খাগড়াছড়িতে এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা প্রত্যাহারের দাবি

প্রকাশিত: ১১:১০ পূর্বাহ্ণ , ২৬ আগস্ট ২০২৫, মঙ্গলবার , পোষ্ট করা হয়েছে 9 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

খাগড়াছড়ি জেলার জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নেতাদের বিরুদ্ধে দায়ের করা একাধিক মামলাকে ভিত্তিহীন ও হয়রানিমূলক আখ্যা দিয়ে এসব মামলা অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে দলটির জেলা শাখা।

মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) জেলা প্রশাসক এ বি এম ইফতেখারুল ইসলাম খন্দকার এর কাছে এ সংক্রান্ত একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন এনসিপি নেতারা।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে বিএনপির পক্ষ থেকে খাগড়াছড়ি জেলা এনসিপি নেতাদের বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর মডেল থানায় জি.আর-৬৯/২৫, মামলা নং-০৪, তারিখ ১০ আগস্ট ২০২৫ ইং দাখিল করা হয়।

ওই মামলায় জেলা এনসিপির সংগঠক শাহ নেওয়াজকে ১৪ নম্বর আসামি, সংগঠক রাহাত হোসেন বেলালের বাবাকে ১৫ নম্বর আসামি এবং রাহাত হোসেন বেলালকে ১৬ নম্বর আসামি করা হয়েছে।

এনসিপি নেতারা অভিযোগ করেন, কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাদেরকে “আওয়ামী লীগ ট্যাগ” দিয়ে মামলায় জড়ানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও প্রতারণামূলক।

তারা দাবি করেন, গত ছয় মাস ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন এনসিপি নেতারা। জুলাই অভ্যুত্থানসহ নানা আন্দোলনে তারা সামনের সারির কর্মী হিসেবে ভূমিকা রেখেছেন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানির নগ্ন উদাহরণ, যা সাধারণ রাজনৈতিক কর্মীদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করছে এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ ব্যাহত করছে।

এনসিপির পক্ষ থেকে তিন দফা দাবি উত্থাপন করা হয়—

১. সদর থানার মামলায় (জি.আর-৬৯/২৫) ১৪, ১৫ ও ১৬ নম্বর নির্দোষ আসামির নাম তদন্তপূর্বক অবিলম্বে প্রত্যাহার।

২. রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে এনসিপি নেতৃবৃন্দ ও তাদের পরিবার যেন হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।

৩. ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে থানায় রেকর্ডকৃত অভিযোগ আগে যাচাই-বাছাই করা এবং মিথ্যা প্রমাণিত হলে অভিযোগকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন— এনসিপি জেলা সংগঠক বিপ্লব ত্রিপুরা, আব্দুর রহমান ছায়াদ, শুভোধ চাকমা (শুভ), আকলিমা আক্তার, রবিউল জিহাদ, থুইচিং মারমা, নিরুপন চাকমা, সোহেল ত্রিপুরা (যুব উইং), ইসমাইল হোসেন মিঠু, কৃষ্ণায়ন ত্রিপুরা, জুয়েল চাকমা, নুসরাত ও রাকিব।

এনসিপি নেতারা জানান, স্মারকলিপির অনুলিপি খাগড়াছড়ি রিজিওন কমান্ডার, জেলা পুলিশ সুপার, জোন কমান্ডার এবং সদর থানার অফিসার ইনচার্জের কাছেও হস্তান্তর করা হবে।