রামগড়ে সিএনজি পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া, ভোগান্তিতে সাধারণ যাত্রী

প্রকাশিত: ১২:১০ অপরাহ্ণ , ২৭ মার্চ ২০২৬, শুক্রবার , পোষ্ট করা হয়েছে 2 months আগে
ছবি- সময়ের আবর্তন।

মো.মাসুদ রানা, রামগড় (খাগড়াছড়ি): খাগড়াছড়ির রামগড় – বাবৈয়ারহাট আঞ্চরিক সড়কপত্রে চলাচলকারী সিএনজি পরিবহন যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনা ক্রমেই উদ্বেগজনক আকার ধারণ করেছে। নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। এ পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগীরা স্থানীয় পর্যায়ে কার্যকর প্রতিকার ও নজরদারীর দাবি জানিয়েছেন।

আজ শুক্রবার (২৭ মার্চ ২০২৬) দুপুরে রামগড় বাজার সিএনজি ষ্টেশন এলাকায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সিনজি পরিবহনের নির্ধারিত ভাড়া উপেক্ষা করে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। নির্ধারিত ভাড়া ১১০ টাকার পরিবর্তে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।

ভুক্তভোগী যাত্রী করিম জানান, আমি নিজেও দুই ঘন্ট অপেক্ষা করার পর মহিন্দ্র পরিবহন করে বারৈয়ারহাট চলে যাই। মাহিন্দ্র এবং বাসের ভাড়া ঠিক আছে। দীর্ঘদিন ধরে একটা ধরনের অনিয়ম চললে ও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। এতে প্রতিদিন বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

সিএনজি পরিবহন চালকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঈদ উপলক্ষ্যে আমরা ১০/২০ টাকা বাড়তি নিয়েছি কিন্তু বর্তমানে নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। ১৫০/২০০ টাকা ভাড়া কোন যাত্রী থেকে নেওয়া হচ্ছে না।

রামগড় সিএনজি মালিক সমিতির লাইনম্যান জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়নি এবং নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের কোনো অনুমোদন নেই। অতিরিক্ত ভাড়া নিলে আমরা উপযুক্ত প্রমাণ সাপেক্ষে চালকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত।

এ বিষয়ে রামগড় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী শামীম জানান, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ভাড়া মনিটরিং এর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে।

রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ মো.নাজির আলম জানান, সিনজি পরিবহন যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া অতিরিক্ত নেওয়ার ব্যাপরাটা আমি শুনেছি । আমি বাজারে এসে নিজেই এর মনিটরিং করছি এবং সিনজি চালকদের নির্দেশ দিয়েছি যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়া গ্রহণ করার জন্য অতিরিক্ত ভাড়া যাতে না নেয়।

এদিকে সচেতন মহল মনে করছেন, এ সমস্যা সমাধানে স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি। অন্যথায় সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে।