মাদক ও মাদকাসক্তমুক্ত সমাজ গঠনে সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি — ইউএনও মোশারফ হোসাইন

প্রকাশিত: ৩:০৭ অপরাহ্ণ , ২১ অক্টোবর ২০২৫, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 8 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

আমিনুল ইসলাম আহাদ,ব্রাহ্মণবাড়িয়াঃ “মাদক ও মাদকাসক্তমুক্ত সমাজ চাই” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে।

মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর বিকেলে উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে আলোকিত নারী উন্নয়ন ফাউন্ডেশন ও এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড গ্রোথ প্রোমোশন অ্যাসোসিয়েশন (ইইপিএ) এর যৌথ উদ্যোগে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মোশারফ হোসাইন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সরাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোরশেদ আলম চৌধুরী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আলোকিত নারী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মেহফেন নীলা মেহেরীন।

ইউএনও মোঃ মোশারফ হোসাইন বলেন,মাদক কেবল একজন ব্যক্তির জীবনকেই ধ্বংস করে না, এটি পরিবার ও সমাজের ভিত্তিকে দুর্বল করে দেয়। একজন মাদকাসক্তের পুনর্বাসন শুধু আইনি বিষয় নয়, এটি একটি সামাজিক দায়িত্বও। পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—সবাইকে একযোগে সচেতন হতে হবে।”

তিনি ইলেকট্রিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার উপস্থিতিতে আরও বলেন,মাদকাসক্ত ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক পরিবর্তন খুব সহজে বোঝা যায়। চোখ লাল হয়ে যাওয়া, ঘুম ও খাওয়ার অভ্যাস বদলে যাওয়া, খিটখিটে মেজাজ, পরিবারের প্রতি অবহেলা — এগুলো মাদকাসক্তির প্রাথমিক লক্ষণ। এসব দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা ও পরামর্শের ব্যবস্থা করতে হবে।”

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ওসি মোরশেদ আলম চৌধুরী। তিনি বলেন,মাদক নিয়ন্ত্রণে পুলিশের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। আমাদের সন্তানদের সঠিক পথে রাখার দায়িত্ব শুধু পুলিশের নয়, অভিভাবক ও সমাজেরও।”

সরাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ আলী মাস্টার বলেন শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিক শিক্ষা ও সচেতনতা বাড়াতে স্কুলে নিয়মিত আলোচনা হওয়া উচিত। শিক্ষকরা যদি শিক্ষার্থীদের সাথে আন্তরিকভাবে মেলামেশা করেন, তাহলে অনেকেই মাদকের পথে পা বাড়াবে না।” সভাপতির বক্তব্যে মেহফেন নীলা মেহেরীন বলেন,

মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার জন্য নারী ও অভিভাবকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মা যদি সন্তানকে নজরে রাখেন, তবে মাদকাসক্তির অনেক কারণ আগেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।”

সেমিনারে বক্তারা বলেন, মাদকাসক্তি রোধে পারিবারিক বন্ধন মজবুত করা, তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা এবং নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষা জোরদার করা প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, ধূমপান থেকেই শুরু হয় অধিকাংশের মাদকজগতে প্রবেশ—তাই ধূমপানকেও না বলার আহ্বান জানান তারা।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর