
মো.সাহিদুল ইসলাম শাহীনঃ- ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব নুরুজ্জামান লিটনের সাথে শার্শা উপজেলা কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশনের শিক্ষক- শিক্ষিকাদের সাথে আলোচনা সভা ও মতবিনিময় অনুষ্টিত হয়।
শনিবার(২৪ জানুয়ারি) দুপুর ১টার দিকে বেনাপোল সি এন্ড এজেন্ট এসোসিয়েশন ভবনের পিছনের মাঠে এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা কিন্ডার গার্টেন এসোসিয়েশনের সভাপতি মোঃ নূরুল ইসলাম। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন ৮৫,যশোর-১ শার্শা আসনে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী ধানের শীষের মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব মো. নুরুজ্জামান লিটন ৷ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শিক্ষক সোহরাব হোসেন।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করা হয়। কোরআন তেলাওয়াত করেন শিক্ষক আব্দুল্লাহ।
সংগঠনটি’র স্বাগতিক বক্তব্য শেষে প্রধান অতিথি সংসদ প্রার্থী মো.নুরুজ্জামান লিটন তার বক্তব্যে বলেন, স্কুলগুলোতে শিক্ষার আন্তরিকতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে, বিশেষ করে সরকারি বা সাধারণ স্কুলগুলোতে শিক্ষকদের উপস্থিতি অনেক কম। শিক্ষকরা যেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনেকটা নিজেদের পরিবারের মত ব্যবহার করছেন, যা শিক্ষার গুণগত মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
অন্যদিকে, কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোর ভূয়োসী প্রশংসা করে বলেন,কিন্ডারগার্টেন স্কুলগুলোতে বেতন কম হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষকরা বেশ নিয়মানুবর্তী। তারা সঠিক সময়ে স্কুলে আসছেন এবং দায়িত্বের সাথে শিক্ষার্থীদের ক্লাস নিচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা পড়া কেমন পারছে সে বিষয়েও শিক্ষকরা নিয়মিত তদারকি করছেন।
তিনি কিন্ডারগার্টেনগুলোর সাপ্তাহিক বা মাসিক পরীক্ষার প্রশংসা করেন, যা সাধারণ স্কুলগুলোতে সচরাচর দেখা যায় না।
পরিশেষে বক্তা কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষকদের নিরলস প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানান।
বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং কিন্ডারগার্টেনগুলোর মধ্যে এক ধরণের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অভিভাবকরা সচেতন হয়ে উঠছেন এবং তাঁরা যেখানে উন্নত শিক্ষার নিশ্চয়তা পাচ্ছেন, সেখানেই তাঁদের সন্তানদের ভর্তি করাচ্ছেন।
শিক্ষকরা সমাজের অত্যন্ত সম্মানিত এবং প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি। সমাজ গঠনে তাঁদের অবদান অপরিসীম। শিশুদের সঠিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি। এই শিশুরা যদি মানসম্মত ফলাফল করে এবং সঠিক শিক্ষা পায়, তবেই তারা আগামী দিনে দেশের যোগ্য নাগরিক এবং সমাজের ভবিষ্যৎ হয়ে উঠবে।
বড় রাজনৈতিক দল থেকে সংসদ সদস্য (MP) পদে মনোনয়ন পাওয়াকে অত্যন্ত কঠিন কাজ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি তার মনোনয়ন পাওয়াকে একটি বড় অর্জন বা “পাহাড়ের মতো শক্ত কাজ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন সম্মান দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ।
মানুষের চেষ্টা থাকলেও আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া সম্মান পাওয়া সম্ভব নয়। তিনি মন্তব্য করেছেন যে, যদি কেউ আল্লাহর প্রিয়পাত্র হয় এবং আল্লাহ যদি তাকে উঁচুতে নিয়ে যেতে চান, তবে কেউ তাকে টেনে নিচে নামাতে পারবে না। মানুষের বাধা হয়তো সাময়িক কষ্ট দিতে পারে, কিন্তু তাকে আটকে রাখা সম্ভব নয়।
জনসাধারণ তাঁকে যে সম্মান দিয়েছে, তা রক্ষা করার দায়িত্ব এখন তাঁদেরই। তিনি নিজেকে কেবল একজন প্রতিনিধি হিসেবে নয়, বরং জনগণের সেবক হিসেবে দেখছেন। আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শুধুমাত্র ‘এমপি’ (সংসদ সদস্য) হওয়াই বড় কথা নয়; মানুষের জন্য কাজ করার মানসিকতা ও শক্তি থাকা জরুরি।
তিনি একজন সাবেক এমপির উদাহরণ দিয়ে বলেন, যিনি নির্বাচিত হওয়ার পর আর এলাকায় আসেননি। বক্তার মতে, এমন জনপ্রতিনিধি হয়ে কোনো লাভ নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি তিনি জনগণের সুখ-দুঃখে পাশে না থাকতে পারেন বা শার্শা উপজেলা ও বেনাপোলকে উন্নতভাবে গড়তে না পারেন, তবে তাঁর সংসদ সদস্য হওয়ার কোনো সার্থকতা নেই। জনগণের চাওয়া-পাওয়া পূরণ করাই তাঁর মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
রাজনীতিবীদ আলহাজ আলী কদর সাহেবের উদাহরণ দিয়ে বলেন, তিনি প্রচুর সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও রাজনীতি থেকে কখনো ব্যক্তিগত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করেননি। বরং এমপি বা চেয়ারম্যান থাকাকালীন তিনি নিজের অর্থ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করেছেন। যারা এমপি হতে চান বা রাজনীতিতে আসতে চান, তাদের প্রথমেই নিজেদের জনসেবক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
এই মানসিকতা ছাড়া রাজনীতিতে আসা উচিত নয় বলে তিনি মনে করেন। নিজের জীবনের প্রাপ্তি নিয়ে সৃষ্টিকর্তার কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, কম বয়সেই তিনি আল্লাহ্র রহমতে পর্যাপ্ত সম্পদের মালিক হয়েছেন। ঢাকা এবং যশোরে তার নিজের বাড়ি ও অফিস আছে, যা তিনি প্রত্যাশার চেয়েও বেশি বলে মনে করেন।
নুরুজ্জামান লিটন বলেন, তিনি কারো সাথে কখনও উচ্চবাক্যে কথা বলেননি, এটি তার ছোটবেলা থেকেই অভ্যাস। তিনি জনগণের ভাই ও বন্ধু হিসেবে ২৪ ঘণ্টা তাদের সেবা করার প্রতিশ্রুতি দেন। তার তরুণ বয়সের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেবা করার জন্য বয়সের একটি গুরুত্ব রয়েছে।
তিনি নবীজীর (সা.) ৪০ বছর বয়সে নবুওয়াত পাওয়ার উদাহরণ টেনে বলেন যে, শরীরিক সক্ষমতা বজায় থাকা অবস্থায় দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রচার ও কাজ করা সহজ হয়। তিনি জনগণের কাছে তাকে একবার সুযোগ দেওয়ার জন্য করজোড়ে অনুরোধ জানান।
তিনি আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে উপস্থিত সবার কাছে সুযোগ প্রার্থনা করেন। তিনি তাদের সেবা করতে চান এবং ভাই ও বন্ধু হিসেবে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, তাকে সুযোগ দেওয়া হলে তিনি ২৪ ঘণ্টা জনগণের সেবায় নিয়োজিত থাকবেন এবং তাদের প্রতিটি কথা শুনতে বাধ্য থাকবেন।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির...
দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আবারও বাস পড়ল নদীতে
দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আবারও বাস...
নালিতাবাড়ীর পাহাড়ি রাস্তায় রোপণ হবে হাজারো কৃষ্ণচূড়ার চারা
নালিতাবাড়ীর পাহাড়ি রাস্তায় রোপণ হবে হাজারো...
শেরপুরে বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু
শেরপুরে বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু
গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা
গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা
জেলা ইমাম সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত
জেলা ইমাম সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত