• অপরাধ রাজশাহী
  • লালপুরে পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয় ৮ শিক্ষার্থীর ফর্ম ফিলাপের টাকা আত্মসাৎ: অভিযুক্ত গ্রেফতার

লালপুরে পুলিশের প্রেস ব্রিফিংয় ৮ শিক্ষার্থীর ফর্ম ফিলাপের টাকা আত্মসাৎ: অভিযুক্ত গ্রেফতার

প্রকাশিত: ৯:০৫ পূর্বাহ্ণ , ৪ জুলাই ২০২৬, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 3 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

নাটোরের লালপুর উপজেলার আব্দুলপুর সরকারি কলেজের ৮ শিক্ষার্থীর এইচএসসি পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মুল অভিযুক্ত ওই কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শনিবার (৪ জুলাই) বেলা ১২টায় লালপুর থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ ইফতে খায়ের আলম এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

এই ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুলপুর সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোছাঃ ইসরাত জাহান সূচির পরিবারের পক্ষ থেকে লালপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

​পুলিশ জানায়, গত ১২ মার্চ ইসরাত জাহান সূচি এইচএসসি পরীক্ষার ফর্ম ফিলাপের জন্য তিন হাজার পাঁচশ টাকা নিয়ে কলেজের অফিস কক্ষের সামনে যান। সেখানে কলেজের অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকারের সাথে তার দেখা হয়।

অমিত কুমার সরকার সূচিকে অফিসে আসার কারণ জিজ্ঞাসা করলে সূচি ফর্ম ফিলাপের কথা জানায়। তখন অভিযুক্ত অমিত কুমার সরকার তাকে আশ্বাস দিয়ে বলেন যে, টাকা, ছবি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তার কাছে জমা দিলে তিনিই ফর্ম ফিলাপ সম্পন্ন করে দেবেন।

সরল বিশ্বাসে সূচি ফর্ম ফিলাপের টাকা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অমিতের কাছে জমা দিয়ে বাড়ি ফিরে আসেন। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে ফর্ম ফিলাপের বিষয়ে খোঁজ নিতে চাইলে অমিত কুমার সরকার সময়মতো কাজ হয়ে যাবে বলে আশ্বস্ত করতে থাকেন।

​ঘটনার মোড় ঘোরে গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে, যখন কলেজে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র বিতরণ শুরু হয়। সূচি কলেজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে অভিযুক্ত অমিত কুমার সরকার সূচির মায়ের মোবাইল নম্বরে ফোন করে জানান যে, প্রিন্সিপাল স্যার প্রবেশপত্র আনার জন্য রাজশাহীতে আছেন, তাই তাকে পরের দিন কলেজে আসতে বলা হয়।

​পরদিন ৩০ জুন ২০২৬ তারিখ সকালে সূচি এবং তার বাবা কলেজে গেলে অমিত কুমার সরকার তাদের জানান যে, প্রবেশপত্রে কিছু সমস্যা থাকার কারণে তা সংশোধনের জন্য রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে এবং সংশোধন শেষে তা প্রদান করা হবে।

পরে পহেলা জুলাই ২০২৬ সকালে অমিত পুনরায় সূচির মায়ের মোবাইলের নম্বরে ফোন করে জানান যে, প্রবেশপত্রের সমস্যা সমাধানের জন্য তিনি নিজেই রাজশাহী যাচ্ছেন।

​অফিস সহকারীর এমন দফায় দফায় অসংলগ্ন কথাবার্তায় সূচির বাবার মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তিনি কালবিলম্ব না করে ওই দিনই (১লা জুলাই) সকালে মেয়েকে সাথে নিয়ে আব্দুলপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষের দ্বারস্থ হন। অধ্যক্ষ কম্পিউটারে ডাটাবেজ যাচাই করে জানান যে, ইসরাত জাহান সূচির ফর্ম ফিলাপ আদৌ করা হয়নি।

​এর মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, অভিযুক্ত অফিস সহকারী অমিত কুমার সরকার সূচির নিকট থেকে ফর্ম ফিলাপের টাকা গ্রহণ করলেও তা বোর্ডে জমা না দিয়ে সম্পূর্ণ টাকা আত্মসাৎ করেছেন এবং প্রবেশপত্র দেওয়ার নাম করে এতদিন মিথ্যা ও প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন।
​
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ ইফতে খায়ের আলম আরও জানান, ছাত্রীর শিক্ষাজীবন নিয়ে এমন প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে।

অভিযুক্ত অমিত কুমার সরকারকে ইতিমধ্যে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে লালপুর থানায় নিয়মিত মামলা রুজু করে আদালতে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।