
ইমরান হাসান, ত্রিশাল (ময়মনসিংহ): বেতন–গ্রেড উন্নীতকরণসহ তিন দফা দাবি আদায়ে অনড় অবস্থান নিয়েছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। তাদের কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে সোমবার (১ ডিসেম্বর) ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করা হয়েছে। সরেজমিনে উপজেলার প্রায় প্রতিটি বিদ্যালয়ে একই চিত্র দেখা গেছে—পরীক্ষা শূন্য, হতাশ শিক্ষার্থী–অভিভাবক।
নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী সকালে সব শ্রেণির শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে স্কুলে এলেও ফিরে যেতে হয় খালি হাতে। শিক্ষকরা জানিয়ে দেন, আজ কোনো পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে না এবং পরবর্তী পরীক্ষাগুলোও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী হবে কি না—তা অনিশ্চিত। এতে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে চরম দুশ্চিন্তা।
অভিভাবক সুমন মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সন্তানকে নিয়ম করে পড়ালেখা করিয়েছি। এসে শুনি পরীক্ষা নেই! আগে জানালে অন্তত এসে সময় নষ্ট হতো না।”
শিক্ষকদের অভিযোগ—তাদের ন্যায্য দাবি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ‘তালবাহানা’ চলছে।
তবে পরীক্ষা বর্জন করলেও শিক্ষকরা নিয়মিত সময়েই বিদ্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন। তাদের দাবি, বহুদিন ধরে বেতন–গ্রেডসহ নানা বিষয়ে কেবল আশ্বাস মিললেও বাস্তবায়ন হয়নি কোনো দাবিরই।
অলহরী দুর্গাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক) নুরুন্নাহার সুমি বলেন, “প্রতিবারই শুধু আশ্বাস—বাস্তবে কোনো সমাধান নেই। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত কোনো পরীক্ষায় অংশ নেব না।”
ত্রিশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, “শিশুদের ক্ষতি যাতে না হয়, সেই জন্য প্রয়োজনে ছুটির দিনেও ক্লাস ও পরীক্ষা নিয়ে ঘাটতি পূরণ করব। তবে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।”

সহকারী শিক্ষকদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ, শতভাগ পদোন্নতি নিশ্চিতকরণ, চাকরির ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রদান।
শিক্ষকদের মতে, এসব দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিক্ষক সমাজে চরম হতাশা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।
ত্রিশাল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. কামরুজ্জামান বলেন, “এটি সহকারী শিক্ষকদের বৃহৎ কর্মসূচি।
উপজেলার প্রায় সব প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা বর্জন করা হয়েছে। দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় আমরা বাধ্য হয়েই পরীক্ষাবর্জন করেছি। দাবি না মানলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”
ত্রিশাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাশেদুজ্জামান রানা জানান, “সরকারি নির্দেশনা ছিল পরীক্ষা নেওয়ার। কিন্তু সহকারী শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। তাদের বাধার মুখে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হয়নি। আমার জানা মতে বেশির ভাগ স্কুলেই পরীক্ষা হয়নি।”
তবে ত্রিশাল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নীলুফার হাকিম দাবির বিষয়ে পুরোপুরি ভিন্ন বক্তব্য দেন। তিনি বলেন,“উপজেলার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়েই আজ পরীক্ষা হয়েছে।
বিচ্ছিন্নভাবে এক–দুইটি স্কুল পরীক্ষা না নিয়ে থাকলেও তা আমার জানা নেই। পরীক্ষা না হওয়ার বিষয়ে কোনো বার্তাও পাইনি। আমাদের এখানে পরীক্ষা হয়েছে—এটা কনফার্ম। দু’একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও তা আমার কাছে রিপোর্ট হয়নি। শিক্ষকরা কর্মবিরতিতে থাকলেও প্রধান শিক্ষক–দপ্তরীরা প্রশ্ন দিয়ে পরীক্ষা নিয়েছেন।”
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির...
দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আবারও বাস পড়ল নদীতে
দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আবারও বাস...
নালিতাবাড়ীর পাহাড়ি রাস্তায় রোপণ হবে হাজারো কৃষ্ণচূড়ার চারা
নালিতাবাড়ীর পাহাড়ি রাস্তায় রোপণ হবে হাজারো...
শেরপুরে বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু
শেরপুরে বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু
গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা
গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা
জেলা ইমাম সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত
জেলা ইমাম সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত