ট্রেনে ফেলে যাওয়া স্বর্ণ-টাকা ফিরিয়ে দিলেন মোশারফ জেলা পরিষদের সংবর্ধনা

প্রকাশিত: ৪:২৭ অপরাহ্ণ , ২ আগস্ট ২০২৬, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

আমিনুল ইসলাম আহাদঃ ট্রেনে যাত্রীর ফেলে যাওয়া স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিয়ে সততার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় স্টুয়ার্ড গার্ড এস. এম. মোশারফ হোসেনকে সংবর্ধনা দিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদ।

আজ রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ মোশারফ হোসেনকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান এবং আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান করেন। এ সময় তিনি মোশারফের সততা ও দায়িত্ববোধের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

জানা যায়, সম্প্রতি ট্রেনে যাত্রীর ফেলে যাওয়া স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনা স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি জেলা পরিষদের প্রশাসকের নজরে আসে।

পরে তিনি জানতে পারেন, মোশারফ হোসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল ইউনিয়নের মোহাম্মদপুর গ্রামের মৃত এম. এম. মজনু হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌর শহরের কাউতলীতে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।

এরপর তাকে জেলা পরিষদ কার্যালয়ে আমন্ত্রণ জানিয়ে সংবর্ধনা দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আজম, সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান শাহীন, কেন্দ্রীয় যুবদলের সদ্য বিদায়ী কুমিল্লা বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদকসহ জেলা পরিষদের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

ঘটনার সূত্রপাত গত ১৫ জুলাই। সেদিন বিকেলে ছেড়ে যাওয়া ৭০৩ নম্বর গোধূলি এক্সপ্রেসের ‘ঘ’ কোচে দায়িত্ব পালন করছিলেন স্টুয়ার্ড গার্ড এস. এম. মোশারফ হোসেন।

নরসিংদী স্টেশনে কেবিন নম্বর ৬-এর যাত্রীরা নেমে যাওয়ার পর তিনি একটি পলিথিনের ভেতরে থাকা জর্দার কৌটা উদ্ধার করেন। কৌটার ভেতরে ছিল প্রায় দেড় ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন এবং নগদ দুই হাজার টাকা।

কিছুক্ষণ পর ওই যাত্রীরা মোবাইল ফোনে তাদের মূল্যবান জিনিসপত্র হারানোর বিষয়টি জানালে মোশারফ হোসেন তাদের আশ্বস্ত করেন যে উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা নিরাপদে তার কাছেই রয়েছে।

পরে ৭৪২ নম্বর তূর্ণা এক্সপ্রেসে ভৈরব বাজার রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে রাত প্রায় ১টা ৫০ মিনিটে প্রকৃত মালিকের পরিচয় নিশ্চিত করে তিনি স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা তাদের হাতে বুঝিয়ে দেন।

ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমেও গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়। এরপর থেকেই মোশারফ হোসেনের সততার প্রশংসা ছড়িয়ে পড়ে।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, “বর্তমান সময়ে সৎ মানুষ পাওয়া খুবই কঠিন।

মোশারফ হোসেন যে কাজটি করেছেন, তা শুধু তার নিজের নয়, পুরো ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর মুখ উজ্জ্বল করেছে। আমি তার এই সততার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর