• অপরাধ ময়মনসিংহ
  • নেত্রকোণায় ঘরে গৃহবধূর লাশ রেখে গরুছাগল নিয়ে পালিয়েছে স্বামী

নেত্রকোণায় ঘরে গৃহবধূর লাশ রেখে গরুছাগল নিয়ে পালিয়েছে স্বামী

প্রকাশিত: ৩:১১ অপরাহ্ণ , ১১ আগস্ট ২০২৬, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
নিহত মুন্নী আক্তার।ছবি- সময়ের আবর্তন।

নেত্রকোণার মোহনগঞ্জে মুন্নী আক্তার (২২) নামে এক গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার সমাজ-সহিলদেও ইউনিয়নের কয়ড়াপাড়া গ্রাম থেকে ওই গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করা হয়।

নিহত মুন্নী আক্তার কয়ড়াপাড়া গ্রামের সোহাগ মিয়ার স্ত্রী এবং উপজেলার বড়কাশিয়া-বিরামপুর ইউনিয়নের সোনারামপুর গ্রামের ইদ্রিছ আলীর মেয়ে।

প্রায় তিন বছর আগে পারিবারিকভাবে সোহাগের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। এই দম্পতির কোনো সন্তান নেই।

এ ঘটনার পর থেকে নিহত গৃহবধূর স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির সকল সদস্য পলাতক রয়েছেন। পরিবারের অভিযোগ, মুন্নীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার পর ফাঁসে ঝুলিয়ে আত্মহত্যার নাটক সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে।
​
মঙ্গলবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নেত্রকোনা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

​পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত ১০টার দিকে স্বামীর ঘরে মুন্নীর মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। প্রতিবেশীদের দাবি, ঘটনার পর স্বামী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা মুন্নীকে বিছানায় ফেলে রেখে ঘর ছেড়ে পালিয়ে যান।

খবর পেয়ে গভীর রাতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিছানায় শোয়ানো অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে।

​নিহতের চাচাতো ভাই মো. মিঠু জানান, সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে সোহাগের পরিবারের পক্ষ থেকে ফোন করে জানানো হয় মুন্নী মারা যেতে পারে গলায় ফাঁস লেগেছে।

সংবাদ পেয়ে তাঁরা দ্রুত সেখানে গিয়ে ঘরের বিছানায় মুন্নীর নিথর দেহ দেখতে পান। তবে সে সময় সোহাগ, তাঁর মা-বাবাসহ পরিবারের কাউকেই পাওয়া যায়নি; এমনকি বাড়ির গরু-ছাগল নিয়ে তাঁরা চম্পট দেন।

​মিঠুর অভিযোগ, মুন্নীকে আগে হত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল এবং পরে মাথায় পানি ঢেলে ঘটনাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

এ বিষয়ে সোহাগ ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হবে জানান তিনি।

​মোহনগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জসিম উদ্দিন বলেন, “খবর পেয়ে রাত আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থল থেকে মুন্নীর লাশ উদ্ধার করা হয়। তাঁর গলায় ফাঁসের দাগ রয়েছে, তবে শরীরে অন্য কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।

ঘটনাস্থলে স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির কাউকে পাওয়া যায়নি, তাঁরা পলাতক। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর আসল কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহতের পরিবারের লিখিত অভিযোগ করলে আইনগত সহায়তা করা হবে বলে জানান তিনি।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর