৪নং ওয়ার্ডে গণসংযোগ: দুই ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা কার্যকর করার অঙ্গীকার

প্রকাশিত: ১১:১৬ পূর্বাহ্ণ , ১২ অক্টোবর ২০২৬, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 1 hour আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

মো.সাহিদুল ইসলাম শাহীন:- আসন্ন বেনাপোল পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে গোটা পৌর এলাকা। এই নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্ধিতা করছেন যশোর জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক, শার্শা উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব, বিশিষ্ট সিএন্ডএফ ব্যবসায়ী ও দক্ষ ক্রীড়া সংগঠক মো. ইমদাদুল হক ইমদাদ।

​গত প্রায় তিন মাস ধরে তিনি ধারাবাহিকভাবে বেনাপোল পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের পাড়া-মহল্লায় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কর্মী-সমর্থকদের সাথে নিয়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

​আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) সপ্তাহের প্রথম দিনেই ভোর থেকে শুরু করে দিনব্যাপী পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের কাগজপুকুর-কাগমারী গ্রামে প্রথম দিনের মতো নির্বাচনী প্রচারণায় নামেন ইমদাদুল হক ইমদাদ। ​ওয়ার্ডটির বুক চিরে চলে গেছে যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক।

এখানে রয়েছে সাড়ে ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ৫৩ ফুট উচ্চতা ও ১৪৪ ফুট প্রশস্ত নান্দনিক ‘বেনাপোল পৌর গেট’ এবং ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন বাস টার্মিনাল। তবে দীর্ঘদিনের অবহেলা ও সার্বিক অব্যবস্থাপনার কারণে কোটি কোটি টাকা খরচে নির্মিত এই দুটি ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা বর্তমানে প্রায় স্থবির ও অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

​গণসংযোগকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিভিন্ন অভাব-অভিযোগ ও ক্ষোভের কথা শুনে মেয়র প্রার্থী ইমদাদ অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেন, “জনগণের সমর্থন ও ভোটে জয়ী হতে পারলে এই অবহেলিত দুই বড় স্থাপনাকে পুনঃসংস্কারের মাধ্যমে দৃষ্টিনন্দন, সচল ও পুরোপুরি কার্যকর করে গড়ে তোলা হবে।

“গণসংযোগকালে তিনি ভোটারদের হাতে হাতে লিফলেট বিতরণ করেন, খোঁজখবর নেন এবং এলাকার সার্বিক উন্নয়নে মতবিনিময় করেন।

​
​৪নং ওয়ার্ড(কাগজপুকুর-কাগমারী) গ্রামের পাড়া-মহল্লায় ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটারদের দোয়া এবং সমর্থন প্রার্থনা করার সময় এক অনন্য মানবিক দৃশ্য ফুটে ওঠে। শিশু-কিশোর, মা-বোন এবং বয়োজ্যেষ্ঠ ভোটাররা তাকে কাছে পেয়ে পরম স্নেহে বুকে জড়িয়ে ধরে দোয়া ও ভালোবাসায় সিক্ত করেন।

​গত ৩ অক্টোবর পৌর এলাকায় শিক্ষার মান উন্নয়নে বেনাপোল পৌর বিয়েবাড়ীতে কৃতী শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মাননা প্রদান করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন ইমদাদ। মাঠপর্যায়ের ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, টানা ৩ মাসের সুপরিকল্পিত নির্বাচনী প্রচারণায় ৯টি ওয়ার্ড জুড়েই তার গ্রহণযোগ্যতা বহুগুণ বেড়েছে।
​
​এলাকার জনগণ মনে করছেন, একজন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সুপরিচিত ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে তার কথা ও কাজের মিল থাকবে। অকার্যকর স্থাপনাগুলো সচল করা এবং নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতিতে তারা পূর্ণ বিশ্বাস আনছেন।

সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ জানান, একজন তরুণ, কর্মঠ ও জনগণের দুখ-কষ্টের সঙ্গী হিসেবে মো. ইমদাদুল হক ইমদাদই বেনাপোল পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও মাদকমুক্ত নগরীতে রূপান্তর করতে পারবেন। তাই আসন্ন নির্বাচনে তারা ইমদাদকেই তাদের প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নিতে মুখিয়ে আছেন।

​ধারাবাহিক এই গণসংযোগের ফলে ৯টি ওয়ার্ডেই নির্বাচনী আমেজ তুঙ্গে উঠেছে এবং দিন দিন ইমদাদুল হক ইমদাদের গণজোয়ার দৃশ্যমান হচ্ছে।

নির্বাচনী প্রচারনাকালে ইমদাদুল হকের কর্মী-সমর্থক ছাড়াও কাগজপুকুর-কাগমারীর গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ গণসংযোগে অংশ নেন।

গণসংযোগকালে মেয়র প্রার্থী মো. ইমদাদুল হক ইমদাদ ভোটারদের উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন,কাগজপুকুর ও কাগমারী গ্রামে গণসংযোগের প্রথম দিনে আপনারা যেভাবে আমাকে পরম স্নেহে বুকে জড়িয়ে নিয়েছেন, মা-বোনেরা যেভাবে মাথায় হাত রেখে দোয়া করেছেন—তা দেখে আমি গভীরভাবে অভিভূত ও আবেগপ্লুত। আপনাদের এই নিখাদ ভালোবাসা ও উষ্ণ অভ্যর্থনা আমার জীবনের অন্যতম বড় প্রাপ্তি।

​আপনারা জানেন, আমাদের এই ৪নং ওয়ার্ডটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। এই ওয়ার্ডের বুক দিয়েই চলে গেছে যশোর-বেনাপোল প্রধান মহাসড়ক। এখানে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে গড়ে তোলা হয়েছে বেনাপোল পৌরসভার নান্দনিক প্রবেশদ্বার (পৌর গেট) ও আধুনিক বাস টার্মিনাল।

কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও অবহেলার কারণে আমাদের চোখ জুড়ানো এই সম্পদ দুটি আজ প্রায় নিথর ও অকার্যকর হয়ে পড়ে আছে। এলাকার নাগরিক সুবিধা থেকে আপনারা প্রতিনিয়ত বঞ্চিত হচ্ছেন।

​আমি আপনাদের সন্তান, আপনাদেরই ঘরের ছেলে। দীর্ঘ ৩ মাস ধরে পৌরসভার প্রতিটি অলিগলিতে গিয়ে আমি মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা শুনেছি। আজ আপনাদের সম্মুখে দাঁড়িয়ে ওয়াদা করছি—আপনারা যদি আপনাদের মূল্যবান ভোট ও ভালোবাসা দিয়ে আমাকে পৌরসেবার সুযোগ দেন, তবে এই ৪নং ওয়ার্ডের প্রবেশদ্বার ও বাস টার্মিনালকে পুনরুজ্জীবিত করে আধুনিক, দৃষ্টিনন্দন ও পূর্ণাঙ্গ কার্যকর করে তুলব, ইনশাআল্লাহ।

​আমি মেয়র হতে আসিনি, এসেছি আপনাদের সেবক হতে। আসুন, সবাই মিলে আমাদের এই প্রিয় বেনাপোলকে একটি উন্নত, পরিচ্ছন্ন, মাদকমুক্ত ও ডিজিটাল পৌরসভা হিসেবে গড়ে তুলি।

​প্রথম দিনের প্রচারণায় আপনারা আমাকে যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তার ঋণ আমি কোনোদিন শোধ করতে পারব না। আপনাদের দোয়া, সমর্থন ও ভালোবাসা সাথে নিয়ে আমি সামনের দিকে এগিয়ে যেতে চাই। আগামী নির্বাচনে আপনাদের মূল্যবান ভোটটি দিয়ে আমাকে সেবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি।

মন্তব্য লিখুন

আরও খবর