
বিগত আওয়ামী লীগের সরকারের সময় র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক নারী ও শিশুদের নির্যাতনের রোমহর্ষক বর্ণনা পাওয়া গেছে। কয়েকজন নারী ও শিশু যারা ওই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হয়েছিল তাদের কিছু সাক্ষাৎকার প্রকাশ করেছে গুম সংক্রান্ত কমিশন। সেখানে গর্ভবতী নারী গুমের শিকার হওয়ার তথ্য মিলেছে। এছাড়াও একজন মেয়ে মায়ের সঙ্গে আটক হওয়ার পর এখনো সে তার মাকে খুঁজে পায়নি।
সোমবার (২০ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে গুম সংক্রান্ত কমিশনের বরাত দিয়ে এমন কিছু ঘটনার সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হয়।
কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনে নারী ও শিশুদের গুম হওয়ার ভয়ংকর সব তথ্য উঠে এসেছে। সেখানে নারীদের জোরপূর্বক গুম করার নানা তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। অনেক নারী তাদের সন্তানসহ নিখোঁজ হন বলেও প্রমাণ পেয়েছে কমিশন। অনেকে আবার নিখোঁজের সময় গর্ভবতী ছিলেন।
কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গুমের শিকার উল্লেখযোগ্যভাবে কম সংখ্যক নারী শনাক্ত করা গেছে। এর একটি কারণ হলো পুরুষদের জোরপূর্বক নিখোঁজ করার ঘটনা বেশি ঘটে। কিন্তু সামাজিক কলঙ্কের ভয়ে অনেক নারী তাদের অভিজ্ঞতা প্রকাশ করতে দ্বিধাবোধ করেন। তবুও বেশ কয়েকজন সাহসী নারী ভুক্তভোগী আমাদের সঙ্গে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। আটকের পর নির্যাতনের ভয়ংকর কিছু বিষয়ও শেয়ার করছেন।
একটি ঘটনার কথা উল্লেখ কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, একজন মা এবং তার ছোট্ট মেয়েকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় তৎকালীন র্যাব-২ ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে। এরপর রাতভর আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। পরের দিন মেয়েটিকে একটি গাড়ি থেকে রাস্তায় ছুড়ে ফেলা হয়। তার মা এখনো ফিরে আসেনি।
পরিবারের ভাষ্যমতে, একজন ইমাম শিশুটিকে খুঁজে পেয়ে তাকে ফিরিয়ে দেয়। আমরা এ মেয়েটিকে খুঁজে পেয়েছি। সে এখন প্রাপ্তবয়স্ক। র্যাব যেখানে তাদের নির্যাতন করেছিল সেখানে তাকে নিয়ে গিয়েছিলাম। তিনি সেই ঘরগুলো সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করতে সক্ষম হন।
কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, নারীদের জোরপূর্বক নিখোঁজ করার সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিক হলো নারীদের তাদের সন্তানদের সঙ্গে নিখোঁজ করা হয়েছে। উদাহরণ স্বরূপ– আমরা একজন নারী ভিকটিমের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। তিনি গর্ভবতী অবস্থায় এক মাস ধরে আটক ছিলেন এবং তার তিন বছর ও ১৮ মাস বয়সী সন্তানদেরও তার সঙ্গে বন্দি রাখা হয়।
ভুক্তভোগী ওই নারী অভিযোগ করেছেন, গর্ভবতী থাকা সত্ত্বেও একজন পুরুষ কর্মকর্তা তাকে মারধর করেছিল। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। আমরা একজন শিশুর সাক্ষাৎকার নিয়েছি, সে তার মায়ের সঙ্গে সিটিটিসিতে আটক থাকার কথা স্বীকার করেছে। যখন তার বয়স ছিল মাত্র ছয় বছর।
মা ও শিশুকে বলপূর্বক নিখোঁজ করার এ চর্চা দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে এবং ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়ে। চট্টগ্রামের মহানগর পুলিশ থেকে শুরু করে ঢাকার সিটিটিসি কর্মকর্তারা এসব কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
এ ছাড়া একজন পুরুষ ভুক্তভোগী কমিশনের কাছে বর্ণনা দিয়েছেন কীভাবে তার স্ত্রী ও নবজাতক শিশুকে একটি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তিনি জানান, আটক অবস্থায় তার শিশু সন্তানকে দুধ খাওয়ানোর অনুমতি পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। এটি তার (ভুক্তভোগী) ওপর মানসিক নির্যাতনের একটি রূপ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
পাইকগাছায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে ট্যাব বিতরণ
পাইকগাছায় ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে ট্যাব...
শেরপুরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ অবহিতকরণ প্রেস...
শেরপুরে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির তথ্য সংগ্রহ...
ধামইরহাটে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১২টি গ্রামে চেয়ারম্যান প্রার্থী মোসাদ্দেকুর...
ধামইরহাটে দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১২টি গ্রামে চেয়ারম্যান...
নড়াইলে যুবলীগ স্যারের ডিলারশিপ পাওয়ায় বিএনপি’র বিক্ষোভ
নড়াইলে যুবলীগ স্যারের ডিলারশিপ পাওয়ায় বিএনপি’র...
৪নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ: দুই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা কার্যকর করার...
৪নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ: দুই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা...
কৃতি শিক্ষার্থী আয়েশা মোস্তাফিজ শাওমিকে মেয়র প্রার্থী ইমদাদের...
কৃতি শিক্ষার্থী আয়েশা মোস্তাফিজ শাওমিকে মেয়র...