
শাহরিয়ার মিল্টন, শেরপুরঃ শিলপাটা এখনো নারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ একটি উপকরণ। বিয়েসহ ঘরোয়া অনুষ্ঠানে হলুদ আর মেহেদি বাটার কাজে এখনো শিলপাটার ব্যবহার দেখা যায়।
প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের যুগে শহরের রান্নাঘর থেকে হারিয়ে গেলেও শেরপুরের গ্রামাঞ্চলে শিলপাটা এখনো টিকে আছে ঐতিহ্যের প্রতীক হয়ে। এটি কেবল রান্নার সরঞ্জাম নয়, বরং গ্রামীণ সংস্কৃতি আর পুরানো স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে আছে।
আধুনিক প্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় বদলে গেছে জীবনযাত্রা। আর তাই রান্নাঘরেও এসেছে নানা আধুনিক সরঞ্জামের ব্যবহার। ইলেকট্রিক গ্রাইন্ডার, ব্লেন্ডার আর বাজারের তৈরি গুঁড়া মসলার সহজলভ্যতায় শহরাঞ্চল থেকে প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে এক সময়ের অপরিহার্য উপকরণ শিলপাটা, তবে গ্রামবাংলার চিত্র এখনো ভিন্ন।
জেলার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে এখনো রান্নাঘরে শোনা যায় সেই শিলপাটায় মসলা বাটার সুপরিচিত শব্দ। একসময় দেশের প্রায় প্রতিটি ঘরের রান্নাঘরের অতি গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল শিলপাটা। হলুদ, মরিচ, ধনেসহ নানা মসলা বাটার কোনো বিকল্প ছিল না তখন।
সময়ের পরিবর্তনে আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহার বাড়লেও গ্রামীণ জীবনে শিলপাটার ঐতিহ্য এখনো ধরে রেখেছেন অনেকে। গ্রামীণ এলাকার গৃহিণীদের কাছে শিলপাটায় বাটা মসলার স্বাদ আর ঘ্রাণ এখনো আলাদা। তাদের অভিমত, যন্ত্রে গুঁড়া করা মসলার চেয়ে শিলপাটায় বাটা মসলা রান্নায় বেশি স্বাদ আর ঐতিহ্যের ছোঁয়া এনে দেয়।
মাছ, মাংস, ভর্তা সহ দেশীয় খাবার তৈরিতে এখনো শিলপাটার ব্যবহারেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তারা। অন্যদিকে, শিলপাটার ব্যবহার টিকে থাকায় টিকে আছে শিলপাটা ধার কাটার সেই পুরোনো পেশাটিও। জেলার শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী, নালিতাবাড়ী, নকলা ও সদর উপজেলার গ্রামীণ জনপদে এখনো দেখা যায় শ্রমিকদের শিলপাটা ধার কেটে জীবিকা নির্বাহ করতে।
অনেকের এটি বাপ-দাদার পেশা। কেউ বাড়ি বাড়ি হেঁটে হেঁটে, কেউবা বাইসাইকেলে চড়ে গ্রামে গ্রামে গিয়ে শিলপাটা ধার করার কাজ করেন। প্রতিদিন সকালে তারা বেরিয়ে পড়েন আশপাশের এলাকায়। শিলপাটা ধার দেওয়ার বিনিময়ে কেউ নেন চাল, আবার কেউবা নেন নগদ টাকা। আধুনিকতার ভিড়ে পেশাটি সংকুচিত হলেও এখনো গ্রামীণ জনপদে এ শিল্পের ওপর অনেকে নির্ভরশীল।
শিলপাটা ধার করার কারিগররা জানান, অনেকেই মনে করেন শিলপাটার ব্যবহার একেবারেই শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, গ্রামগঞ্জের অধিকাংশ বাড়িতেই এখনো এর প্রচলন আছে। শহরে ব্যবহার কমলেও গ্রামে রান্নার সঙ্গে শিলপাটা এখনো জড়িয়ে আছে।
শেরপুর সদর উপজেলার চরশেরপুর এলাকার গৃহিণী আলপনা বলেন, খাবারের স্বাদ অটুট রাখতে শিলপাটার গুরুত্বই আলাদা। আমাদের বাড়িতে এখনো শিলপাটায় বাটা মসলা ছাড়া রান্না হয় না। এতে মসলার স্বাদ ভালো থাকে। তবে মেহমান এলে বা বড় কোনো অনুষ্ঠান হলে সময় বাঁচাতে ব্লেন্ডারে মসলা গুঁড়া করা হয়।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
পাইকগাছায় গাঁজাসহ দুই যুবক আটক
পাইকগাছায় গাঁজাসহ দুই যুবক আটক
বাকেরগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দকৃত কারেন্ট জাল পুড়িয়ে...
বাকেরগঞ্জে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে জব্দকৃত কারেন্ট...
সাপাহারে শিরন্টি ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহজাহান আলীর গণসংযোগ
সাপাহারে শিরন্টি ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী শাহজাহান...
শেরপুর ডপস সদস্যদের মূল্যায়ন পরীক্ষা ও শিক্ষা উপকরণ...
শেরপুর ডপস সদস্যদের মূল্যায়ন পরীক্ষা ও...
শেরপুর পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এমপি রাশেদের...
শেরপুর পূজা উদযাপন ফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের সঙ্গে...
জনপ্রিয়তার শীর্ষে ইমদাদুল হক ইমদাদ: বেনাপোলে বইছে পরিবর্তনের...
জনপ্রিয়তার শীর্ষে ইমদাদুল হক ইমদাদ: বেনাপোলে...