• রাজশাহী শীর্ষ সংবাদ
  • নিয়ামতপুরে পাড়ইল ভূমি অফিসে দুর্নীতির মহোৎসব: লতিফ ও দুই দালালের সিন্ডিকেটে জিম্মি সেবাগ্রহীতারা

নিয়ামতপুরে পাড়ইল ভূমি অফিসে দুর্নীতির মহোৎসব: লতিফ ও দুই দালালের সিন্ডিকেটে জিম্মি সেবাগ্রহীতারা

প্রকাশিত: ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ , ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 month আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

মোঃ শাহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জঃ নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলার পাড়ইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসে অনিয়ম, ঘুষ লেনদেন ও দালালচক্রের দৌরাত্ম্য চরম আকার ধারণ করেছে। সরকারি কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী না হয়েও সোহেল ও রানা নামের দুই বহিরাগত ব্যক্তি নিয়মিত অফিসে বসে সরকারি কম্পিউটার ব্যবহার করছেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা।

সম্প্রতি সরেজমিনে অনুসন্ধান ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সোহেল ও রানা দীর্ঘদিন ধরে অফিসের ল্যাপটপ ও কম্পিউটারে বসে সরকারি কাজ পরিচালনা করছেন। তারা নামজারি (খারিজ) সহ ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

ভুক্তভোগী নির্মল চন্দ্র অভিযোগ করে বলেন, “জমির খারিজের কথা বলে সোহেল আমার কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নিয়েছেন। আমি প্রথমে তাকে ভূমি অফিসেরই কোনো কর্মকর্তা বা স্টাফ মনে করেছিলাম। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, তিনি এই অফিসের কেউ নন।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে পাড়ইল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নায়েব লতিফ বহিরাগতদের উপস্থিতি স্বীকার করলেও তাদের অনিয়মে জড়িত থাকার কথা এড়িয়ে যান। তিনি দাবি করেন, “সোহেল ও রানা মাঝেমধ্যে কম্পিউটারে বসে থাকেন ঠিকই, তবে তারা কোনো দাপ্তরিক কাজ করেন না।” যদিও অনুসন্ধানে বহিরাগত সোহেলকে সরাসরি সরকারি কম্পিউটারে বসে ভূমি-সংক্রান্ত গোপনীয় ও দাপ্তরিক কাজ সম্পাদন করতে দেখা গেছে।

একজন বহিরাগত ব্যক্তি কীভাবে সরকারি দপ্তরের চেয়ারে বসে কম্পিউটার ব্যবহার করছেন—এমন প্রশ্নে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।

এ ব্যাপারে সহকারী ভূমি কর্মকর্তা রেজাউল করিম স্পষ্ট ভাষায় জানান, “সরকারি দপ্তরের কোনো চেয়ারে কোনো বেসরকারি বা বহিরাগত ব্যক্তি বসার কোনো সুযোগ নেই। যে কর্মকর্তার দায়িত্ব, তাকেই সেখানে বসতে হবে। সরকারি অফিশিয়াল কম্পিউটার সাধারণ কোনো ব্যক্তি ব্যবহার করা আইনত অপরাধ।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূমি অফিসে বহিরাগতদের এই অবাধ যাতায়াত এবং প্রকাশ্য লেনদেনের কারণে সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।

অনতিবিলম্বে এই দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষী কর্মকর্তা লতিফসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকার সচেতন নাগরিকরা।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর