উল্লাপাড়ায় খিড়ার দাম কমেছে

আড়তে আমদানী শত শত মণ এরপর এখনকার দামে কৃষক খুশী

প্রকাশিত: ১:৩৭ অপরাহ্ণ , ২২ ডিসেম্বর ২০২৪, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন

সাহারুল হক সাচ্চু,উল্লাপাড়াঃ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় এখন খিড়া ফসলের দাম কমেছে। এক মণ দেশী জাতের খিড়া এক হাজার থেকে এগারোশো টাকা মণ দরে কেনাবেচা হচ্ছে। হাইব্রিড জাতের খিড়া ফসল দেশী জাতের খিড়ার দামের চেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে।

উল্লাপাড়ার বর্ধনগাছা এলাকার খিড়া ফসল কেনাবেচায় পাইকারী আড়ত দুটিতে এ দামে কেনাবেচা হচ্ছে। এরপরও এখনকার দামে খিড়া আবাদকারী কৃষকেরা খুশী বলে জানা গেছে। এদিকে দুটি আড়তে প্রতিদিন শত শত মণ খিড়া ফসল আমদানী হচ্ছে। কৃষকেরা মাঠ তুলে এনে এখানে বেচছেন।

উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি অফিস থেকে জানা গেছে এবারের মৌসুমে ২৪০ হেক্টর পরিমাণ জমিতে খিড়া ফসলর আবাদ হয়েছে। উপজেলার কয়ড়া , মােহনপুর , বড় পাঙ্গাসী ও উধুনিয়া ইউনিয়ন এলাকায় সবচেয়ে বেশী পরিমাণ জমিতে খিড়া ফসলের আবাদ হয়েছে । কৃষকরা দেশীয় ও হাইব্রিড দুই জাতের খিড়া ফসলের আবাদ করেছেন।

এর মধ্যে বেশী পরিমাণ জমিতে হাইব্রিড জাতের খিড়া ফসল আবাদ হয়েছে বলে জানা গেছে। বড় পাঙ্গাসী ইউনিয়নের খাদুলী, উধুনিয়া ইউনিয়নের বাগমারা , কয়ড়া ইউনিয়নর রতনদিয়ার, ভাগলপুর ও সড়াতলা মাঠের বহু জমিতে কৃষকেরা দুই জাতেরই খিড়া ফসলের আবাদ করেছেন।

এখন সেসব জমির খিড়া ফসল আড়তগুলো ছাড়াও এলাকার হাট বাজারে পাইকারী দরে কেনাবেচা হচ্ছে। উপজেলার বর্ধনগাছা মােড় খিড়া আড়তে গিয়ে দেখা গেছে বহু ব্যবসায়ী কৃষকদের কাছ থেকে খিড়া কিনছেন। কৃষকেরা ভ্যান , ট্রলি ছাড়াও নানা বাহনে খিড়া আনছেন।

ব্যবসায়ীরা দর দাম মিটিয়ে কিনে নেওয়া খিড়া মোকাম বাজারে পাঠানোর জন্য পানিতে ধুয়ে তা বস্তাজাত করছেন। এক মণ খিড়া এক হাজার টাকা থেকে এগারোশো টাকা দরের মধ্যে কেনাবেচা হচ্ছে । ব্যবসায়ীরা এ দামে কৃষকদের কাছ থেকে কিনছেন।

বিভিন্ন এলাকার কৃষকেরা মাঠের জমি থেকে খিড়া তুলে বেচতে বর্ধনগাছা আড়তে আনছেন। কৃষক আনছার আলী বলেন তিনি প্রথম দিকে দেড় হাজার টাকা মণ দরে বেচেছেন। সে সময় আড়তে আমদানী কম পরিমাণ ছিল। তিনি শুক্রবার সাড়ে চার মণ এনে এক হাজার আশি টাকা মণ দরে বেচলেন।

আরো কয়েকজন খিড়া বেচতে আনা কৃষক বলেন এবারে নাবী হয়েছে খিড়ার আবাদ। কৃষক আনছার আলী ও আরো কয়েকজন কৃষক খিড়ার এখনকার দামে মোটামুটি খুশী বলে জানান। এখানকার দুই আড়তে শত শত মণ খিড়া আমদানী ও কেনাবেচা হয়।

আর এখান থেকে খিড়া সরাসরি ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন মােকাম বাজারে নিয়ে পাইকারী বেচা হয়। খিড়া ব্যবসায়ীদের কয়েকজন বলেন সব মোকাম বাজারে এখানকার খিড়ার চাহিদা বেশী বলা চলে।উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সুবর্ণা ইয়াসমিন সুমী বলেন এবারে খিড়ার ভালো ফলন আর দামে কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন।