বিএমএসসির খাগড়াছড়ি জেলা ও সরকারি কলেজ কমিটির কাউন্সিল সম্পন্ন

প্রকাশিত: ৩:৪৬ পূর্বাহ্ণ , ২৯ আগস্ট ২০২৬, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 month আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

বাংলাদেশ মারমা স্টুডেন্টস্ কাউন্সিলের (বিএমএসসি) ২০তম খাগড়াছড়ি জেলা ও ১৫তম খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ কমিটির কাউন্সিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল শুক্রবার (২৮ আগস্ট) খাগড়াছড়ির নুনছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। উদ্বোধন করেন ড. রেডামা চৌধুরী। উদ্বোধনী পর্বে জাতীয় ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে অতিথিদের ফুলের ব্যাচ পরিয়ে বরণ এবং সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনায় ত্রিপিটক পাঠ করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিএমএসসির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক পাইউমং মারমা স্বাগত বক্তব্য দেন। সাংগঠনিক বক্তব্য দেন সংগঠনের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মংক্যচিং মারমা।

আলোচনায় বক্তারা মারমা শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, কারিগরি দক্ষতা, বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে আরও সম্পৃক্ত হওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন। গুগড়াছড়ি পঞ্ঞা রংখ্রে লাইব্রেরির ভূমিদাতা উ কংজাইরী মারমা পড়াশোনার পাশাপাশি কারিগরি দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষ অতিথি মিলকি মারমা বলেন, তরুণদের একটি অংশ মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক সমস্যায় জড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে তিনি মারমা তরুণদের মধ্যে উচ্চশিক্ষা ও বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, সমাজের নেতৃত্বে তরুণদের আরও কার্যকর ভূমিকা রাখা প্রয়োজন।

শিশু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা ড. মিসাইনু মারমা বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে বিভিন্ন পেশায় দক্ষ ও শিক্ষিত মানুষের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। সরকারি-বেসরকারি চাকরির পাশাপাশি লেখালেখি, শিল্পচর্চা, উদ্যোক্তা তৈরি ও কারিগরি দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। পাশাপাশি সংগঠনের কার্যক্রমের প্রশংসা করেন।

বিএমএসসির সভাপতি নুমংপ্রু মারমা সংগঠনের সার্বিক কার্যক্রম ও মারমা সমাজের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ন্যায্য অধিকারসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিএমএসসি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও সংগঠনটি তার কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে।

বিএমএসসির সাবেক সংগঠক উথান মারমা বলেন, সংগঠনের স্বাতন্ত্র্য ও সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা ধরে রেখে ভবিষ্যতে এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি শিক্ষিত সমাজ গঠনে পাঠাগারের গুরুত্ব তুলে ধরে গুগড়াছড়ি পঞ্ঞা রংখ্রে লাইব্রেরির বিভিন্ন কার্যক্রমের কথাও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে হতাশ না হয়ে শিক্ষার্থী ও তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী থাকার আহ্বান জানান।

উদ্বোধক ড. রেডামা চৌধুরী তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের নানা প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরে বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও হতাশ না হয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এ সময় বিএমএসসির প্রতিষ্ঠালগ্নের সঙ্গে যুক্ত উ এম ক্য মংয়ের অবদানের কথাও স্মরণ করেন তিনি।

কাউন্সিলে ১৫তম খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ কমিটিতে সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন উচিং মারমা, সাধারণ সম্পাদক ক্যসানু মারমা, সাংগঠনিক সম্পাদক উচিংথৈ মারমা, নারী সম্পাদক কাকলী মারমা এবং অর্থ সম্পাদক উক্যহ্লা মারমা।

অন্যদিকে ২০তম খাগড়াছড়ি জেলা কমিটিতে সভাপতি নিংথোয়াই মারমা, সাধারণ সম্পাদক অংগ্য মারমা, সাংগঠনিক সম্পাদক থোয়াইচিং মারমা, নারী বিষয়ক সম্পাদক ম্রাসাইন্দা চৌধুরী এবং অর্থ সম্পাদক চিংসামং মারমা নির্বাচিত হয়েছেন।

অনুষ্ঠানে সঞ্চালকের দায়িত্ব পালন করেন নিংথোয়াই মারমা। ১৯তম খাগড়াছড়ি জেলা কমিটির বিদায়ী সভাপতি ওয়াপাই মারমার সভাপতিত্বে কাউন্সিল ও আলোচনা সভার সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর