
পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ছয় মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশু এবং তাদের পরিবারের পুষ্টিগত অবস্থা, স্বাস্থ্যগত সহনশীলতা ও সামগ্রিক কল্যাণ উন্নয়নের লক্ষ্যে “Access to and Utilization of Lifesaving Services by Marginalized Communities in Chittagong Hill Tracts in Bangladesh” শীর্ষক প্রকল্পের জেলা পর্যায়ের অবহিতকরণ সভা সোমবার (৩আগস্ট( সকালে খাগড়াছড়ি পর্যটন মোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় জাবারাং কল্যাণ সমিতি আয়োজিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, শিশুদের অপুষ্টি দূরীকরণে এ ধরনের প্রকল্প অত্যন্ত সময়োপযোগী ও কার্যকর। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
প্রকল্পের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে শিশুদের অপুষ্টি হ্রাস এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুস্থ বিকাশে এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেফালিকা ত্রিপুরা, জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) হাসান মারুফ, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্য রক্তোৎপল ত্রিপুরা, খাগড়াছড়ি জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য এবং হেলেন কেলার ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রতিনিধি এস. এম. খালেদুল আহসান।
সভায় সভাপতিত্ব ও স্বাগত বক্তব্য দেন জাবারাং কল্যাণ সমিতির নির্বাহী পরিচালক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা। প্রকল্পের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য ও সার্বিক কার্যক্রম উপস্থাপন করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী বিনোদন ত্রিপুরা।
অনুষ্ঠানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেন। মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা প্রকল্প বাস্তবায়ন বিষয়ে বিভিন্ন পরামর্শ, সুপারিশ ও মতামত তুলে ধরেন।
আয়োজকরা জানান, প্রকল্পটি ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত খাগড়াছড়ি জেলার ৯টি উপজেলা, ৩৮টি ইউনিয়ন ও ৩টি পৌরসভায় বাস্তবায়িত হবে। প্রায় ৫ কোটি ১৯ লাখ টাকার এ প্রকল্পের মাধ্যমে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের তীব্র অপুষ্টি প্রতিরোধ ও ব্যবস্থাপনা, অপুষ্টিতে আক্রান্ত পরিবারের খাদ্য ও জীবিকা নিরাপত্তা জোরদার এবং নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সুবিধার উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
প্রকল্পের আওতায় স্বাস্থ্যকর্মীদের প্রশিক্ষণ, কমিউনিটি পর্যায়ে পুষ্টি বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি, অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা সহায়তা, নগদ সহায়তা প্রদান, আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সহায়তা, নিরাপদ পানির উৎস নির্মাণ ও সংস্কার এবং ল্যাট্রিন ও হাত ধোয়ার সুবিধা স্থাপনের মতো বহুমুখী উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে বলে সভায় জানানো হয়।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
শেরপুরের বনভূমিকে বন্যহাতির নিরাপদ আবাস-’ল হিসেবে গড়ে তোলার...
শেরপুরের বনভূমিকে বন্যহাতির নিরাপদ আবাস-’ল হিসেবে...
জয়পুরহাটে সনাতন ধর্মের শ্রমিকদের মাঝে পূজার উপহার বিতরণ
জয়পুরহাটে সনাতন ধর্মের শ্রমিকদের মাঝে পূজার...
রাতের আঁধারে জবাই করা গরু ভ্যানে পরিবহন! ক্ষেতলালে...
রাতের আঁধারে জবাই করা গরু ভ্যানে...
শিক্ষাবান্ধব ও সমাজসেবক ইমদাদের উপর আস্থা পৌরবাসীর
শিক্ষাবান্ধব ও সমাজসেবক ইমদাদের উপর আস্থা...
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ও যুব উন্নয়নের পরীক্ষা স্থগিত
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ও যুব উন্নয়নের পরীক্ষা...
চাঁদ দেখা কমিটির সভা রোববার
চাঁদ দেখা কমিটির সভা রোববার