ইঁদুরের উপদ্রব মোকাবিলায় সাজেকবাসীকে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান

প্রকাশিত: ৪:০১ পূর্বাহ্ণ , ১১ আগস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

ইঁদুরের বারবার উপদ্রবসহ বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় সাজেকের স্থানীয় জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কারিতাস বাংলাদেশ, জাবারাং কল্যাণ সমিতি ও স্থানীয় সরকারের প্রতিনিধিরা।

গতকাল সোমবার (১০আগস্ট ২০২৬) সাজেকে ইঁদুরের উপদ্রবে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে মানবিক সহায়তা বিতরণ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তারা এ আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কারিতাস বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত আঞ্চলিক পরিচালক চয়ন হিউবার্ট রিবেরু বলেন, সংকটের সময়ে বাইরের সহায়তা সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে। তবে দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের জন্য স্থানীয় জনগণের উদ্যোগ, প্রস্তুতি ও সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় সাজেকের মানুষের নিজস্ব সক্ষমতা বাড়াতে হবে। পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দুর্যোগ ও সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সভায় বক্তারা সাজেকের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের জন্য নিরাপদ পানি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বিতরণ করা সহায়তা যথাযথভাবে ব্যবহারের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।

শিয়ালদাই রুইলুই মৌজার হেডম্যান জৌপৈথাং ত্রিপুরার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, কারিতাস বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান এলেক্স ত্রিপুরা, কারিতাস বাংলাদেশের আঞ্চলিক কার্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মসূচির কর্মকর্তা ড্যানিয়েল শিপু গোমেজ, প্রকল্পের আইপি ফোকাল বিদ্যুৎ জ্যোতি চাকমা এবং সাজেক ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বন বিহারী চাকমা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন মচরন ত্রিপুরা।

অনুষ্ঠান শেষে সাজেককে ভবিষ্যৎ সংকট মোকাবিলায় আরও সক্ষম করে তুলতে স্থানীয় পর্যায়ে ঐক্য, আত্মনির্ভরতা ও দীর্ঘমেয়াদি কমিউনিটি উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

জানা গেছে, ‘Humanitarian Assistance to Rat Flood Affected People in Rangamati District’ প্রকল্পের আওতায় সাজেকে ইঁদুরের উপদ্রবে ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। CAFOD ও Caritas Hong Kong-এর সহায়তায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে জাবারাং কল্যাণ সমিতি, সহযোগী হিসেবে রয়েছে কারিতাস বাংলাদেশ।

প্রকল্পের আওতায় মোট ৫৫০ জন ক্ষতিগ্রস্তকে সহায়তা দেওয়ার কথা রয়েছে। এর অংশ হিসেবে সোমবার ১৮৬ পরিবারের মধ্যে মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হয়।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর