
মজিবুর রহমানঃ নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় এক শিক্ষক কর্তৃক ছাত্রীকে শীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে নুরেছা দুখিয়ারগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
অভিযোগকারিণী ভিকটিমসহ আরও দুইজন শিক্ষার্থী ঘটনার প্রতিবাদস্বরূপ চলমান প্রথম প্রান্তিক মূল্যায়ন-২০২৫ পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এতে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে।
ভিকটিমের পরিবারের অভিযোগ,গত ৫ মে সোমবার রাত ৮টার দিকে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার নুরেছা দুঃখেয়ারগাতী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে পঞ্চম শ্রেণির ৪ জন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতে নিয়ে যায় একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সাইদুল ইসলাম ওরফে চান মিয়া।
কিছুক্ষণ পরে ভিকটিম মেয়েটি তার ঘুম ঘুম ভাব আসায় ছুটি চাওয়ায় ধমকসহ একটি থাপ্পড় মাড়েন শিক্ষক চানমিয়া। একই সাথে অন্য একটি কক্ষে নিয়ে শীলতাহানির চেষ্টা চালালে ভিকটিমের চেঁচামিচি শুনে অন্য সহপাঠী মেয়েরা ছুটে যায় এবং তাদের ডাক চিৎকারের আশেপাশে লোকজন ছুটে এসে তাদেরকে উদ্ধার করেন।
ঘটনা পরপরই বিষয়টি মিটমিমাংসা চেষ্টা হয়। কিন্তু ভিকটিমের পরিবার এসব কিছু কর্ণপাত না করে রাতেই থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা নেয়নি থানার পুলিশ। এ ঘটনায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী পরিবারের।
এদিকে ঘটনার পরেরদিন এলাকায় উত্তপ্ত পরিবেশ সৃষ্টি হলে স্কুল বন্ধ রাখে বিদ্যালয় কতৃপক্ষ। বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও শিক্ষা অফিসারসহ আরো কয়েকজন অফিসার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ইউএনও রাতে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রহিমা আক্তারকে আহবায়ক করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। ওই কমিটির তদন্ত রিপোর্ট ৭ মে মধ্যে দেওয়ার কথা থাকলে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে রিপোর্ট লিখা পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি কমিটি।
এ অবস্থায়,ভিকটিমের সঙ্গে একমত হয়ে তার আরও দুইজন সহপাঠীও প্রথম দিনের বাংলা বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেন। তারা বলেন, “এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত আমরা পরীক্ষা বর্জন করবো।”
এ ঘটনায় অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ঘটনাটির নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী করছেন নেটিজনরা।
ভিকটিমসহ তিন ছাত্রী পরীক্ষায় অংশ না নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজুল ইসলাম জানান, “ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক সাইদুল ইসলাম ওরফে চান মিয়া, অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন,“তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে এবং তিনি নির্দোষ।” তবে রাতে স্কুল কক্ষে প্রাইভেট পড়ানো ও ভিকটিমকে থাপ্পড় মেরেছেন বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি।
এবিষয়ে জানতে তদন্ত কমিটির আহবায়ক রহিমা আক্তারের মুটোফোনে বারবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
কেন্দুয়া থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান,ঘটনার সময় আমি ছুটিতে ছিলাম। শুনেছি প্রশাসনিক একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে এবং রিপোর্ট দেওয়ার কথা ছিল। খুব দ্রুতই পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
ধামইরহাটে মিটারের ত্রুটির অভিযোগে ১ লাখ ৬০ হাজার...
ধামইরহাটে মিটারের ত্রুটির অভিযোগে ১ লাখ...
সাপাহার সীমান্তে নারী পুরুষ ও শিশু সহ ১৭...
সাপাহার সীমান্তে নারী পুরুষ ও শিশু...
নড়াইলের নলিয়া নদীতে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার
নড়াইলের নলিয়া নদীতে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ...
দুমকিতে বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু
দুমকিতে বজ্রপাতে একজনের মৃত্যু
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু সেই গাছ কেটে সরিয়ে দিল...
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দু সেই গাছ কেটে...
যশোর চৌগাছার চাঞ্চল্যকর ঝন্টু হত্যা’র প্রধান আসামি আবু...
যশোর চৌগাছার চাঞ্চল্যকর ঝন্টু হত্যা’র প্রধান...