আওয়ামী লীগের দুর্গ দখলে মরিয়া বিএনপি: নাসিরনগরে ছয় রাজনৈতিক দল মনোনয়নপ্রত্যাশীর আনাগোনা

প্রকাশিত: ৯:৫২ পূর্বাহ্ণ , ৩১ জুলাই ২০২৫, বৃহস্পতিবার , পোষ্ট করা হয়েছে 10 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

আমিনুল ইসলাম আহাদঃ পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের অন্যতম শক্তিশালী ঘাঁটি হিসেবে খ্যাত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসন দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে বিএনপি। একসময়ের জাতীয় পার্টির দুর্গ ও বর্তমানে আওয়ামী লীগের নিরাপদ আসন হিসেবে পরিচিত নাসিরনগরে এবার বিএনপি থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে অন্তত ছয়জন মাঠে নেমেছেন।

সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এ উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নে ইতোমধ্যে রমজান মাস থেকেই চলছে মিছিল-মিটিং, কর্মী সমাবেশ ও উঠান বৈঠকের তোড়জোড়। স্থানীয় নেতাকর্মীদের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মনোনয়নপ্রত্যাশীদের মধ্যে এগিয়ে রয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ হান্নান এবং জেলা বিএনপির সহসভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে এম কামরুজ্জামান মামুন।

মনোনয়নপ্রত্যাশী বিএনপি নেতারা হলেন:

অ্যাডভোকেট এ কে এম কামরুজ্জামান মামুন: জেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং জেলা বারের সাবেক দুইবারের সভাপতি।

মোঃ সফিকুল ইসলাম (এল.এল.বি): জেলা বিএনপির সাংস্কৃতিক সম্পাদক।

এম এ হান্নান: উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং গোকর্ণ ইউনিয়নের দুইবারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান।

অ্যাডভোকেট আলী আজম চৌধুরী: উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও অতিরিক্ত পিপি।

প্রিন্সিপাল এম এ মনায়েম: সাবেক ছাত্রনেতা, লেখক, সাংবাদিক ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি।

ডাঃ চৌধুরী সামসুল হক কিবরিয়া: জেলা বিএনপির পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক।

তবে বিএনপি এখনো অভ্যন্তরীণ বিভক্তির সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি। একদিকে রয়েছেন এম এ হান্নান ও আলী আজম চৌধুরী, অন্যদিকে আছেন এ কে এম কামরুজ্জামান মামুন ও সাধারণ সম্পাদক কে এম বশীর উদ্দিন তুহিন। এই দ্বন্দ্বের কারণে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছেন বলে জানা গেছে।

এছাড়া বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা আলহাজ্ব সৈয়দ একরামুজ্জামানও ফের দলে ফেরার চেষ্টা করছেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাডভোকেট মামুন বলেন, “দল থেকে বহিষ্কৃত নেতাকে মনোনয়ন দিলে বিএনপি দেউলিয়া হয়ে যাবে। তৃণমূলের কেউ তা মেনে নেবে না।”

অন্যান্য দলের প্রার্থী ও তৎপরতা

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশ: মাওলানা সাইফুল্লাহ বিন আনসারীকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি): প্রার্থী হিসেবে নাম শোনা না গেলেও মোঃ আসাদুজ্জামান খোকন মাঠে সক্রিয়।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী: সাবেক অধ্যক্ষ ও উপজেলা আমীর এ কে এম আমিনুল ইসলামকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি: নির্বাহী সভাপতি মাওলানা এ কে এম আশরাফুল হককে মনোনীত করেছে। তিনি জাতীয়তাবাদী ও ইসলামী শক্তির ঐক্যের পক্ষে জোরালো বক্তব্য দিয়েছেন।

জাতীয় পার্টি (জাপা): সম্ভাব্য প্রার্থী শাহানুল করিম সেলিম।

বিজেপি: সম্ভাব্য প্রার্থী ফায়জুর রহমান।

ইসলামিক ঐক্য ফ্রন্ট: কাজী এডভোকেট ইসলাম উদ্দিন দুলাল মনোনয়ন পেলে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

আসনের ইতিহাস নাসিরনগর থেকে স্বাধীনতার পর বিএনপি কোনোবারই জয়ী হতে পারেনি। ১৯৭০ সালে মোঃ মোজাম্মেল হক কাপ্তান মিয়া গণপরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন এবং পরে দুইবার জাতীয় পার্টি থেকে এমপি হন।

এরপর সৈয়দ মোশাররফ কামাল (জাপা), এস এম সাফি মাহমুদ স্বল্প সময়ের জন্য এমপি হন। ২০০১ সাল থেকে আওয়ামী লীগ এ আসনটি ধরে রেখেছে। সর্বশেষ ফরহাদ হোসেন সংগ্রাম শেখ হাসিনার শাসনামলে এমপি ছিলেন।

আওয়ামী লীগের নিরাপদ ঘাঁটিতে পরিণত হওয়া নাসিরনগরে বিএনপির এই পুনর্দখলের প্রচেষ্টা কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করছে দলীয় ঐক্য, জনসম্পৃক্ততা এবং নির্বাচনী কৌশলের ওপর। এ আসনের রাজনীতিতে ইসলামী দলগুলোরও সক্রিয় অংশগ্রহণ নির্বাচনের চেহারা পাল্টে দিতে পারে।