ব্রাহ্মণবাড়িয়া নাসিরনগরে মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত ভিকটিম উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৫

প্রকাশিত: ১২:৪৬ অপরাহ্ণ , ২২ মার্চ ২০২৫, শনিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 year আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন

আমিনুল ইসলাম আহাদঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মুক্তিপণের দাবিতে অপহৃত নয়ন দাসকে উদ্ধারসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ২১ মার্চ (শুক্রবার) রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে নয়ন দাসকে উদ্ধার এবং অপহরণকারীদের গ্রেপ্তার করা হয়।

এ সময় অপহরণে ব্যবহৃত একটি হাইয়েস মাইক্রোবাস জব্দ করা হয়।৫ কে গ্রেফতার করা হয় আফসার মিয়া ওরফে হৃদয় (৩০) নাজমুল হোসেন নিলয় (২৮)মো. সাব্বির হোসেন (২৭)মো. রুবেল মোল্লা (৩০)মো. মিলন মিয়া (২৫)

নাসিরনগরের ফান্দাউক বাজারে বিকাশ, কম্পিউটার ও মোবাইল সার্ভিসের ব্যবসা করেন রামু দাসের ছেলে নয়ন দাস। প্রতিদিনের মতো ১৬ মার্চ সকাল আনুমানিক ৯:৫৮ মিনিটে দুইজন অজ্ঞাত ব্যক্তি মোবাইল মেরামতের কথা বলে তার দোকানে আসে। পরে তারা নয়ন দাসকে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়।

ঐদিন রাত ৮:৪৫ মিনিটের দিকে অজ্ঞাতনামা একটি মোবাইল নম্বর থেকে নয়ন দাসের ব্যবহৃত ফোনে কল করা হয়। কলটি তার মা রিসিভ করলে অপহরণকারীরা নয়নকে মুক্তির জন্য ১০ লাখ টাকা দাবি করে এবং পুলিশকে জানালে তাকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেয়।

১৯ মার্চ নয়ন দাসের বাবা রামু দাস নাসিরনগর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অপহরণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার পুলিশ সুপার এহতেশামুল হকের দিকনির্দেশনায় নাসিরনগর থানার একটি চৌকস পুলিশ দল তদন্ত শুরু করে।

সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও প্রযুক্তিগত সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর ২১ মার্চ রাতে ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে প্রথমে নাজমুল হোসেন নিলয় (২৮) ও মো. সাব্বির হোসেন (২৭) কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডিএমপির কদমতলী থানার দনিয়া এলাকা থেকে মূল পরিকল্পনাকারী আফসার মিয়ার হেফাজত থেকে নয়ন দাসকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

পরে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকা থেকে অপহরণের কাজে ব্যবহৃত হাইয়েস গাড়ি (ঢাকা মেট্রো-চ-১৪-২৭৭৪) জব্দ করা হয় এবং চালক মো. রুবেল মোল্লা (৩০) কে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিনে নাসিরনগর থানার একটি দল ফান্দাউক এলাকা থেকে অপহরণ ঘটনার অন্যতম পরিকল্পনাকারী মো. মিলন মিয়া (২৫) কে গ্রেপ্তার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা একটি সংঘবদ্ধ অপহরণচক্রের সদস্য। দীর্ঘদিন ধরে ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে অপহরণ করে ক্লোন করা সিম ব্যবহার করে মুক্তিপণ আদায় করে আসছিল। এ চক্রের মূলহোতা আফসার মিয়া ওরফে হৃদয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।