
নড়াইলের কালিয়া প্যারী শংকর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সহকর্মীদের মারধর, বিদ্যালয় ফাঁকিসহ ছাত্রীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। ৩১ জানুয়ারী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা শিক্ষা অফিসার মো: মহীউদ্দিন।
তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) কালিয়া প্যারী শংকর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ে পরিদর্শন করেছি। ওই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শেখ সাহিদুর ইসলাম ও সহকারী শিক্ষক শেখ তকিবুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে মাউশি থেকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে। সরেজমিনে এসে ভুক্তভোগী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা লিখিত দিয়েছেন। দুই একদিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।
এদিকে ভুক্তভোগী শিক্ষকরা জানান, বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শেখ সাহিদুর ইসলাম কোনো কারণ ছাড়াই শিক্ষকদের সঙ্গে প্রায়ই দুর্ব্যবহার করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক প্রশান্ত বিশ্বাস ও চৈতালী বিশ্বাসকে মারধর করেন সহকারী প্রধান সাহিদুর ইসলাম।
ঘটনারদিন (২৩ অক্টোবর) সকালে ভুক্তভোগী শিক্ষক চৈতালী বিশ্বাস শিক্ষকরুমে গিয়ে দেখেন সহকারী প্রধান শিক্ষক শেখ সাহিদুর ইসলাম অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে বাকবিতন্ডা করছেন। একপর্যায়ে সহকারী শিক্ষক প্রশান্ত বিশ্বাসকে হাতুড়ি দিয়ে মারতে যান সহকারী প্রধান শিক্ষক সাহিদুর ইসলাম। এ সময় তার হাতে ধারালো কাস্তেও ছিল।
চৈতালী বিশ্বাসসহ অন্য শিক্ষকরা ঠেকাতে গেলে সাহিদুর ইসলাম ভুক্তভোগী চৈতালীকে ঘুসি মারেন। ঘুসিটি চৈতালী বিশ্বাসের কলাপের ডান পাশে লেগে রক্তজমাট হয়ে যায়। প্রথমে কালিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন তিনি। এরপর ২৭ অক্টোবর খুলনায় গিয়ে সিটিস্ক্যান করান।
চিকিৎসকের পরামর্শে আহত চৈতালী বিশ্বাসের চিকিৎসা এখনো চলছে। মাথার সমস্যা ঠিক হয়নি। এ ঘটনার বিচার চেয়ে প্রধান শিক্ষক দীপ্তি রানী বৈরাগী বরাবর লিখিত আবেদন করেন ভুক্তভোগী শিক্ষক চৈতালী বিশ্বাস ও প্রশান্ত বিশ্বাস। বিষয়টি ওই সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে শিক্ষকসমাজসহ বিভিন্ন মহলে নিন্দার ঝড় উঠে। অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিচার দাবি করেন।
এদিকে, বড় ভাই সাহিদুর ইসলাম বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক হওয়ার সুবাদে ছোট ভাই শেখ তকিবুর রহমান প্রায় দিনই ক্লাস না নিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করে জমি বেচাকেনা ও মাপ দেয়ার কাজে বেরিয়ে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।
তাদের বাড়ি বিদ্যালয়ের সংলগ্ন কালিয়া পৌরসভার বেন্দা এলাকা হওয়ায় স্থানীয় দাপট দেখিয়ে থাকেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ কারণে তারা সবসময় বেপরোয়া আচরণ করেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
বিদ্যালয়টি ১৯১১ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টি ঐহিত্য ধরে রাখলেও বিগত কয়েক বছর ধরে শিক্ষার পরিবেশ ভালো নেই বলে জানান ভুক্তভোগী শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সচেতনমহল।
প্রায় ১৫ বছর আগেও বিদ্যালয়টিতে ৭০০ থেকে ৮০০ শিক্ষার্থী ছিল। বর্তমানে এ সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০০ জনে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপ্তি রানী বৈরাগী দাবি করে বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার পরিবেশের জন্য নয়, আশেপাশে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হওয়ায় শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে গেছে।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
যশোর চৌগাছার চাঞ্চল্যকর ঝন্টু হত্যা’র প্রধান আসামি আবু...
যশোর চৌগাছার চাঞ্চল্যকর ঝন্টু হত্যা’র প্রধান...
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের আমন্ত্রণে বিরল...
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের...
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির...
লাইভে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা দিয়ে পুলিশ বাবাকে ‘মিথ্যাবাদী’...
লাইভে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা দিয়ে পুলিশ...
এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার
এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ...