• চট্রগ্রাম শীর্ষ সংবাদ
  • বিঝু-সাংগ্রাই-বৈসু একাল-সেকাল: নতুন প্রজন্মের ভাবনা নিয়ে খাগড়াছড়িতে আলোচনা ও কবিতা পাঠ

বিঝু-সাংগ্রাই-বৈসু একাল-সেকাল: নতুন প্রজন্মের ভাবনা নিয়ে খাগড়াছড়িতে আলোচনা ও কবিতা পাঠ

প্রকাশিত: ১০:৫৫ পূর্বাহ্ণ , ৩ এপ্রিল ২০২৬, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বর্ষবরণ উৎসব বিঝু-সাংগ্রাই-বৈসুকে কেন্দ্র করে ‘একাল-সেকাল: নতুন প্রজন্মের ভাবনা’ শীর্ষক আলোচনা ও কবিতা পাঠ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল ২০২৬) সকাল ১০টায় খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের নতুন ভবনের সম্মেলন কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সিএইচটি রাইটার্স ইউনিয়ন, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার উদ্যোগে এবং খাগড়াছড়ি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় অনুষ্ঠানে পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর লেখক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

উন্নয়নকর্মী জ্ঞানদর্শী চাকমার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কবি ও লেখক আর্য্য মিত্র চাকমা। তিনি বলেন, “বিজু শুধু আনন্দ-উৎসব নয়, এটি শিকড়ের সন্ধান করার একটি উপলক্ষ।” তিনি আরও বলেন, একাল ও সেকালে বৈসু, সাংগ্রাই ও বিজু উদযাপনের পার্থক্য অনুধাবনের মধ্য দিয়ে এর গভীর তাৎপর্য বোঝা সম্ভব।

বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক ও গবেষক প্রভাংশু ত্রিপুরা বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের বর্ষবরণ উৎসবগুলো কেবল আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ নয়; বরং এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে শতাব্দীপ্রাচীন জীবনদর্শন ও প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের নিবিড় সম্পর্ক। তিনি নতুন প্রজন্মকে এসব উৎসবের অন্তর্নিহিত চেতনাকে ধারণ করার আহ্বান জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রাম লেখক ফোরামের সাবেক সভাপতি অংসুই মারমা বলেন, সাংগ্রাই মারমা জনগোষ্ঠীর জন্য আধ্যাত্মিক নবায়নের প্রতীক। আধুনিকতার প্রভাবে উৎসবের বাহ্যিক রূপ পরিবর্তিত হলেও এর মূল চেতনা সংরক্ষণে সকলকে সচেতন থাকতে হবে।

খাগড়াছড়ি সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিষদের সদস্য উক্য মং চৌধুরী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সংস্কৃতি সংরক্ষণে কাজ করছে এবং এ ধরনের আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছে নিজেদের ঐতিহ্য তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মাইসছড়ি কলেজের অধ্যক্ষ ও ইনস্টিটিউটের নির্বাহী পরিষদের সদস্য অভিধা চাকমা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই সংস্কৃতি চর্চার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়বে।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা বিঝু-বৈসু-সাংগ্রাই উৎসবকে কেন্দ্র করে নিজেদের লেখা কবিতা আবৃত্তি করেন, যা পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলে।