
দহেন বিকাশ ত্রিপুরা, খাগড়াছড়িঃ দুর্গম পাহাড়ি জনপদ থেকে উঠে এসে দীর্ঘ সংগ্রাম, প্রতিকূলতা ও অধ্যবসায়ের মধ্য দিয়ে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. সজীব ত্রিপুরা। গত ৩০ মে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক আবেগঘন স্ট্যাটাসে তিনি জীবনের স্বপ্নপূরণের এই দীর্ঘ যাত্রার গল্প তুলে ধরেন।
ফেসবুক পোস্টে ড. সজীব ত্রিপুরা জানান, জীবনে তিনি তিনটি বড় স্বপ্ন দেখেছিলেন। প্রথম স্বপ্ন ছিল প্রকৌশলী হওয়া, যা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে বিএসসি ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যমে পূরণ হয়।
দ্বিতীয় স্বপ্ন ছিল পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হওয়া, যা ২০১৬ সালে রাঙ্গামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগদানের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হয়। আর তৃতীয় স্বপ্ন ছিল পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে ‘ড. সজীব ত্রিপুরা’ হওয়া, যা ৩০ মে ২০২৬ সালে পূরণ হয়েছে।
তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, প্রত্যন্ত সিন্দুকছড়ি এলাকার অনুন্নত যোগাযোগব্যবস্থা, কাদাময় পথ, দারিদ্র্য ও নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে তাঁর শিক্ষাজীবন অতিক্রম করতে হয়েছে। স্কুলে যাওয়ার জন্য হাঁটুসমান কাদা মাড়িয়ে কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হতো। দুপুরের খাবার ছাড়াই সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত বিদ্যালয়ে কাটানোর অভিজ্ঞতার কথাও তিনি তুলে ধরেন।
নিজের শিক্ষাজীবনে অবদানের জন্য শিক্ষক মংমং মারমার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, মাত্র ১৫০ টাকার বিনিময়ে ইংরেজি ব্যাকরণের ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন তাঁর সেই শিক্ষক, যা পরবর্তী জীবনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
পিএইচডি গবেষণার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ড. সজীব ত্রিপুরা জানান, বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, গবেষণা তহবিল সংগ্রহ, ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা, গবেষণার চাপ, উন্নত প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের সংকট এবং আন্তর্জাতিক জার্নালে বারবার গবেষণাপত্র প্রত্যাখ্যাত হওয়ার মতো কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়েও তিনি থেমে যাননি। নিয়মিত গবেষণা অগ্রগতি উপস্থাপন, প্রতিদিনের কাজের রিপোর্ট জমা এবং কঠোর মূল্যায়ন ব্যবস্থার কারণে তাঁকে অসংখ্য নির্ঘুম রাত পার করতে হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটার সরঞ্জাম, ভর্তির খরচ, বিদেশ যাত্রার ব্যয় এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সহায়তায় আত্মীয়-স্বজন, সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব ও শুভানুধ্যায়ীরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বিশেষভাবে কয়েকজন আত্মীয়, বন্ধু ও শুভাকাঙ্ক্ষীর নাম উল্লেখ করে তিনি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
স্ট্যাটাসের শেষাংশে ড. সজীব ত্রিপুরা তাঁর এই অর্জন পরিবার, শিক্ষক, সহকর্মী, শিক্ষার্থী, বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীদের উৎসর্গ করেন এবং সকলের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের এক সাধারণ কৃষক পরিবারের সন্তান থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং পরবর্তীতে পিএইচডি ডিগ্রিধারী গবেষক হয়ে ওঠার এই গল্প ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অনেকেই এটিকে পার্বত্য অঞ্চলের নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করছেন।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির...
দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আবারও বাস পড়ল নদীতে
দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আবারও বাস...
নালিতাবাড়ীর পাহাড়ি রাস্তায় রোপণ হবে হাজারো কৃষ্ণচূড়ার চারা
নালিতাবাড়ীর পাহাড়ি রাস্তায় রোপণ হবে হাজারো...
শেরপুরে বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু
শেরপুরে বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু
গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা
গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা
জেলা ইমাম সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত
জেলা ইমাম সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত