
মুহম্মদ তরিকুল ইসলাম, পঞ্চগড়ঃ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলায় ‘উর্মি পোল্ট্রি ফার্ম’ ও ‘মেসার্স কবির পোল্ট্রি ফার্ম’-এর অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্যে দূষিত করা হচ্ছে ফসলি জমি ও নদী। চরম বিপাকে পড়েছেন এলাকাবাসী। পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থার তোয়াক্কা না করে খামারের পানি মিশ্রিত বিষাক্ত বর্জ্য সরাসরি ফেলা হচ্ছে পাশের ফসলি জমি ও ছলছলা নদীতে।
এতে মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে পরিবেশ, ছড়াচ্ছে চর্ম রোগসহ নানা ব্যাধি। দ্রুত ফার্মের পানি মিশ্রিত বিষাক্ত বর্জ্য বন্ধ সহ আইনি ব্যবস্থার দাবি ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর।
উপজেলার শালবাহান ইউনিয়নের বোয়ালমারী গ্রামের মফিজুল সরকারের ছেলে সাইফুল ইসলাম উর্মি পোল্ট্রি ফার্মের মালিক। ৪টি সেটে ১৬ হাজার মুরগী নিয়ে আধুনিক কোনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে এই খামারটি।
জানা গেছে, উর্মি পোল্ট্রি ফার্মের পরিবেশ অধিদপ্তরের নেই কোনো কাগজপত্র। উপজেলা প্রাণিসম্পদ থেকে একটি লাইসেন্স থাকলেও ২০২২ সালের পর নবায়ন করা হয়নি।
এদিকে একই এলাকার মেসার্স কবির পোল্ট্রি ফার্মে গিয়ে দেখা মিলেনি মালিক জহিরুল ইসলামের। তবে আধুনিক কোনো বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়াই ২টি সেটে মুরগি পালনের বাস্তব চিত্র চোখে পড়ে।
তাদের প্রতিদিনের বিষাক্ত বর্জ্য ফেলা হচ্ছে খোলা জায়গায়। যার প্রভাবে খামারের পাশের উর্বর ফসলি জমি দিন দিন হারিয়ে ফেলছে উৎপাদন ক্ষমতা। বর্জ্যরে কারণে বিষাক্ত হয়ে উঠছে চারপাশের পরিবেশ।
এতে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে স্থানীয় ‘ছলছলা নদী’। বৃষ্টির পানিতে এসব পোল্ট্রি বর্জ্য ধুয়ে সরাসরি গিয়ে মিশছে নদীতে। এছাড়া পাইপের মাধ্যমে বর্জ্য ফেলানো হচ্ছে নদীতে। ফলে ছলছলা নদীর পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করে বলেন, ‘ফার্মের দুর্গন্ধের কারণে জমিতে টিকতেই পারি না, ময়লা পানিতে ফসল নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। আর ছলছলা নদীর পানিতে নামলে শরীরে চুলকানি আর ঘা হচ্ছে। আমরা এর স্থায়ী সমাধান চাই।’
পচা বর্জ্যরে তীব্র দুর্গন্ধ আর মশা-মাছির উপদ্রবে অতিষ্ঠ পুরো এলাকার মানুষ। দেখা দিচ্ছে নানাবিধ চর্মরোগ ও শ্বাসকষ্ট। একাধিকবার আপত্তি জানালেও কোনো তোয়াক্কা করেনি ফার্ম কর্তৃপক্ষ।
উর্মি পোল্ট্রি ফার্মের মালিক সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘তার নিজস্ব জমির উপর দিয়ে বর্জ্য ফেলছেন, এটা তার ভুল ছিল এখন থেকে নদীতে বর্জ্য বা ময়লা ফেলবে না।’ মেসার্স কবির পোল্ট্রি ফার্মের মালিক জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘তিনি হাউজে বর্জ্য রাখেন, দুই তিন মাস পর পর নদীতে বর্জ্য ফেলেন।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. মো. নাজমুল হক বলেন, ‘তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভিডিও দেখার পর সরেজমিনে খামারে গিয়ে খামারীদের পানি মিশ্রিত বর্জ্য একটি নির্দিষ্ট গর্তে ফেলানোর নির্দেশনা দিয়েছেন। এই বর্জ্যে যেন কারো ক্ষতি না হয় বায়োগ্যাস প্লান স্থাপনের নির্দেশনাও দিয়েছেন।’
এ ব্যাপারে পঞ্চগড় পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আব্দুল গফুর বলেন, ‘নদী বা ফসলি জমি দূষণ করে খামার পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই। তিনি এই পোল্ট্রি ফার্মের বিষয়ে অবগত ছিলেন না, জানতে পেরে এখন তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করার কথা জানিয়েছেন।’
এ বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
পাইকগাছায় গাঁজাসহ দুই যুবক আটক
পাইকগাছায় গাঁজাসহ দুই যুবক আটক
বাকেরগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দকৃত কারেন্ট জাল পুড়িয়ে...
বাকেরগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দকৃত কারেন্ট...
সাপাহারে শিরন্টি ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহজাহান আলীর গণসংযোগ
সাপাহারে শিরন্টি ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহজাহান...
শেরপুর ডপস সদস্যদের মূল্যায়ন পরীক্ষা ও শিক্ষা উপকরণ...
শেরপুর ডপস সদস্যদের মূল্যায়ন পরীক্ষা ও...
শেরপুর পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এমপি রাশেদের...
শেরপুর পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে...
জনপ্রিয়তার শীর্ষে ইমদাদুল হক ইমদাদ: বেনাপোলে বইছে পরিবর্তনের...
জনপ্রিয়তার শীর্ষে ইমদাদুল হক ইমদাদ: বেনাপোলে...