পার্বত্য চুক্তির ২৭ বছর পূর্তিতে

খাগড়াছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত: ১২:৩৪ অপরাহ্ণ , ২ ডিসেম্বর ২০২৪, সোমবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 years আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন

পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির ২৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশের সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ধারাসমূহ সংশোধন করে চুক্তির পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানিয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ।

সোমবার (২ ডিসেম্বর, ২০২৪) খাগড়াছড়ি জেলা শহরের মহাজন পাড়াস্থ এফ এন এফ রেস্টুরেন্টে সকাল সাড়ে ১১টায় এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন নাগরিক পরিষদের জেলা কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মুহা. লোকমান হোসাইন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ার লোকমান হোসাইন বলেন, “পার্বত্য চুক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার আশার আলো জ্বালানো হলেও আজও পাহাড়ে অস্ত্রের মহড়া, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম চলমান। চুক্তির কিছু ধারার বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে রিট হয়েছে এবং এগুলো সাংবিধানিকভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের সংবিধান যেমন সময় ও প্রয়োজনের দাবিতে ১৬ বার সংশোধিত হয়েছে, তেমনই পার্বত্য চুক্তির সাংঘর্ষিক ধারাগুলোকেও সংশোধন করা প্রয়োজন। সংবিধানের বাইরে কোনো চুক্তি বা আইন থাকতে পারে না। তাই আমরা চুক্তির পুনর্মূল্যায়নের দাবি জানাচ্ছি।”

তিনি লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন, “সরকার চুক্তির অধিকাংশ ধারা বাস্তবায়ন করেছে বলে দাবি করলেও, বাস্তবে পাহাড়ের সশস্ত্র গ্রুপগুলোর মধ্যে দ্বন্দ্ব, চাঁদাবাজি এবং উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা রয়ে গেছে। স্থানীয় জনগণের ওপর আর্থিক চাপ এবং সামাজিক বৈষম্য নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।”

নাগরিক পরিষদ পাহাড়ে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং চুক্তির পরে প্রত্যাহারকৃত নিরাপত্তা বাহিনীর ক্যাম্প পুনঃস্থাপনের জোর দাবি জানিয়েছে। এছাড়া আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান সন্তু লারমাকে অপসারণেরও দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আনিসুজ্জামান, জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক এস এম মাসুম রানা, পার্বত্য যুব পরিষদের সভাপতি মো. আসাদ উল্ল্যাহ, মহিলা পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি সালমা আহমেদ এবং অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলের উন্নয়নে ব্যাপক অর্থ বরাদ্দ হলেও সশস্ত্র গ্রুপগুলোর কারণে এ উন্নয়ন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হচ্ছে না। পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠায় প্রয়োজন সবার সাংবিধানিক অধিকার নিশ্চিত করা।”

নাগরিক পরিষদ সরকারকে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সংবিধানের সাথে সাংঘর্ষিক ধারা সংশোধন, সশস্ত্র গ্রুপের কার্যক্রম বন্ধ এবং নিরাপত্তা জোরদার করলেই পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে।”