
শাহরিয়ার মিল্টন , শেরপুর : সোনালি আঁশে সুদিন ফিরছে শেরপুরে। পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন চাষিরা। কাঙ্ক্ষিত দাম পাওয়ার আশায় মাঠে চাষিদের ব্যস্ততা বেড়েছে। চাষিরা কোথাও পাট কাটছেন, কোথাও আঁটি বেঁধে পানিতে জাগ দিচ্ছেন, আবার কেউ কেউ জাগ দেয়া পাটের আশঁ ছাড়াতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
এছাড়া জলাশয়ের পাশে খাটানো বাঁশ ও বিভিন্ন কাঠের আড়ায় পাটের আঁশ ছাড়িয়ে শুকানো ও পাটকাঠি সংগ্রহের কাজ করছেন কৃষক-কৃষাণীরা।
কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়ার কারণে পাটের অধিক উৎপাদনে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। এক যুগ আগেও জেলায় পাট চাষির সংখ্যা ছিল অনেক কম। বর্তমানে হেক্টর প্রতি পাটের গড় উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ায় চলতি বছর বেড়েছে পাট চাষির সংখ্যা। চলতি বছর ১ হাজার ৯১১ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে পাটের আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৯১২ হেক্টর জমিতে।
এসব জমি থেকে ৪ হাজার ১৫ মেট্রিক টন পাট উৎপাদন হবে। ইতোমধ্যে জেলায় ৯০ শতাংশ জমির পাট কাটা শেষ হয়েছে। যেখানে বিঘা প্রতি পাটের গড় ফলন ১০ থেকে ১২ মণ। চাষিরা বলছেন, বিঘা প্রতি পাট চাষে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হয় এবং মুনাফা থাকে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা। এছাড়া প্রতি পাটখড়ির আঁটি ৮০ থেকে ১শ’ টাকা দরে বিক্রি করে বাড়তি আয় হচ্ছে।
এদিকে, জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে পাটের কেনাবেচা জমে উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চাষিদের কাছ থেকে পাট কিনছেন । পরে এসব পাট যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। বাজারে পাটের চাহিদা থাকায় উৎপাদিত পাটের ন্যায্য মূল্য নিয়ে আশাবাদী কৃষি বিভাগ।
তবে চাষিরা জানান, সিন্ডিকেট করে মধ্যস্বত্বভোগী ও ব্যবসায়ীরা যেন পাটের দাম কমাতে না পারে সেদিকে সরকারের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। তা না হলে একদিকে যেমন কৃষকদের পাট চাষে আগ্রহ কমবে। অন্যদিকে পাটের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হবেন পাট চাষিরা। শেরপুর সদর উপজেলার কামারেরচরের সাহাব্দির চরের পাটচাষি কাদের মিয়া বলেন, এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পাটের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। রোগবালাইও তুলনামূলক অনেক কম ছিল।
এছাড়া প্রতি বিঘায় আগের বছরের চেয়ে বেশি পাটের উৎপাদন পেয়েছি। বাজারে ন্যায্য দাম পেলে এ বছর আমরা বেশ লাভবান হতে পারব। সদর উপজেলার চরমোচারিয়া ইউনিয়নের মুন্সিরচর গ্রামের পাটচাষি সাইদুর রহমান বলেন, পাট চাষে এবার ফলন যেমন ভালো হয়েছে, তেমনি পাটের আঁশের মানও ভালো হয়েছে। সময়মতো বৃষ্টি পাওয়ায় সেচ খরচও কমেছে।
তবে উৎপাদন খরচের তুলনায় ন্যায্য দাম নিশ্চিত হলে চাষিরা আগামীতে পাট চাষে বেশি আগ্রহী হবেন। এজন্য সরকার ও কৃষি বিভাগের সহযোগিতা প্রয়োজন। শেরপুরের চরশেরপুর ইউনিয়নের বাঘেরচর গ্রামের পাটচাষি া মো. কামারুজ্জামান লাল মিয়া বলেন, আমি প্রতিবছরই পাট চাষ করে থাকি। এবছর জেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে সর্বোচ্চ মানের পাট ৪৫০০ টাকা মণ আর মোটামুটি মানের পাটগুলো ৩৯০০ থেকে ৪১০০ টাকা মণ দরে কেনাবেচা হচ্ছে ।
এ বিষয়ে শেরপুর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসলিমা খানম নীলু বলেন, চলতি বছর পাটের চাষ বৃদ্ধিতে জেলা পাট অধিদপ্তর থেকে প্রায় ৮ হাজার কৃষকের মাঝে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ১ কেজি করে পাট বীজ প্রদান করা হয়েছিল।
তিনি আরো বলেন, পরিবেশ বান্ধব বলে বাংলাদেশে পাটের বহুমুখী ব্যবহার দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে দেশে ও বিদেশে পাটের চাহিদা বাড়ছে। বাড়তি মূল্য পাওয়ার কারণে কৃষকরা লাভবান হচ্ছেন এবং পাট চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
মন্তব্য লিখুন
আরও খবর
শেরপুরের বনভূমিকে বন্যহাতির নিরাপদ আবাস-’ল হিসেবে গড়ে তোলার...
শেরপুরের বনভূমিকে বন্যহাতির নিরাপদ আবাস-’ল হিসেবে...
জয়পুরহাটে সনাতন ধর্মের শ্রমিকদের মাঝে পূজার উপহার বিতরণ
জয়পুরহাটে সনাতন ধর্মের শ্রমিকদের মাঝে পূজার...
রাতের আঁধারে জবাই করা গরু ভ্যানে পরিবহন! ক্ষেতলালে...
রাতের আঁধারে জবাই করা গরু ভ্যানে...
শিক্ষাবান্ধব ও সমাজসেবক ইমদাদের উপর আস্থা পৌরবাসীর
শিক্ষাবান্ধব ও সমাজসেবক ইমদাদের উপর আস্থা...
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ও যুব উন্নয়নের পরীক্ষা স্থগিত
প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ও যুব উন্নয়নের পরীক্ষা...
চাঁদ দেখা কমিটির সভা রোববার
চাঁদ দেখা কমিটির সভা রোববার