৬ তারিখে নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রী পুরো বিষয়টি তার পিতাকে অবগত করে।

​অভিযোগে আরও জানা যায়, এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার প্রতিবাদ ও কারণ জানতে গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে ছাত্রীর পিতা মোস্তফা কামাল মাদরাসায় গেলে প্রধান শিক্ষক মোমিনুর ইসলাম তার হাতে একটি কাগজ ধরিয়ে দেয় এবং জানায় যে, তার কন্যাকে মাদরাসা থেকে টিসি (ছাড়পত্র) দিয়ে নাম কেটে দেওয়া হয়েছে। এর কারণ জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক উল্টো তাকে বিভিন্ন ধরণের হুমকি ও ভীতি প্রদর্শন করে।

​বর্তমানে প্রধান শিক্ষকের এমন অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং হুমকির মুখে পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতা ও সামাজিকভাবে সম্মানহানির শিকার হচ্ছেন।

এই পরিস্থিতিতে নিরুপায় হয়ে ভুক্তভোগী ছাত্রীর পিতা শার্শা থানায় হাজির হয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে শার্শা থানার নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শামিমুল হক জানান, অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর