কেন্দুয়ায় বাক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা

প্রকাশিত: ৩:৪৮ পূর্বাহ্ণ , ৩০ আগস্ট ২০২৬, রবিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 month আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

মজিবুর রহমান,নেত্রকোণা: কথা বলতে পারেন না তিনি। নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের বর্ণনাও কাউকে মুখে বলতে পারেননি। তবে কান্না আর হাতের ইশারায় বোঝানোর চেষ্টা করেছিলেন—তার সঙ্গে ঘটে গেছে ভয়াবহ এক ঘটনা। সেই অভিযোগের পরও বিষয়টি পুলিশের কাছে না জানিয়ে স্থানীয়ভাবে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

অবশেষে ঘটনাটি জানাজানি হলে পুলিশ নিজ উদ্যোগে ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই বাক প্রতিবন্ধী নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়।

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার গড়াডোবা ইউনিয়নের এক পল্লীতে ৩০ বছর বয়সী এক বাক প্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে এ মামলা হয়েছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) মামলা রুজুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেন্দুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ওই নারী তার চাচার বাড়ির পেছনে গোসলখানায় গোসল করতে যান। সেখানে ওত পেতে থাকা প্রতিবেশী আলম মিয়ার ছেলে তোফাজ্জল হোসেন (২০) কৌশলে গোসলখানার ভেতরে প্রবেশ করেন।

প্রায় আধাঘণ্টা পর তোফাজ্জল গোসলখানা থেকে বের হয়ে গেলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে কয়েকজন ভেতরে গিয়ে দেখতে পান, বাক প্রতিবন্ধী ওই নারী কান্না করছেন। এ সময় তিনি হাতের ইশারায় উপস্থিত লোকজনকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, তোফাজ্জল তার সঙ্গে জঘন্য আচরণ করেছে।

এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত তোফাজ্জল পলাতক রয়েছে।তবে অভিযোগ উঠেছে, এমন গুরুতর ঘটনার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে না জানিয়ে স্থানীয় ভাবে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

পরবর্তীতে ঘটনাটি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে শুক্রবার গভীর রাতে কেন্দুয়া থানা পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত দামিনা গ্রামে গিয়ে ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

কেন্দুয়া থানার ওসি মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, ঘটনার বিষয়ে পুলিশকে আগে কেউ অবগত করেনি। পরে খবর পেয়ে পুলিশ নিজ উদ্যোগে ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাথমিক তদন্ত করে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বড় ভাইয়ের স্ত্রী বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত তোফাজ্জল হোসেন পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর