
মো. তাসলিম উদ্দিন সরাইল(ব্রাহ্মণবাড়িয়া): ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরাইলে রমজানে ফলের বাজারে দাম এখনো ঊর্ধ্বমুখী। রোজার এগারো দিনে এসেও তরমুজ কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ কলা, মাল্টা, কমলা, আঙ্গুর, আপেলসহ সব ধরণের ফলই বিক্রি হচ্ছে বেশ চড়া দামে।
এতে করে ইফতার আয়োজন করতে গিয়ে বাড়তি খরচের চাপে পড়ছেন সাধারণ ক্রেতারা, বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো।
সোমবার ( ১ মার্চ) সরাইল উপজেলার সদর, অরুয়াইল, শাহবাজপুরসহ আশপাশের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, রোজাকে কেন্দ্র করে স্থায়ী দোকানগুলোর পাশাপাশি বিভিন্ন জায়গায় বসেছে অস্থায়ী ফলের দোকান৷ তবে সব খুচরা দোকানগুলোতেই ফলের দাম বাড়তি।
দেশি ফলের মধ্যে কলার দাম ডজনপ্রতি ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে চাঁপা কলা প্রতি ডজন ১০০ টাকা, সবরি কলা ২৪০ থেকে ২৫০ টাকা এবং বাংলা কলা ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেয়ারা আকারভেদে ১০০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি এবং আনারস প্রতি পিস ৪০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।বিদেশি ফলের বাজারও বেশ চড়া।
রোজায় বেশি চাহিদার মাল্টা ও আপেলের দাম উল্লেখ যোগ্যভাবে বেড়েছে। মাল্টা বর্তমানে ৩১০ থেকে ৩৪০ টাকা কেজি এবং আপেল ৩৩০ থেকে ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আঙুরের দাম আরও বেশি, সবুজ আঙুর ৪২০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং কালো আঙুর প্রায় ৫৫০ টাকা কেজি।
খেজুরের বাজারও অস্থির, মানভেদে প্রতি কেজি ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।এদিকে, রমজান ঘিরে আগাম তরমুজের বাজারও চড়া। মৌসুম পুরোপুরি শুরু না হলেও বাজারে আসা তরমুজ আকার ও মানভেদে কেজিপ্রতি ৭০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ছোট আকারের তরমুজ তুলনামূলক কম দামে মিললেও মাঝারি ও বড় আকারের তরমুজের দাম বেশি চাওয়া হচ্ছে।বিক্রেতারা বলছেন, সরবরাহ এখনও সীমিত থাকায় আগাম বাজারে দাম কিছুটা চড়া রয়েছে, তবে মৌসুম পুরোদমে শুরু হলে দাম কিছুটা কমতে পারে।তবে শুধু ফল নয়, ইফতার সংশ্লিষ্ট সবজির দামও বেড়েছে।
লেবুর দাম কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে দ্বিগুণ হয়ে সাধারণ মানের লেবু ৬০ থেকে ৮০ টাকা হালি এবং বড় লেবু ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বেগুন কেজিতে ১০০ থেকে ১৪০ টাকা এবং দেশি শসা ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন,আড়ত থেকে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। ফল বিক্রেতা জসিম হোসেন বলেন, তরমুজের মৌসুম এখনো পুরোপুরি শুরু হয়নি, সরবরাহ কম থাকায় আগাম তরমুজের দাম কিছুটা বেশি।
তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দাম স্বাভাবিক হওয়ার আশা আছে। আর অন্যান্য ফলের দাম রোজার আগে থেকে বেশি। রোজার মাস জুড়েই দাম বাড়তি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।অন্যদিকে ক্রেতারা বলছেন, রমজান এলেই পণ্যের দাম বেড়ে যায়, যা এখন প্রায় নিয়মে পরিণত হয়েছে।
এক সপ্তাহের ব্যবধানে অনেক ফলের দাম কেজিতে ৫০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে বলে অভিযোগ তাদের। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ইফতারের প্রয়োজনীয় ফল কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। প্রবাসী রফিকুল বলেন, গত সপ্তাহে তরমুজ কেজিতে ৫০ টাকা ছিল, আজ কিনতে হচ্ছে ৮০ টাকা।
রমজানের শুরুতেই দাম হঠাৎ করে বেড়েছে। বিদেশ থেকে আসলাম কয়েকদিন হলো কিন্তু বাজারে রমজানে দাম আর ঠিক পাইলাম না। এমন অবস্থায় সাধারণ মানুষের জন্য ফল কেনা কষ্টকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
গৃহপরিচারিকা থেকে প্রতিমন্ত্রী হলেন কলিতা
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের আমন্ত্রণে বিরল...
উত্তর কোরিয়া যাচ্ছেন শি জিনপিং, কিমের...
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
তাপপ্রবাহে পুড়ছে ১৭ অঞ্চল, সপ্তাহজুড়ে ঝড়-বৃষ্টির...
লাইভে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা দিয়ে পুলিশ বাবাকে ‘মিথ্যাবাদী’...
লাইভে প্রেমিকের সঙ্গে দেখা দিয়ে পুলিশ...
এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ ৩৫ হাজার
এক ভরি সোনার দাম ২ লাখ...
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফের পদ্মায় ডুবলো বাস, চালক-হেলপার উদ্ধার
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফের পদ্মায় ডুবলো বাস,...