
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার কালীকচ্ছ বাজারে চাটাই (চাটি পাটি) ভাড়ার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে মাছ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ হাদিম মিয়াকে বল্লমবিদ্ধ করে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেছেন এলাকাবাসী।
গতকাল রোববার (৫ জুলাই) সকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে কালীকচ্ছ এলাকাবাসীর ব্যানারে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। পরে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে পাঁচ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি প্রদান করা হয়।
বক্তারা বলেন, ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও মামলার প্রধান আসামিরা এখনও গ্রেফতার হয়নি। এতে নিহতের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে এবং এলাকায় বিচারহীনতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অবিলম্বে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৮ জুন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে কালীকচ্ছ বাজারের গলানিয়া রাস্তার মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। নিহত হাদিম মিয়া চাকসার (পূর্বপাড়া) এলাকার বাসিন্দা এবং বিল ইজারা নিয়ে মাছের ব্যবসা করতেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, সূর্যকান্দি এলাকার মোশারফের কাছ থেকে বিলে বাঁধ দেওয়ার জন্য চাটাই ভাড়া নিয়েছিলেন হাদিম মিয়া। কিছু চাটাই নষ্ট থাকায় তিনি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। এ কারণে ভাড়ার টাকা কিছু কম দেওয়ার বিষয় নিয়ে ঘটনার দিন সকালে উভয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।
এর জের ধরে সন্ধ্যায় কালীকচ্ছ বাজারে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একদল লোক হাদিম মিয়ার ওপর হামলা চালায়। হামলার একপর্যায়ে বল্লমের আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা উদ্ধার করে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাদিম মিয়াকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আরও কয়েকজন আহত হন। তাদের মধ্যে একজনের পা ভেঙে যায় এবং অন্যরা লাঠিসোটা ও রডের আঘাতে গুরুতর আহত হন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মোছা. পপি আক্তার বাদী হয়ে সরাইল থানায় ৪২ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন জহিরুল হক, মোশারফ, সাখাওয়াত, শেখ মামুন, মূর্তজা আলী, মঞ্জু মিয়া, শাহ আলম মৃধা, সাগর মৃধা, কবির মিয়া, ওসমান হারুনী, ওসমান ফারুকী, শিবির মিয়া, সোহেল মিয়া, তৌফিক মিয়া, নাজমুল ও তকদির মিয়াসহ আরও অনেকে।
মানববন্ধন শেষে কালীকচ্ছ এলাকাবাসীর পক্ষে আবু সায়েদ স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত, এজাহারভুক্ত আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার, নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি বন্ধ রেখে প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা, নিহতের পরিবার ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তি করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, নিরীহ ব্যবসায়ী হাদিম মিয়ার হত্যার সুষ্ঠু বিচার না হলে সাধারণ মানুষের আইনের প্রতি আস্থা নষ্ট হবে। তাই প্রশাসনের প্রতি দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
শার্শায় ৩২টি পূজা মণ্ডপে নুরুজ্জামান লিটনের নিজস্ব অর্থায়নে...
শার্শায় ৩২টি পূজা মণ্ডপে নুরুজ্জামান লিটনের...
টিনের ঘরে মাশরুম চাষ, ইউটিউব দেখে ৩ বন্ধুর...
টিনের ঘরে মাশরুম চাষ, ইউটিউব দেখে...
শেরপুরের বনভূমিকে বন্যহাতির নিরাপদ আবাস-’ল হিসেবে গড়ে তোলার...
শেরপুরের বনভূমিকে বন্যহাতির নিরাপদ আবাস-’ল হিসেবে...
জয়পুরহাটে সনাতন ধর্মের শ্রমিকদের মাঝে পূজার উপহার বিতরণ
জয়পুরহাটে সনাতন ধর্মের শ্রমিকদের মাঝে পূজার...
রাতের আঁধারে জবাই করা গরু ভ্যানে পরিবহন! ক্ষেতলালে...
রাতের আঁধারে জবাই করা গরু ভ্যানে...
শিক্ষাবান্ধব ও সমাজসেবক ইমদাদের উপর আস্থা পৌরবাসীর
শিক্ষাবান্ধব ও সমাজসেবক ইমদাদের উপর আস্থা...