উল্লাপাড়ায় তিন গ্রামে টুপি তৈরী কারখানা গ্রামীণ গৃহবধূরা কাজ করেন

প্রকাশিত: ৫:৫৬ পূর্বাহ্ণ , ১১ মার্চ ২০২৫, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন

সাহারুল হক সাচ্চু,উল্লাপাড়াঃ সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় তৈরী টুপি গোটা দেশে বিভিন্ন মোকাম বাজারে বিক্রি হচ্ছে। তিন গ্রামে টুপি তৈরীর প্রায় পনেরোটি কারখানা হয়েছে। কারখানা মালিকদের ভাগ্যে বদল এসেছে। প্রায় সবাই টাকাওয়ালা হয়েছেন। এলাকার নারী ও পুরুষ মিলে প্রায় দুইশো জনের কর্মের ব্যবস্থা হয়েছে।

উপজেলার সলঙ্গা ইউনিয়নের নাইমুড়ি , পুরানবেড়া ও তেলকুপি গ্রামে বছর চারেক সময়ে মাথার টুপি ( নামাজ পরার টুপি) তৈরীর বড় ছোটো মিলে প্রায় পনেরোটি কারখানা হয়েছে। এর মধ্যে নাইমুড়ি গ্রামে বড় ছোটো মিলে দশটি কারখানা গড়ে উঠেছে বলে জানা গেছে।

নাইমুড়ি গ্রামে কারখানা মালিকেরা হলেন – সেলিম রেজা , রেজাউল করিম মর্তুজ , সবুজ , আশরাফ আলী , হাফিজুর রহমান , জাকির হোসেন , পলাশ , বাচ্চু মিয়া , ফরমান আলী ও রেজাউল করিম। এদের মধ্যে রেজাউল করিম প্রথম নাইমুড়িতে টুপি তৈরীর কারখানা করেন। একই সলঙ্গা ইউনিয়নের পুরানবেড়া গ্রামের জুয়েল মিয়া আগে ঢাকায় একটি তৈরী পোশাক কারখানায় চাকুরী করতেন।

এখন নিজ বাড়ীতে টুপি তৈরীর কারখানা করেছেন। বিভিন্ন এলাকায় মোকামে তার কারখানায় তৈরী টুপি বিক্রি হয়। একই গ্রামের আশরাফ আলী , ইদ্রিস মিয়া ও পাশের তেলকুপি গ্রামের একজন টুপি তৈরীর কারখানা করেছেন।

নাইমুড়ি গ্রামের সেলিম রেজা প্রায় দুই বছর হলো কারখানা করেছেন। এখন নয়টি মেশিন বসিয়েছেন। তিনি বছর আড়াই আগে রাজমিস্ত্রী পেশায় ছিলেন। তার কারখানায় গ্রামের বেশী সংখ্যক নারী শ্রমিক কাজ করছেন। সবাই গ্রামীণ গৃহবধূ ।

প্রতিবেদককে গৃহবধূ নাজমা খাতুন ও জয়নব খাতুন অনেক দিন ধরে সেলিম রেজার কারখানায় কাজ করছেন। এরা কারখানায় কাজ করে প্রতি মাসে পাচ থেকে সাড়ে পাচ হাজার টাকা আয় করে বলে জানান।

প্রতিবেদককে কারখানা মালিক সেলিম রেজা , এলাকার ইউপি সদস্য মো. শরীফ বলেন এখানকার টুপি তৈরীর কারখানায় নারী ও পুরুষ মিলে প্রায় দুইশো জনের কর্মের ব্যবস্থা হয়েছে। বিভিন্ন এলাকার মোকামে এখানকার তৈরী টুপির চাহিদা বাড়ছে।

আঃ রাজ্জাক টুপি প্রায় সাত বছর ধরে নাইমুড়ি বাজারে টুপি ব্যবসায় জড়িত আছেন। তিনি এখানকার বেশীর ভাগ কারখানার টুপি পাইকারী কিনে দেশের বিভিন্ন এলাকার মোকাম বাজারে বিক্রি করেন।

এছাড়া এলাকার ব্যবসায়ী ও বহু গ্রাম্য ফেরিওয়ালা তার কাছ থেকে পাইকারী দরে টুপি কিনে নেন। প্রতিদিন আট থেকে নয় হাজার পিচ টুপি তিনি বিক্রি করেন বলে জানান।