
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শক্তিপুর ১০ শয্যা বিশিষ্ট মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি গত ৬ বছরের পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হয়নি। পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা দিয়ে চলছে মা ও শিশু কল্যাণ এ কেন্দ্রটির চিকিৎসা সেবা। এই মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি এমবিবিএস ডাক্তার সহ ২৬টি পদ রয়েছে। সেখানে ১জন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা সহ ৫জন দিয়েই চলছে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা। এখানে কোন এমবিবিএস চিকিৎসক নেই।
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের মেডিকেল অফিসার এমসিএইস ডা. মোহাম্মদ আলী জানান, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটিতে স্বাভাবিক প্রসব থেকে শুরু করে সিজারিয়ান অপারেশন সহ মা ও শিশুর নানাবিধ প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার কথা।
কিন্তু চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না দেওয়ায় মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে চালু করার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
জানা গেছে, শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটিতে মেডিকেল অফিসার (গাইনী অবস ট্রেনিং) পদে একজন, মেডিকেল অফিসার এ্যানেসথেসিয়া পদে একজন, মেডিকেল অফিসার (আল্ট্রাসোনোগ্রাফি) পদে একজন, ফার্মাসিস্ট পদে একজন, পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা পদে ছয় জন, অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে একজন, সহকারি নার্সিং এ্যাটেনডেন্ট পদে দুই জন, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট পদে একজন, এ্যাম্বুলেন্স চালক পদে একজন, আয়া পদে ৩ জন, পরিচ্ছন্নতা কর্মী/সুইপার পদে ৩ জন, অফিস সহায়ক পদে ২ জন, নিরাপত্তা প্রহরী পদে ২ জন থাকার কথা রয়েছে। এই ২৫টি পদের বিপরিতে রয়েছে মাত্র ৫জন। নেই কোন ডাক্তার নেই এ্যাম্বুলেন্স ।
এদিকে চাহিদা অনুযায়ী জনবল না থাকায় বছরের পর বছর অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রপাতিসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি পরে থাকায় নষ্ট হতে চলেছে। অথচ প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই স্বাস্থ্য কেন্দ্রটিতে নেই কোনো শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাক্তার , নেই প্রয়োজনীয় এমবিবিএস ডাক্তার।
চিকিৎসকতো দুরের কথা ৬ জন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা মধ্যে মাত্র ১ জন পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা দিয়েই চলছে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা। এ ছাড়া রয়েছে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, ফার্মাসিস্ট, আয়া এবং আউট সোর্সিং থেকে ১ মিডওয়াইফ সহ মোট ৫ জন কর্মরত আছেন এই ১০ শর্য্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটিতে। ফলে সেবা প্রত্যাশীদের বাধ্য হয়ে বাড়তি টাকা খরচ করে যেতে হচ্ছে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে।
এ ব্যপারে এই কেন্দ্রে কর্মরত পরিবার কল্যাণ পরিদর্শিকা (এফ.ডবিøউ.ভি) মোছাঃ খাদিজা খাতুন জানান, ডাক্তার না থাকায় এখনে কোন সিজারিয়ান অপারেশন হয় না। তবে আমরা সেবা নিতে আসা নারী ও শিশুদের স্বাস্থ্য বিষয়ক পরামর্শ ও ওষুধপত্র বিতরণ করছি।
তবে মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটিতে ফার্মাসিস্ট মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলছেন, মা ও শিশু কেন্দ্রটিতে গত দুই মাস যাবৎ কোন ওষুধ না থাকায় আমরা এখানে আগত রোগীদের কোন প্রকার ওষুধ দিতে পারছি না।
দুই মাস ধরে ওষুধ সরবরাহ না থাকাই সেটিও বন্ধ রয়েছে। এখন পরামর্শের উপর চলছে এই সেবা প্রতিষ্ঠানটি। অপরদিকে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মোঃ রাসেল আহম্মেদ বলেন, এখানে ল্যবের কোন সরঞ্জামাদি না থাকায় এখনে কোন প্রকার পরীক্ষা নিরিক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে না।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
দুপুরের মধ্যে ঢাকাসহ ৮ অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির...
দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আবারও বাস পড়ল নদীতে
দৌলতদিয়া ঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আবারও বাস...
নালিতাবাড়ীর পাহাড়ি রাস্তায় রোপণ হবে হাজারো কৃষ্ণচূড়ার চারা
নালিতাবাড়ীর পাহাড়ি রাস্তায় রোপণ হবে হাজারো...
শেরপুরে বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু
শেরপুরে বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু
গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা
গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালা
জেলা ইমাম সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত
জেলা ইমাম সম্মেলন-২০২৬ অনুষ্ঠিত